Score

ভারতের জন্য পাতা ফাঁদে পাকিস্তানই বন্দি

এই লড়াইয়ে ভারতের কাছে যে হেরে যাবে পাকিস্তান, তা এক প্রকার অনুমিতই ছিল। এবং শেষ পর্যন্ত হলোও তা-ই। বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে আইসিসির কাছে করা পিসিবির অভিযোগ ও ক্ষতিপূরণের দাবি শেষ পর্যন্ত নিষ্ফলই হলো।

ভারতের জন্য পাতা ফাঁদে বন্দি পাকিস্তানই
ভারতের জন্য গর্ত খুঁড়ে সে গর্তে নিজেরাই পড়ল পাকিস্তান!

বিসিসিআই ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ চুক্তি মানছে না, এই মর্মে আইসিসির কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল পিসিবি। এবং তারা দাবি জানিয়েছিল, ভারত যদি পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না-ই খেলে, তবে এর বিনিময়ে তারা যেন যথাযোগ্য ক্ষতিপূরণ দেয়।

শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, বিসিসিআইয়ের সাথে এই আইনি লড়াইয়ে হেরে যাবে পিসিবি। এমনকি সাবেক পিসিবি প্রধান এহসান মানিও এমন ভবিষ্যদ্বাণীই করেছিলেন। কিন্তু তাতে পিছপা হয়নি পিসিবি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। এবং সেই লড়াইয়ে ব্যর্থতাই সঙ্গী হয়েছে তাদের।

একে তো বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি খুব একটা শক্তিশালী ছিল না, তার পাশাপাশি আইসিসির ডিসপিউট রিজোলিউশন প্যানেল এটিও বুঝতে পেরেছিল যে তারা যদি পাকিস্তানের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর ফলে আরও কিছু বোর্ডও অন্য বোর্ডের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনার সুযোগ পাবে।

Also Read - বৃহস্পতিবার উইন্ডিজের মুখোমুখি মাশরাফি-তামিমরা

যেমন সাম্প্রতিক সময়ে নানা অজুহাতে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া দল জিম্বাবুয়ে সফরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এখন ভারত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ দেখিয়ে যদি পাকিস্তান সফর না করে বা নিজেদের মাটিতেও তাদের সাথে না খেলে, আর সেজন্য তাদেরকে জরিমানা করা হয়, তাহলে একই শাস্তি দিতে হবে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়াকেও। সামগ্রিকভাবে গোটা ক্রিকেটাঙ্গনই হয়ে উঠবে অস্থির। এমন আশঙ্কা থেকেই বিসিসিআইয়ের পক্ষে রায় দিয়েছে আইসিসি।

তবে এই লড়াইয়ে জয় পেতে সাড়ে সাত কোটি রুপিরও বেশি খরচ করতে হয়েছে বিসিসিআইকে। আইনি লড়াইয়ের জন্য লন্ডন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা হারবার্ট স্মিথ এলএলপিকে নিযুক্ত করেছিল তারা, যার বিনিময়ে তাদেরকে গুনতে হয়েছে প্রায় সাত কোটি ২০ লক্ষ রুপি। এছাড়া ভারতের সর্ববৃহৎ আইনি সংস্থা সিরিল অমরচাঁদ মঙ্গলদাসকে প্রায় ৪৫ লক্ষ রুপি দিয়েছিল বিসিসিআই।

অবশ্য যেহেতু আইনি লড়াইয়ে জয় হয়েছে বিসিসিআইয়ের, তাই এখন এই পুরো অর্থই পিসিবির কাছ থেকে কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেবে তারা। ধারণা করা হচ্ছে, আইনি লড়াইয়ে জেতার জন্য বিসিসিআইয়ের এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কোনো প্রয়োজন না থাকলেও, তারা এই কাজ করেছে যেন পরবর্তীতে সমসংখ্যক অর্থ তারা পিসিবির পকেট থেকে খসাতে পারে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে গিয়ে উল্টো পিসিবিই সেই জালে জড়িয়ে পড়েছে!

Related Articles

আগামী এশিয়া কাপের আয়োজক পাকিস্তান!

স্টেইনকে ভয়ের কথা অস্বীকার হাফিজের

ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল লাইন-আপ চূড়ান্ত

স্বাগতিক পাকিস্তানকে উড়িয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের ভালো সূচনা