ব্রেট লি-শোয়েব আখতার নয়, মাশরাফির চাই শুধু মুস্তাফিজকে

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় লন্ডনের বুপা ক্রোমওয়েল হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের কাঁধের অস্ত্রোপচার। সফলভাবে অস্ত্রোপচার সমাপ্ত হলেও, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে অন্তত পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে কাটার মাস্টারের। তাই বছরের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড সফরে যদিও বা তার ফেরার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই তাকে সাইডলাইন থেকে দেখতে হবে ইংল্যান্ড সিরিজের ম্যাচগুলো।

image

Advertisment

মুস্তাফিজের মত একজন খেলোয়াড়কে দলে না পাওয়া প্রকৃতপক্ষেই বড় ধাক্কা। তাই সঙ্গত কারণেই মনে প্রশ্ন জাগে, মুস্তাফিজকে কতটা মিস করবেন বাংলাদেশ দলের সীমিত ওভারের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা? মিস যে করবেন তা তো জানা কথাই, কিন্তু মাশরাফি সাথে এও যোগ করলেন যে মুস্তাফিজের অনুপস্থিতি হবে এতটাই পীড়াদায়ক যে ব্রেট লি বা শোয়েব আখতারদের মত গ্রেটরা এলেও মুস্তাফিজের না থাকার ক্ষতি পূরণ হবে না।

“অনেক মিস করব। ওর মতো বোলারকে একটা সিরিজও না পাওয়া মানে… ম্যাচের কিছু মুহূর্ত আসে যখন শোয়েব আখতার, ব্রেট লি এলেও আমার লাভ নাই। আমার লাগবে মুস্তাফিজকে। ওকে নিয়ে আমি এতটাই নিশ্চিত থাকি। মিস তো করবই,” বিডিনিউজ২৪-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান মাশরাফি।

তবে মুস্তাফিজ নেই বলে যে মাশরাফি একেবারে ভেঙে পড়েছেন এমনটাও নয়। বরং প্রকৃত অধিনায়কের মত দলের বাকিদের উপরই সম্পূর্ণ আস্থাশীল থাকার কথার জানালেন নড়াইল এক্সপ্রেস।  “তবে বাকি যারা আছে, সবাই ভালো। রুবেল ফিরছে, তাসকিন ক্লিয়ার হয়ে ফিরব আশা করি। আল আমিন আছে। ব্যাক আপ আছে। ওদের প্রতিও আস্থা আছে।”

ধারণা করা হচ্ছে, ‘নতুন কিছু একটা’ করার চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়েছে মুস্তাফিজের জন্য। জানা গেছে, ভেতরে ঢোকা বল নিয়ে (ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য) কাজ করতে গিয়েই মুস্তাফিজের এই চোট বেড়েছে। তবে কি সুস্থ হয়ে ফেরার পর পুনরায় এধরণের চেষ্টা করা সম্পূর্ণ বারণ মুস্তাফিজের জন্য?

অন্যরা যে যাই বলুক, মাশরাফির প্রেসক্রিপশন কিন্তু ভিন্ন কথাই বলছে, “অবশ্যই না। কাজ করে যেতে হবে। ভেতরে ঢোকা বল না শিখলে টেস্টে মুস্তাফিজ কার্যকর হবে না। ওকে টেস্ট ক্রিকেটে আরও ওপরে যেতে হবে, ওয়াসিম আকরামের লেভেলে যেতে হবে। কাজেই আরও অনেক কিছু শিখতে হবে। ইনজুরি হবে কি না হবে, সেই ভয় রাখলে চলবে না। আমি আশা করি, চোট কাটিয়ে প্রথম যে দিন নেটে বল করবে মুস্তাফিজ, প্রথম ডেলিভারিটাই ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করবে। এভাবেই ভয়কে জয় করতে হয়।”

ভয়কে জয় করার মন্ত্র দেয়ার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বিদেশী লিগ খেলার ব্যাপারে মুস্তাফিজকে আরেকটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়ারও পরামর্শ দিলেন মাশরাফি। “আমি কিন্তু শুরু থেকেই বলছি, মুস্তাফিজকে ঠিক করতে হবে কোনটা খেলবে, কোনটা নয়। বেশি খেলে ফেলেছে মানে কিন্তু কাউকে দোষ দিচ্ছি না। ব্যপারটা হলো, ওর মতো একটা সম্পদ পাওয়া খুব বিরল। ওর ভেতর এই সামর্থ্য আছে যে আমাদের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট জেতাতে পারে। ক্রিকেট জাতি হিসেবে আমরা ভাগ্যবান যে ওর মতো একজন পেয়েছি।

“প্রথম কথা হলো, আমি চাইব সব কিছুর আগে ও বাংলাদেশের হয়ে খেলুক। বাংলাদেশের হয়ে যেন একটা ম্যাচও মিস না করে। তার পর অন্য কোনটা খেলবে না খেলবে, সেটা ঠিক করুক। আর্থিক ব্যাপার যেহেতু আছে, আইপিএল খেলবে। তারপর অন্যগুলোর মধ্যে বাছতে হবে।”

কাউন্টি ক্রিকেটের মর্যাদা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই মাশরাফির। তবে এ কথা জানাতেও ভুললেন না যে জাতীয় দলের হয়ে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় সম্মানের আর কিছুই হতে পারে না, এবং প্রকৃত গ্রেট হয়ে ওঠার চাবিকাঠিও ওইটিই।

“ওয়াসিম আকরাম কাউন্টিতে দারুণ করেছে, কিন্তু সে গ্রেট হয়েছে পাকিস্তানের হয়ে খেলে। ওয়াকার বা ম্যাকগ্রা বা ম্যালকম মার্শাল, সবাই দেশের হয়ে খেলেই গ্রেট। মুস্তাফিজকেও গ্রেট হতে হলে বাংলাদেশের হয়ে খেলেই হতে হবে। আমি সেটাই চাই। ওয়াসিম দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছে, ম্যাকগ্রা জিতিয়েছে, ব্রেট লি জিতিয়েছে, মুস্তাফিজও দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিক। ওর ভেতরে গ্রেটনেসের উপাদান আছে। আমাদের দল এখন অনেক ভালো, অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে। সঙ্গে মুস্তাফিজ থাকলে সবই সম্ভব।”

– জান্নাতুল নাঈম পিয়াল, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম