Scores

বড় ভাইয়ের আত্মত্যাগে আজকের মাহমুদুল হাসান

কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের গল্পটা প্রায় সকলেরই জানা। শচীনকে শচীন হিসেবে গড়ে তুলতে নিজেকে রীতিমত বিসর্জনই দিয়েছিলেন তার বড় ভাই। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে হিরো বনে যাওয়া ক্রিকেটার মাহামুদুল হাসান জয়ের গল্পটাও প্রায় একই রকম।

চাপের মুখে ক্রিজে নেমে যেমন ছিল মাহমুদুলের পরিকল্পনা

মাহামুদুল হাসান, যার ব্যাটে চড়েই প্রথমবারের মত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ দল। অনুজ এই ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। ডানহাতি এ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন বাইশ গজে ঠাণ্ডা মাথার খুনে ব্যাটিংয়ে। কিউইদের বিপক্ষে মাহমুদুলের অনবদ্য ইনিংসটির পর তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে হৈ-চৈ। এর পরেই উঠে এসেছে পেছনের গল্প।

Also Read - শনিবার বাংলাদেশে পা রাখবে জিম্বাবুয়ে


মাহমুদুলের থেকে প্রায় দশ বছরের বড় তার বড় ভাই রাশেদুল হাসান জুমন। এমবিএ শেষ করে এখনো বেকারের তালিকা থেকে নাম সরাতে পারেননি! এমন নয় চাকরি পাচ্ছেন না। আসলে ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান জয়ের যে তিনি ছায়াসঙ্গী। বিভিন্ন সময় চাকরির সুযোগ আসলেও সেগুলো ফিরিয়ে দেন জুমন। লক্ষ্য একটাই, ছোট ভাইকে গড়ে তুলতে হবে একজন বিরাট কোহলি অথবা একজন হাশিম আমলা হিসেবে।

সম্প্রতি ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহমুদুলের বড় ভাই জুমন তুলে ধরেছেন ছোট ভাইয়ের জন্য তার আত্মত্যগের গল্প। যেখানে জুমন বলেন, ‘এক কথায় বলতে পারেন আমি ওর ছায়াসঙ্গী। আমাকে ছাড়া ও এক পা হাঁটবে না। আমার স্বপ্ন মানে ওর স্বপ্ন। আমি ওকে বলেছি, ভাই তুই আমাদের স্বপ্ন পূরণ করবি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলবি। হাশিম আমলা, বিরাট কোহলিদের মতো হবি। যেন গোটা ক্রিকেট দুনিয়া তোকে রোল মডেল ভাবে।’

‘মাহমুদুল আমাদের কথার বাইরে যায় না। আমার মায়ের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। ম্যাচের আগে ভোরে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করে। তারপর মাঠে যাওয়ার আগেও আমাদের পরিবার থেকে কিছু জিনিস পালন করতে বলা হয়, সেগুলো করে যায়।’ সাথে আরও জানান তিনি।

নিজে প্রফেশনাল ক্রিকেটার না হলেও ক্রিকেট জ্ঞান নেহায়েত কম না জুমনের। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ের টোটকাটা বড় ভাই জুমনের কাছ থেকেই পান মাহমুদুল, ‘ও ম্যাচের আগের রাতে ফোন জমা দেওয়ার আগে আমার সঙ্গে কথা বলে। আমি ওকে সবসময় বলি, বাউন্ডারি মারার মানসিকতা আগে ত্যাগ করতে হবে। আগে তুই স্ট্রাইক রোটেট করে একটা জায়গায় যাবি। তারপর বাউন্ডারি মারার চিন্তা করবি।’

বড় ভাই জুমনের বিশ্বাস, নিজের আত্মত্যাগের মূল্য তিনি পাবেন। বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই প্রতিনিধিত্ব করবেন মাহমুদুল, ‘সৃষ্টিকর্তা ওর ভিতরে এমন একটা বুদ্ধি দিয়েছে যে টি-টোয়েন্টি খেললে কী রকম, ওয়ানডে বা টেস্ট খেললে কেমন ব্যাটিং করতে হবে সেটা ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে করতে পারে। ও পরিস্থিতি বুঝে সবকিছু করে।’

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
Tweet 20
fb-share-icon20

Related Articles

এই বিশ্বকাপ সাকিব-তামিমদের ‘প্রেরণা’ হিসেবে কাজ করবে

এতো বড় অভ্যর্থনা কল্পনাতেও ছিল না বিশ্বকাপজয়ী দলের

শরিফুলের বোলিং তোপে দিশেহারা কিউই যুবারা

অনূর্ধ্ব উনিশের সেরা দশ ব্যাটসম্যান, কোথায় এখন তারা?

ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