Scores

ভালো করছেন নাসুমরা, এবার একটু ‘সুযোগ’ চান

২০৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান, তবে ১৩৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পরই ব্যাটিং ধ্বস। তবুও জয় তুলে নেওয়া কঠিন ছিল না। তবে প্রথমে ‘কঠিন’ এবং পরে ‘অসম্ভব’ করে তুললেন যিনি, সেই নাসুম আহমেদের বিধ্বংসী বোলিংয়েই ডিপিএলের নবম রাউন্ডে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে অবিশ্বাস্যভাবে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

ভালো করছেন নাসুমরা, এবার একটু ‘সুযোগ’ চান

৮.৫ ওভার বল করে ৪৯ রানের খরচায় ৫ উইকেট শিকার। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট শিকারের দিনে ম্যাচ সেরার খেতাবও পেলেন নাসুম। তবে ম্যাচ শেষে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তার কণ্ঠে আক্ষেপ— এমন ক্রিজ কাঁপানো পারফরম্যান্স প্রদর্শনের সুযোগটাও তো ঠিকমত পান না!

Also Read - রাসেলের তাণ্ডবে ম্লান কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সের ঝড়


এবারের ডিপিএলে প্লেয়ার ড্রাফটে দল পাননি। পরবর্তীতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স আগ্রহ দেখালে সেখানেই হয় ঠিকানা। তবে সুযোগ পাওয়া নিয়েও ছিল শঙ্কা। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সেই নাসুমই দলকে এনে দিলেন অবিশ্বাস্য এক জয়, যা বাঁচিয়ে রেখেছে সুপার লিগের স্বপ্নও।

দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরে পাঁচ উইকেট পাওয়া বা ম্যাচসেরা হওয়ার চেয়েও নাসুম বেশি খুশি দলকে জেতাতে পেরে। বিডিক্রিকটাইমকে বললেন, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার, আমি পাঁচ উইকেট পাওয়াতেই দল জিততে পেরেছে। দল জিতেছে, এটাই স্বস্তি।’

২০১১ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হলেও খেলেছেন মাত্র ১৭টি ম্যাচ, যার ১০টি নিজের এলাকা সিলেট বিভাগের জার্সি গায়ে হলেও ৭টিই জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব করে। ২৭ মাস আগে খেলেছেন সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি! ২০১৩ সালে অভিষেকের পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন এমনটি বলার সুযোগ নেই। এবারের ডিপিএলের টি-টোয়েন্টি সংস্করণ চলাকালে কোনো দলেই ছিলেন না। বিপিএল খেলেছেন সবশেষ ২০১৫ সালে, যা এখন পর্যন্ত স্বীকৃত ক্রিকেটে তার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আর প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরের আগে মাঠে নেমেছিলেন গত আসরে, সেবার প্রাইম দোলেশ্বরের একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি।

ভালো করছেন নাসুমরা, এবার একটু ‘সুযোগ’ চান

নাসুম আক্ষেপ করে জানালেন, সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পরও খেলার সুযোগ না দেওয়ায় তরুণ ক্রিকেটারদের অনেকেই অনুৎসাহিত হচ্ছেন। এনসিএলে নিজ এলাকা সিলেট বিভাগ কিংবা বিসিএলে ‘পয়সাওয়ালা’ ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নজর কাড়তে না পারলেও ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টির চেয়ে লঙ্গার ভার্শনই বেশি প্রিয় নাসুমের কাছে।

তিনি বলেন, ‘চারদিনের ম্যাচই আমার বেশি পছন্দ। টি-টোয়েন্টিও ভালো লাগে। একদিনের ক্রিকেটে রান চেক দেওয়ার চেষ্টা করি। ওয়ানডেতে উইকেট কম পেলেও এই সামর্থ্য আমার আছে।’

‘আমাদের এখন ফোকাস থাকা উচিত ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে। আমরা নিজের বিভাগের হয়ে (এনসিএল) সাফল্য নিয়ে আসবো। অথচ আমরা লঙ্গার ভার্শনে খেলার সুযোগই পাই না। প্রথম শ্রেণিতে ভালো করলে আমরা সীমিত ওভারে খেলার সুযোগটাও সহজে পেতাম।’

প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট মিলে নাসুম স্পর্শ করেছেন তিন অঙ্ক, সেটি বল হাতে। অর্থাৎ, এই দুই সংস্করণে তার উইকেটসংখ্যা এখন ঠিক ‘১০০’। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার হয়ত পরিসংখ্যানকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন।

তরুণ ক্রিকেটাররা একটু ভালো করলেই সুনাম কুড়োচ্ছেন। বিভিন্ন ক্যাম্পে ডাক পাচ্ছেন, সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে আসছেন। তবে এরপরই হারিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় নাসুমের মত পরীক্ষিত ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারও একাদশে সুযোগ না পেয়ে ম্যাচের পর ম্যাচ পানি টেনেছেন, একটি সুযোগের প্রত্যাশায়, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের জাত চেনানোর আশায়।

ভালো করছেন নাসুমরা, এবার একটু ‘সুযোগ’ চান

দেরিতে হলেও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স দলভুক্ত করায় নাসুম আহমেদের কণ্ঠ চুয়ে পড়ল কৃতজ্ঞতা। তবে ডিপিএলে আরও যেসব তরুণ ক্রিকেটার দল পেয়েও একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না, তাদের দিকে দৃষ্টিপাতের আহ্বান জানালেন। কথাপ্রসঙ্গে উঠে এলো সিলেট বিভাগ থেকে জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ও। সেই কথোপকথনেও নাসুম রাখলেন তরুণদের প্রতি গুরুত্ব বাড়ানোর আবেদন।

নাসুম বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের ৩ জন পেসার (আবু জায়েদ রাহী, খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন) জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। তবে তরুণদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত। তরুণ ক্রিকেটাররাই বিভাগীয় দল, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দল বা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোতে বেশি অবদান রাখতে পারে।’

পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার প্রমাণ রাখার পরও ক্রিকেটারদের দলে সুযোগ পাওয়ার এই আকুতি কি দেশের ক্রিকেটের জন্য অস্বস্তিকর নয়? সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগটাকে সুবিচার দিয়ে ভস্ম করে দিলে তা দেশের ক্রিকেটের জন্যই ভালো!

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

প্রাইম ব্যাংকের কাছে হেরে বিদায় নিল গাজী গ্রুপ

দারুণ বোলিংয়ের পরও মুস্তাফিজদের হার

জয়ের নিকটে গিয়েও গাজীর কাছে ব্রাদার্সের হার

দৈর্ঘ্য কমার ম্যাচেও অলআউট হয়ে গাজীর কাছে হারলো উত্তরা

মুশফিক-আশরাফুলের পাশে ইমরুল কায়েস