Scores

ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের সিরিজ জয়

Bangladesh cricketers celebrate after winning the second ODI (One Day International) cricket match between Bangladesh and India at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on June 21, 2015. AFP PHOTO/Munir uz ZAMAN        (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

না, ওয়ানডে সিরিজে জয়টা এত বেশি আরাধ্য ছিল না বাংলাদেশের। বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়ানডেতে ধারাবাহিকভাবে আসছিল সাফল্য। তবুও ভারত বধের আলাদা এক মাহাত্ম আছে বটে! ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের পর নতুন একটি বিশ্বকাপ জেতা দল যে বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারল!

Also Read - ৪৭ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২০১ রান


মিরপুরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল স্বাগতিক বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ২০০ রান সংগ্রহ করা ভারতের রান নির্ধারিত ৪৭ ওভারের চেয়ে ৯ ওভার বাকী থাকতেই জিতে নেয় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ২-০ ব্যবধানে। শেষ ম্যাচটি হারলে পাকিস্তানের পর ভারতও শিকার হবে বাংলাওয়াশের।

মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। বৃষ্টির কারণে ইনিংস প্রতি ৩ ওভার করে কমে গিয়েছিল দৈর্ঘ্য, তাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে তামিম-মুশফিকরা খেলতে পারতেন ২৮২ বল, অর্থাৎ ৪৭ ওভার।

ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরই তাই বলতে গেলে সিরিজ জয়ের উৎসবে মেতে উঠার প্রহর গুনছিল মিরপুরবাসী। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি বোলারদের অসাধারণ নৈপুণ্যে প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়ে যায় বাংলাদেশের। তবে ভারতের ইনিংসের শেষদিকে বৃষ্টি এসে খেলা বন্ধ হওয়ায় শঙ্কা জেগেছিল শিডিউল অনুযায়ী খেলা শেষ করা নিয়ে। কিন্তু শেষপর্যন্ত বৃষ্টি থেমে গেলে খেলাও মাঠে গড়ায়, তাতে অবশ্য বেশিদূর এগোয়নি ভারতের ইনিংস।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় সফরকারী ভারত। স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই আগের ম্যাচের নায়ক মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন রোহিত শর্মা। এরপর ভিরাট কোহলিকে নিয়ে শিখর ধাওয়ান কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ৭৪ রানে ভাঙে তাদের পার্টনারশিপ। ২৩ রান করে নাসিরের বলে কোহলি সাজঘরে ফিরলেও ধাওয়ান তুলে নেন ফিফটি। ৫৩ রান করে ধাওয়ানও শেষ পর্যন্ত শিকার হন নাসিরের।

১১০ রানের মাথায় আম্বাতি রায়ুডুও আউট হয়ে যান। রুবেলের বলে নাসিরের ক্যাচে পরিণত হয়ে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে। এরপরই ম্যাচে ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত।

মুস্তাফিজুরের স্পেলের বিরতির ফাঁকে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সুরেশ রায়নাকে নিয়ে ৫ম উইকেটে গড়েন ৬৪ রানের পার্টনারশিপ। কিন্তু পুনরায় বল হাতে নিয়ে রায়না (৩৪) ও ধোনি (৪৭) দুজনকেই ফেরান ১৯ বছর বয়সী মুস্তাফিজ। এরপর একই ওভারে অক্ষর পেটেল ও রবিচন্দ্রন আশ্বিনকে তুলে নেন মুস্তাফিজ, টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ করেন ৫ উইকেট।

মুস্তাফিজুরের করা ১০ম ওভারের শেষ বলটির আগেই বৃষ্টি এসে খেলা বন্ধ করে দেয়। ততক্ষণে ৪৩ ওভার ৫ বল ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৬ রান। ঘণ্টাখানেকের মতো বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকার পর ৪৭ ওভারের প্রতি ইনিংস নির্ধারিত হয়। ইনিংসে নিজের করা শেষ বলটি করতে এসে রবীন্দ্র জাদেজাকে সাজঘরে পাঠান মুস্তাফিজ। ফলে ইনিংসে ৬ উইকেট পূর্ণ হয় তার।

