ভারতে বন্ধ পিএসএলের সম্প্রচার!

0
545

চলছে পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগ বা পিএসএল। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হিসেবে পিএসএলে এবারও অংশ নিচ্ছেন অনেক তারকা ক্রিকেটার। তাই ক্রিকেট বিশ্বের একটি অংশে মনোযোগ এখন টুর্নামেন্টটির চতুর্থ আসরে।

ভারতে বন্ধ পিএসএলের সম্প্রচার

তবে এই পিএসএলকেই এবার বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি কাশ্মীরে পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীর নারকীয় হামলার ঘটনার পর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অবস্থা পার করছে। এই অবস্থায় ক্রিকেটীয় ক্ষেত্রেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

Advertisment

ক্রিকেটীয় ক্ষেত্রে প্রভাব না পড়েও অবশ্য উপায় নেই! ভারতে ক্রিকেটকে ধরা হয় দ্বিতীয় ধর্ম হিসেবে। আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তো দেশটির বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কই। দুই দেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন আসলে তাই সবার আগে টান লাগে ক্রিকেটে।

এবারও যথারীতি তাই হয়েছে। কাশ্মীর হামলার জের ধরে এবার ভারতবাসী একসাথে বর্জন করছে পিএসএলকে। ফলে বিশাল অঙ্কের দর্শক-অনুসারী হারাচ্ছে আরব আমিরাতে চলমান পিএসএল।

পিএসএলকে বর্জনের ধারাবাহিকতায় ভারতে ক্রিকেট টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। ভারতে পিএসএল সম্প্রচারিত হচ্ছিল আসরের অফিসিয়াল ব্রডকাস্টার ডিস্পোর্টস চ্যানেলের মাধ্যমে। সেই টেলিভিশন চ্যানেলটি নিজেদের লোকসানের চিন্তা না করেই ইতোমধ্যে সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ভারতের কেউ আর চাইলেও পিএসএলের ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন না।

শুক্রবার রাতে পিএসএল সম্প্রচার বন্ধের পর নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ। ক্রিকেট বিশ্বের যেকোনো টুর্নামেন্টেরই দর্শকদের বড় অংশ থাকেন ভারতের।

আমাদের জাতীয় ইস্যু নিয়ে আমরা বেশ সচেতন। আমরা ভাবছি কীভাবে ব্যাপারটি সামলাতে হয়। যদিও কিছু টেকনিক্যাল বিষয় জড়িয়ে আছে– পিএসএল সম্প্রচার বন্ধের সময় এমন বার্তা জানায় ব্রডকাস্ট চ্যানেলটি।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সেনা কনভয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় যাতে প্রাণ হারান প্রায় ৪০ জন ভারতীয় জওয়ান। ঘটনার পর হামলার জন্য দায়ী করা হয় পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদকে। পরবর্তীতে ঘৃণ্য সংগঠনটি হামলার দায়ও শিকার করে নেয়। সন্ত্রাসী সংগঠনটির নাড়ি পাকিস্তানে হওয়ায় এই হামলার দায় দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানকেও। বর্বর এই হামলার ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ইতিহাসের সবচেয়ে শীতলতম অবস্থায় বিরাজ করছে।