Scores

ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকছে ফিফার নিয়মের ছোঁয়া

বিশ্বকাপের পর থেকে বদলে যাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রূপ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বেশিরভাগ সিরিজই হবে গুরুত্ববহ। অনেকটা ফিফার মডেলে চলবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুই ফরম্যাট টেস্ট ও ওয়ানডে। ওয়ানডে ফরম্যাটের বিশ্বকাপ হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল বৈশ্বিক আসর যেমনটা ফুটবলের বেলায় ফিফা বিশ্বকাপ।

ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকছে ফিফার নিয়মের ছোয়া

সাধারণত ফুটবল দলগুলোকে বিশ্বকাপের বাইরের চার বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২ বছরের মত খেলতে হয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও ২ বছর ক্লাব ফুটবলের বিরতিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। এছাড়া সারা বছর জুড়ে বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন লীগতো আছেই। ক্রিকেটেও পুরোপুরি এমনটা না হলেও এর মতোই কিছুটা পরিবর্তন শুরু হতে যাচ্ছে।

Also Read - 'আমরা আন্ডারডগ কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়'


২০১৯ বিশ্বকাপের আগে টেস্ট দলগুলোর বাছাইপর্ব খেলার দরকার পরতো না। টেস্ট দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতো। ২০১৯ বিশ্বকাপেও র‌্যাংকিংয়ের সেরা ৮ দল সরাসরি বিশ্বকাপ খেলে। তবে তাদের আগের রেটিং পয়েন্ট গুলো বহাল থাকায় কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই ৮ শীর্ষ ওয়ানডে দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলে। ২০২৩ বিশ্বকাপ থেকে বদলে যাবে বাছাইপর্বের নিয়ম। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে হবে সকল দলকেই, যেখানে থাকবেনা পূর্ববর্তী কোন রেটিং পয়েন্ট।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু হবে আগামী বছর মে মাস থেকে। ১৩টি দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপার লীগে অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি দল এই ২ বছরে ৮টি সিরিজে অংশগ্রহণ করবে। ৪টি হোম সিরিজ ও ৪টি সিরিজ দেশের বাইরে । এই ৮টি সিরিজের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে আয়োজক দেশ ছাড়া কোন ৭টি দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপার লীগ শেষ হবে ২০২২ সালের মার্চ মাসে।

বাছাইপর্বে বড় দল ছোট দল বলে কথা নেই। সবাইকে হারালে সমান পয়েন্ট পাওয়া যাবে। ১২টি টেস্ট দল ছাড়াও নেদারল্যান্ডস অংশগ্রহণ করবে এই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপার লীগে। স্বাগতিক ভারত সহ মোট ৮টি দল বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে। বাকি ৫টি দল যাবে র‌্যাংকিংয়ের নিচে থাকা দলগুলোর একই সময়ে চলা লীগ থেকে উঠে আসা দলগুলোর বিপক্ষে আরেক দফা বাছাইপর্বে। সেখান থেকে ২টি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে।

১৩ দলের ওয়ানডে লীগে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ হবে আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে।

ওয়ানডে লীগ হবে দুই বছরে। ওয়ানডে লীগের আগের ১ বছর ও ওয়ানডে লীগের পরের ১ বছর দলগুলো নিজেদের ইচ্ছামত ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করতে পারবে। তবে সেগুলোর প্রভাব বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পরবে না। যেমনটা ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইয়ে হয়ে থাকে। ফিফা বিশ্বকাপের বিভিন্ন অঞ্চলের বাছাইপর্ব ২ বছরে হয়ে থাকে গড়ে। বাছাইপর্বের বাইরেও দলগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি খেলে থাকে। তবে সেগুলোর প্রভাব শুধু র‌্যাংকিংয়ে পরে, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নয়।

তাই এই ওয়ানডে লীগের ফলে এখন হয়তো এর বাইরের সাধারণ সিরিজ গুলোর গুরুত্ব আগের তুলনায় কিছুটা কমে যাবে যেমনটা ফুটবলে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ গুলোর বেলায় হয়ে থাকে।

টেস্টেও শুরু হবে চ্যাম্পিয়নশিপ সিস্টেম ৯ দলের। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে এই জুলাই মাস থেকেই। ৯ দলের এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি দল ৬টি করে সিরিজ খেলবে ২ বছরে।সেরা ২ দল নিয়ে ফাইনাল হবে ২০২১ সালে লর্ডসে। বাংলাদেশ খেলবেনা ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ ভারতের বিপক্ষে নভেম্বর মাসে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ানডে লীগ, দ্বিপাক্ষিক টি টোয়েন্টি ছাড়াও বছর জুড়ে বিভিন্ন দেশে টি টোয়েন্টি ঘরোয়া লীগতো থাকছেই।

আইসিসির উদ্দেশ্য খেলাগুলো অর্থবহ করা। দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ গুলোর গুরুত্ব কমে যাচ্ছিলো টি টোয়েন্টির আমেজে, এছাড়া দর্শক হারাচ্ছিলো টেস্ট ম্যাচ গুলো। তাই টেস্টে এই চ্যাম্পিয়নশিপ সিস্টেম চালু ও ওয়ানডেতে সব দলকেই ওয়ানডে সুপার লীগ বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে যাতে খেলাগুলোর গুরুত্ব থাকে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

তিন বিভাগে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের সেরা ৫ ক্রিকেটার

আফগান-বাংলাদেশ টেস্টে আম্পায়ার থাকছেন যারা

আজীবন নিষিদ্ধ হলেন হংকংয়ের দুই ক্রিকেটার

সরাসরি দেখা যাবে নারী দলের বিশ্বকাপ-বাছাই ম্যাচগুলো

পাকিস্তানকে ই-মেইল, হামলার হুমকিতে কোহলিরা!