জাদেজা আউট হওয়ার পর আর ৪ রান যোগ করতেই নিজেদের শেষ উইকেটটি হারায় ভারত। ২০০ রানের মাথায় শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভুবনেশ্বর কুমার রুবেলের শিকার হলে ১২ বল বাকী থাকতেই শেষ হয় ভারতের ইনিংস।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট নিয়ে প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও ২টি করে উইকেট দখলে নিয়েছেন নাসির হোসেন ও রুবেল হোসেন।

ছোট লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো হয়নি স্বাগতিক বাংলাদেশের। দলীয় ৩৪ রানের মাথায় ধাওয়াল কুলকার্নির বলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে শিখর ধাওয়ানের হাতে তালুবন্দি হন তামিম ইকবাল (১৩)। দারুণ ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার দারুণ খেললেন এদিনও, তবে তেমন বড় করতে পারেননি নিজের ইনিংস। দলীয় ৮৬ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৪ রানে আশ্বিনের এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনিও। এর কিছুক্ষণ পরই সাজঘরে যেতে হয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাসকে। তবে যাওয়ার আগে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে নিজের জাত চিনিয়ে গেলেন যথারীতি।

৯৮ রানে ৩ উইকেট পড়ে গেলে সাময়িক চাপ ভর করে বাংলাদেশের উপর, তবে সেই চাপ আশঙ্কায় পরিণত হতে দেননি মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। ৪র্থ উইকেট জুটিতে দুজনে গড়েন ৫৪ রানের পার্টনারশিপ, যা জয়ের মূল ভিতটা গড়ে দেয়। মুশফিক ৩১ রানে আউট হলে শেষদিকে সাকিবকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাব্বির রহমান। তবে সাকিব ভুল করেননি টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে ফিফটি তুলে নিতে। ২২ রানে অপরাজিত থাকা সাব্বিরকে সঙ্গী করে জয়ের পর মাঠ ছেড়েছেন ৫১ রানের ঝলমলে একটি ইনিংস খেলে।

আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বেশ খরুচে ছিলেন ভারতীয় বোলাররা। বাংলাদেশের চারটি উইকেটের একটি রানআউট, বাকী তিনটি ভাগ করে নিয়েছেন ধাওয়ান কুলকার্নি, রবিচন্দ্রন আশ্বিন ও অক্ষর পেটেল।

১০ ওভার বল করে ৪৩ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ধসানো মুস্তাফিজুর রহমান নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতেও হয়েছেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।

তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী ২৪ জুন, বুধবার। ঐ ম্যাচে হারলেও সিরিজ আর হাতছাড়া হবে না টাইগারদের। তবে ভারতকেও বাংলাওয়াশের লক্ষ্যে কাবু করতে হলে হারাতে হবে ঐ ম্যাচেও!

স্কোর-

টসঃ ভারত

ভারতঃ ২০০/১০, ৪৫ ওভার (৪৭ ওভার)

ধাওয়ান ৫৩, ধোনি ৪৭, রায়না ৩৪

মুস্তাফিজঃ ১০-০-৪৩-৬

নাসিরঃ ১০-০-৩৩-২

রুবেলঃ ৭-০-২৬-২

বাংলাদেশঃ ২০০/৪, ৩৮ ওভার

সাকিব ৫১*, লিটন ৩৬, সৌম্য ৩৪, মুশফিক ৩১

কুলকার্নি ৭-০-৪২-১

ফলঃ বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী (৫৪ বল বাকী)

ম্যান অব দ্যা ম্যাচঃ মুস্তাফিজুর রহমান

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে মাশরাফি

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ

দুদকের শুভেচ্ছাদূত হলেন সাকিব