Scores

ভারতীয় যুবারা স্পিরিট অফ ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ড জিততো যদি …

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রশংসা আসছে সকল দিক থেকেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও সাংবাদিকরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে এই পথে না হেটে ঠিক যেনো তার উল্টো পথেই হাঁটা শুরু করেছেন পাকিস্তানের খেলোয়াড় ও সাংবাদিকরা।

ভারতীয় যুবারা স্পিরিট অফ ক্রিকেট এওয়ার্ড জিততো যদি ...

খেলোয়াড় শোয়েব আখতার, সাংবাদিক মহসিন আলী, ওয়াহিদ খান, রিজওয়ান হায়দার থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সাবেক খেলোয়াড় ও সাংবাদিকরা কেউ বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা পর্যন্ত জানাননি, কেউ আবার বাংলাদেশের সমালোচনায় মেতে ছিলেন, অন্য দিকে আবার কেউ শুধু ভারতের প্রশংসাই করেছেন। নাম বলতে গেলে অনেক চ্যানেলের নামই আসবে। তবে সবচাইতে বেশি সীমা অতিক্রম করে সমালোচনা করেছেন সাওয়েরা পাশা চ্যানেলের আলোচক সৈয়দ আলী।

Also Read - টেস্ট থেকে বাদ পড়ছেন রিয়াদ!


পাকিস্তানি মডেল ও পরবর্তীতে ক্রিকেট উপস্থাপনায় জড়িয়ে বিখ্যাত হওয়া সাওয়েরা পাশা নিয়মিত তার ইউটিউব চ্যানেলে ক্রিকেট বিশ্লেষণ করেন আরেক আলোচক সৈয়দ আলীর সাথে। তাদের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনায় সকল সীমাই যেনো অতিক্রম করে দিয়েছেন তারা বাংলাদেশের সমালোচনায়।

আলোচনায় আলী বলেন, ” বাংলাদেশ জিতেছে ঠিক আছে। কিন্তু তারা এটা কীভাবে করলো? ভারতের মতো একটি দল, যারা একটি সিনিয়র দল ও ৪ বারের চ্যাম্পিয়ন দল তাদের সাথে এই ধরনের আক্রমণ করা কতটুকু ঠিক ছিলো? আমার কাছে মোটেও ভালো লাগেনি ভারতের মত একটি দলের সাথে তাদের এই আচরণ কীভাবে করলো। কত অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে ভারত। হ্যা আমি জানি আকবর আলী ম্যাচ শেষে সরি বলেছে কিন্তু সরি বললেই এই ধরনের আচরন কোনভাবে মেনে নেওয়া যায়না মোটেও। শুধু এটা না বাংলাদেশের স্বভাবই এমন। এর আগেও নিদাহাস ট্রফিতে তাদের নাগিন নাচ, টেস্টেও তাদের আবু জায়েদের উইকেটের পর উদযাপন এটা মনে হয় বাংলাদেশিদের স্বভাবই।

কই ভারত পাকিস্তানও তো অনেক উত্তেজনার ম্যাচ খেলে। তারা তো এমন করেনা কখনো। তবে বাংলাদেশই কেন বারবার এই সব কিছু করে? তাদের ভাবা উচিত ছিলো গ্রুপ পর্বে তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে যেতো। বৃষ্টি তাদের বাচিয়ে দিয়েছিলো। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারলে দেখা যেতো কোয়ার্টারে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা হতো তাদের ও তারা হয়তো হেরে যেতো সেই খেলায়। কারন তখন তাদের সাথে মোমেন্টাম থাকতোনা। ”

সাওয়েরা পাশা তারা বাচ্চা এই বলে এটা এড়িয়ে যেতে চাইলেও আলোচক আলী তা মেনে নিতে পারেননি।

পাকিস্তানের এই সকল চ্যানেল ও সাংবাদিকদের কথা শুনে মনে হচ্ছে মায়ের চাইতে মাসির দরদ বেশি। যেখানে খোদ ভারতের সাবেক খেলোয়াড় ও সাংবাদিকরাও ভারতের খেলোয়াড়দের শাস্তি দেওয়ার কথা বলছেন তাদের ভুল স্বীকার নিয়ে, সেখানে পাকিস্তানে যেনো তার উল্টো। তাদের কাছে ভারতীয় খেলোয়াড়রা যেনো কোনো ভুলই করেননি, সকলেই ফুলের মতো পবিত্র। তারা ছোট বাচ্চা, তাদের সাথেই সব অন্যায় হয়েছে। সব দোষ শুধু বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। অঘটন হিসেবে ভারত হেরে গিয়েছে। এই রকম মনোভাব পাকিস্তানের বেশিরভাগ চ্যানেলে।

অথচ খোদ আইসিসিও ভারতের খেলোয়াড়দের শাস্তি দিয়েছে।ভারতের সাবেক গ্রেটরাও ভারতীয় খেলোয়াড়দের শাস্তি চেয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পুরো বিশ্ব যা দেখেছে তার উল্টো কি দেখেছে পাকিস্তানের আলোচকরা? রবি বিশ্নোই যখন বাজে স্লেজিং করছিলো লাগাতার তখন কি তারা চোখে টিনের চশমা ও কানে তুলা দিয়ে বসেছিলেন? তাদের আলোচনায় মনে হচ্ছে আইসিসিতে পাকিস্তানি সাংবাদিকরা থাকলে বাংলাদেশের পুরো দলকেই নিষিদ্ধ করতেন ক্রিকেট থেকে ও ভারতীয় যুবাদের দিতেন ” স্পিরিট অফ ক্রিকেট এওয়ার্ড ” মাঠে প্রতিপক্ষের সাথে অসাধারণ ভালো আচরনের জন্য।

নিরপেক্ষতার নাম নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলে আলোচনা করতে বসা এই সকল বিশ্লেষকরা যেনো প্রতিযোগিতায় নেমে পরেছেন কে কত বেশি ভারতীয় খেলোয়াড়দের প্রশংসা করতে পারবেন। তাই ভারতের অতিরিক্ত প্রশংসা করতে গিয়ে টিনের চশমা চোখে দিয়ে তাদের দোষ গুলোকেও এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে সাধারণ ক্রিকেট ভক্তদের কাছে পাকিস্তানের পুরো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের দল যে গ্রহনযোগ্যতা হারালো এই লাগাতার বাংলাদেশি যুবাদের সমালোচনার জন্য তা হয়তো চোখ বন্ধ করেই বলা যায়।

তাই পাকিস্তানি বিশ্লেষকদের হয়তো এখন উচিত হবে দেরি না করে পুরোপুরি নির্দোষ অসহায় ভারতীয় দলকে স্পিরিট অফ ক্রিকেট এওয়ার্ড দিয়ে দেওয়া যখন তাদের এতই পছন্দ হয়েছে ভারতীয় যুবাদের।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
Tweet 20
fb-share-icon20

Related Articles

নতুন নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনা আইসিসির

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন প্রযুক্তি আনছে আইসিসি

বিসিসিআইয়ের প্রস্তাবে আইসিসির ‘না’

ফাইনালে হাতাহাতির ঘটনায় পাঁচ ক্রিকেটারকে শাস্তি

আইসিসির কাছে নালিশ করেছে ভারত