Score

ব্র্যাথওয়েটের অলরাউন্ড নৈপূণ্যে সেন্ট কিটসের বড় জয়

চলমান ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) পঞ্চম ম্যাচে এসে জয়ের ধারায় ফিরল সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪২ রানের ব্যবধানে হারিয়ে আসরের প্রথম জয় তুলে নিল ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন দলটি।

ব্র্যাথওয়েটের-অলরাউন্ড-নৈপূণ্যে-সেন্ট-কিটসের-বড়-জয়

প্রথমে ব্যাট করে ডেভন থমাসের অর্ধশতক (৫৯) ও কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের ২৫ বলের ঝড়ো ৪১ রানে চড়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে সেন্ট কিটসের করা ২৩ রানের জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ত্রিনবাগো ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৬১ রান যোগ করতে সক্ষম হলে নিশ্চিত হয়ে সেন্ট কিটসের এ জয়।

Also Read - থমাস, ব্র্যাথওয়েট ঝড়ে সেন্ট কিটসের বড় সংগ্রহ

বড় লক্ষ্যমাত্রায় খেলতে নেমে পাওয়ার-প্লের মধ্যে ৩৪ রান তুলতেই সুনিল নারাইন, ক্রিস লিন ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। যা ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তেই থাকে। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ১৭ বলের ঝড়ো ৩৫ রানের ইনিংস খেলে কলিন মানরো ব্র্যাথওয়েটের শিকারে পরিণত হলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

দলের বিপর্যয় সামাল দিতে উইকেট আগলে রেখে ড্যারেন ব্রাভো ধীরগতির ৩৮ বলের ৪১ রান করেন। ইনিংসের ১৬তম ওভারে দলীয় ১১৫ রানে তার আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকেন কেভিন কুপার। ২২ বল মোকাবেলায় ২ চার ও ৪ ছয়ে করেন অপরাজিত ৪২ রান। তবে তার তাণ্ডব ছড়ানো এমন ইনিংস পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি।

ম্যাচে সেন্ট কিটসের হয়ে সিপিএলে অভিষেক হওয়া রিয়াদ পাওয়ার প্লের ষষ্ঠ ওভারে বল করতে এসে ৫ রান দিলেও পরবর্তীতে তাকে আর বল করতে দেওয়া হয়নি। বাকি বোলারদের মধ্যে ব্র্যাথওয়েট, কাটিং লয়েস প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট লাভ করেন। তাছাড়া নেপালি লেগ-স্পিনার লামিচানে ও কটরেল পান একটি করে উইকেট।

এর আগে পোর্ট অব স্পেনে প্রতিপক্ষ শিবিরের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে এভিন লুইসের উইকেট হারানোর পর একই ওভারের পঞ্চম বলে টম কুপারকে আলী খান সাজঘরের পথ ধরালে প্রথম ওভারে ৩ রান তুলতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে সেন্ট কিটস।

দলের প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সেন্ট কিটসকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন দলনেতা গেইল ও থমাস। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইলে কুপারের ফাঁদে পড়ে গেইল আউট হন ১ চার ও ৩ ছয়ে ৩০ বলের ৩৫ রানের ইনিংস খেলে।

দলীয় ৬৯ রানে তিন উইকেট হারালেও রানের চাকা সচল রেখে খেলতে থাকেন থমাস। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সিপিএলের ইতিহাসের পাশাপাশি ৯ চার ও ১ ছয়ে পূর্ণ করেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হয়ে কিউই ব্যাটসম্যান ডেভেচিচ ব্যর্থ হলে ক্রিজে আসেন সেন্ট লুইসের হয়ে অভিষেক ম্যাচে খেলতে নামা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

প্রথম বল থেকেই রানের চাকা আরও বাড়িয়ে নিতে চেষ্টা চালাতে থাকেন তিনি। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানের ক্রিজে এসে থিতু হওয়ার আগেই সুনিল নারাইনের বলে দূর্ভাগ্যজনকভাবে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ৩৪ বলে দ্রুতগতির ৫৯ রান করা থমাস।

১২০ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটলেও পেছনের দিকে না তাকিয়ে নারাইনকে ডিপ মিড-উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ১৬তম ওভারের খেলা শুরু করেন রিয়াদ। একই ওভারে তুলে নেন একটি চারও। তবে শেষ পর্যন্ত নারাইনে পরাস্ত হয়ে শেষ বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরতে তাকেও। এতে থামে ১০ বলের রিয়াদের ১৬ রানের ছোট্ট ক্যামিও ইনিংসের।

তার বিদায়ের পর ম্যাচের বাকি দৃশ্যপটটা নিজেদের মতো করে সাজান কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও বেন কাটিং। ইনিংসের ১৮তম ওভারে দুজনে মিলে ব্রাভোকে ৪ ছক্কা হাঁকিয়ে ২৫ রান তুলে নেওয়ার পর ১৯তম ওভারে ১৯ রান তুলে নিয়ে দলকে ২০০ রানের মতো বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান।

তবে আলী খানের করা ২০তম ওভারের দূর্দান্ত বোলিংয়ের মাত্র ৭ রান আসলে স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০২ রানের পুঁজি পায় সেন্ট কিটস। শেষ ওভারে ১৫ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কার ৪১ রানের ক্যামিও খেলে ব্র্যাথওয়েট আউট হলেও শেষ পর্যন্ত ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন কাটিং।

ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বোলারদের মধ্যে আলী খান তিনটি ও নারাইন দুটি উইকেট লাভ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড-
সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস: ২০৩/৭ (২০ ওভার)
থমাস ৫৪, ব্র্যাথওয়েট ৪১, গেইল ৩৫, কাটিং ২৫*; আলী খান ২৩/৩।

ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স: ১৬১/৮ (২০ ওভার)
কুপার ৪২*, ব্রাভো ৪১, মানরো ৩৫; ব্র্যাথওয়েট ১৯/২।

ফলাফলঃ সেন্ট কিটস ৪২ রানে জয়ী।


আরও পড়ুনঃ পাপন কিংবা সাকিব নন, তারিখ জানাবেন হোয়ে

Related Articles

সিপিএলে ত্রিনবাগোর টানা দ্বিতীয় শিরোপা

ফাইনাল থেকে এক ম্যাচ দূরে রিয়াদের সেন্ট কিটস

সিপিএল ২০১৮ আসরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পারফরম্যান্স

নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে রিয়াদদের হার

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ ওভারে রিয়াদদের হার