আমি খুশি, অবশেষে দায়িত্ব পালন করছে ভারত- হার্শা ভোগলে

ঐতিহাসিক টেস্টকে সামনে রেখে দুই পক্ষে চলছে শেষ প্রস্তুতি। কোহলিরা দু’দিন ধরে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরাচ্ছেন। তবে গতকাল বাংলাদেশ দল অনুশীলন করেনি। পুরো দিন হোটেলে বিশ্রাম করেই কাটিয়েছেন মুশফিকরা। দু’দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে কিছুটা ক্লান্ত থাকায় গতকাল আর মাঠমুখো হয়নি বাংলাদেশ দল। তাই ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্ট নিয়ে অনেক আনন্দিত হার্শা ভোগলে।
এছাড়া ভারতকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, তাদের ভুল। ভোগলের মতে, এতদিনে নয় আরও আগেই বাংলাদেশকে সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল ভারতের। আর এতদিন পর যখন ডাকা হয়েছে, তখন বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বেশি টেস্ট খেলা উচিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত যে ভারত তাদের ঐতিহাসিক ভুল শুধরেছে এতেই খুশি ভোগলে।

 

২০১৬ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টি পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক মানেই হার্শা ভোগলে। সাবলীল উপস্থাপনার সঙ্গে শারীরিক ভঙ্গি দুটো মিলিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় দারুণ ক্রিকেট উপস্থাপকও ছিলেন তিনি। ভারতীয় ক্রীড়াবিষয়ক চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে চুক্তিও ছিল ভোগলের। যে কোনো টুর্নামেন্টে মূল সঞ্চালক হিসেবে ভোগলেকে ছাড়া অন্য কাউকে মানাচ্ছিল না যেন।

 

Also Read - অমর একুশে বইমেলায় মুস্তাফিজ


ঘটনা ২০১৬ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে, বাংলাদেশ দলের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ব্যাঙ্গালুরুতে ওই নাটকীয় ১ রানে হারা ম্যাচটির পর বাংলাদেশকে প্রশংসার বাণীতে ভেজানোই কাল হয় ভোগলের জন্য। স্টার স্পোর্টস বেঁকে বসে। ভোগলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।

 

 

এমনকি ভারতের বা আইসিসির টুর্নামেন্টে ব্রাত্য করা হয় তাকে। তাই ২০১৬ টি- টোয়েন্টির পর আর টিভি পর্দায় দেখা যায়নি এ ক্রিকেট বিশ্লেষককে। সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়নি তার কোনো কলামও। এতদিন পর আবার যখন ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি, তখন আবার ভোগলের সামনে সুযোগ এসেছে কিছু কথা বলার। গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশের পক্ষে মুখ খুললেন তিনি।

 

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৭ বছর পর প্রথম ভারত সফরে আছে বাংলাদেশ দল। মাত্র এক টেস্টের সিরিজ। ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমে ভোগলে তার কলামে লিখেন, ‘বাংলাদেশকে ঘরের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারত তাদের ঐতিহাসিক একটি ভুল শুধরেছে। বাংলাদেশ টেস্টে পথচলা শুরু করেছে ১৬ (১৭) বছর হলো। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ে দলটির সঙ্গে মাত্র আটটি টেস্ট খেলেছে ভারত, তাও সবকটি বাংলাদেশের মাটিতে। আমি জানি ক্রিকেট এবং অর্থ দুই ভাইয়ের মতো পাশাপাশি আছে। কিন্তু এর মানে তো এই নয় একটি টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া দলকে আপনি উপেক্ষা করে যাবেন। অবাক বিষয় হলো ভারতই বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু দলটির সঙ্গে টেস্ট খেলতে তাদের যত অনীহা।’

 

এক সময় ভারতকেও যে বাংলাদেশের মতো চাতক পাখির মতো বসে থাকতে হয়েছিল তা মনে করিয়ে দিলেন ভোগলে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম সফর পেতে ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০ বছর।

 

ইংল্যান্ডেও প্রথম সফরের জন্য অপেক্ষাটি ছিল ৮ বছরের, ‘বাংলাদেশের মতো অবস্থা হয়েছিল ভারতেরও। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৮ সালের মধ্যে একবারও অস্ট্রেলিয়া সফর করতে পারেনি ভারত। ওই সময়ের অনেক ক্রিকেটারকেই চিনি, যারা বিষয়টিকে ভালো নজরে দেখেন না। তবে দেখে ভালো লাগছে যে ভারত অবশেষে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।’

 

তবে দিনশেষে বাংলাদেশের লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন এ অভিজ্ঞ ক্রিকেট বিশ্লেষক। ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটির ফল কী হয়, সেটাও দেখবেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ দেখার অভিলাষ পোষণ করা

ভোগলে লিখেন, ‘আমি খুব আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে চেয়ে থাকব। দেখতে চাই, তারা ম্যাচটিকে কীভাবে নেয়। ভারতের মাটিতে খেলার চাপ মুশফিকরা সামলে উঠবে আশাকরি। এছাড়া দলটি গেল দেড় বছরে মাঠে শুধু পারফর্ম নয়, জয়ের জন্যই নামছে। এটা খুবই ভালো দিক। তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

  • মাকসুদুল হক, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম

আরও দেখুনঃ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে হাসির উপদেশ

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন