ভরাডুবির বিশ্বকাপ, ঘুরে দাঁড়ানোর পথ কোথায়?

ক্রিকেটে কোনো জাদুবিদ্যা নেই। যেটা আছে সেটা হলো একাগ্রতার সাথে কোনো একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ভুল সূত্রে অঙ্ক করলে তা মিলে না, তবুও কেউ সঠিক ফলাফল বের করে ফেললে সেটা অঙ্কে পারদর্শিতা প্রমাণ করে না। তা নিছকই কাকতালীয় ঘটনা, হরহামেশা মোটেও হবে না। সঠিক প্রক্রিয়া আর সূত্র ধরে এগিয়ে যাওয়ার পর আটকে গেলেও একদিন ফল আসবেই। ক্রিকেটটাও তেমনই।

এই প্রক্রিয়া বা প্রসেসের কথা প্রায়ই বলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ফলাফল কি আসছে তার চাইতে কোন প্রসেসে দল এগিয়ে যাচ্ছে সেদিকেই বেশি নজর দিতেন ভারতকে দুই ফরম্যাটের একটি করে বিশ্বকাপ ও একটি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো অধিনায়ক ধোনি।

Advertisment

টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চরম ভরাডুবির পর প্রশ্ন উঠছে দেশের ক্রিকেটের প্রক্রিয়া নিয়ে। স্মৃতি হাতড়ালে এমন চরম ব্যর্থতার বিশ্বকাপ পাওয়া যায় ২০০৩ আর ২০১৪ সালে।

তবু ক্রিকেট সমর্থকরা হয়ত স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি, আছেন খারাপ সময়কে পেছনে ফেলার আশায়। পরের বছরই অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি টি-২০ বিশ্বকাপ। তারপরের বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপও আছে। এ দুই টুর্নামেন্টে ভালো করতে হলে অনেক কিছু ঢেলে সাজাতে হবে এখনই।

হাতে সময় আছে ভেবে গড়িমসি করলেই বিপদ! ২০০৮ সালে ধোনি টিম ম্যানেজমেন্টকে বলেছিলেন যে ২০১১  বিশ্বকাপের জন্য দল সাজাতে চান তিনি। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে জবাবটা ছিল অনেকটা এরকম, “আরো তিন বছর বাকি।” ধোনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, মাত্র তিন বছর।” পরের গল্প সবার জানা।

ভরাডুবির বিশ্বকাপ, ঘুরে দাঁড়ানোর পথ কোথায়ক্রিকেটারদের স্কিল ডেভেলপমেন্টে কাজ করার জায়গা রয়েছে প্রচুর। নাজুক পারফরম্যান্স আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছে কতটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। স্পষ্ট হয়েছে ফিল্ডিং আর পাওয়ার হিটিংয়ের ঘাটতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ২৪ বলে ৩৩ রান নিতে পারেনি বাংলাদেশ, টুর্নামেন্টে একশ’র বেশি রান করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২০.৭১ যা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। আর টুর্নামেন্ট জুড়ে দশটিরও বেশি ক্যাচ মিস, টপ অর্ডারের নাজেহাল অবস্থা তো আছেই। পাওয়ারপ্লে তে ওভারপ্রতি রান তোলার গড় মাত্র ৫.৩৫, প্রতি ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে গড়ে বাংলাদেশের উইকেট পড়েছে দুইটিরও বেশি। আট ম্যাচের মধ্যে পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশ পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে রান করেছে ৩০- এরও কম আর ছয়টি ম্যাচে হারিয়েছে দুই বা তার বেশি উইকেট।

এছাড়া মাঠের কোথায় কোথায় কাজ করার সুযোগ আছে বিসিবির? সেটা জানার ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর বোর্ডদের দিকে তাকালেও ভালোই সহায়তা পাওয়া যাবে।
ভরাডুবির বিশ্বকাপ, ঘুরে দাঁড়ানোর পথ কোথায়
বায়ো-বাবলের ঝক্কিতে মানসিক ক্লান্তি হয়ে উঠেছে বর্তমানের বড় উদ্বেগের বিষয়। সে কথা মাথায় রেখে এবারের বিশ্বকাপে আইসিসি ব্যবস্থা করেছে মনোবিদের। এমনকি ইংল্যান্ড ক্রিকেট টিম দলের সাথে একজন মনোবিদ আছেনও, তার নাম ড. জেমস বিকলি। মানসিক ক্লান্তি দূর করতে ও চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে বিসিবিও হাঁটতে পারে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পথে।

দেশের ক্রিকেট অনুসারীরা প্রশ্ন তুলছেন দেশের উইকেট নিয়েও। ঘরের মাঠের ফায়দা নিয়ে ম্যাচ জেতা গেলেও মিরপুরের পিচের সঙ্গে মিল নেই অন্য দেশের পিচের ধরণে। সেখানে গিয়ে তাই নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে দলকে।

হোম এডভান্টেজ নেওয়ার জন্য মিরপুরে স্পিন সহায়ক উইকেট বানালেও ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ধরণের উইকেটে খেলার অভ্যাস করার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে মাঠের সংখ্যা আরো বাড়ানোর সুযোগ আছে। অবহেলায় পড়ে থাকা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামসহ অন্য স্টেডিয়ামগুলোতে বিভিন্ন ধরণের উইকেট বানিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ আয়োজন করলে বাড়বে ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা। আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের ভেন্যু অস্ট্রেলিয়ারও কন্ডিশনও যে পেসবান্ধব সেটাও সবারই জানা। তাই বিপিএল বা ঘরোয়া টি-২০ টুর্নামেন্টে ভেন্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে সেখানে পেসবান্ধব উইকেট তৈরি করলে সমৃদ্ধ হবে ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা।

বর্তমানে প্রায় প্রতি দলের বোলিং আক্রমণের এক বড় অস্ত্রের নাম লেগ স্পিনার। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমেই হোক বা নেট বোলারদের মাধ্যমেই হোক, ব্যাটসম্যানদের লেগ স্পিন মোকাবেলার অভ্যস্ততা তৈরি করা অতি জরুরী।

এ দুর্দশা কাটিয়ে সামনে রঙিন ভোরের আশায় যাত্রাটা কঠিন। চ্যালেঞ্জটা মোকাবেলা করতে হবে বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট, ক্রিকেটার- সবাইকেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাংলাদেশের এবার পালা ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খোঁজার।


বিশ্বকাপের খেলা সরাসরি দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।