ভিডিওঃ মাশরাফির দুর্দান্ত উড়ন্ত ক্যাচ

তৃতীয়বারের মত এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার আবুধাবিতে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে ২০১২ ও ২০১৬ সালের পর আবারও শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামার ম্যাচে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল টাইগাররা।

 

শোয়েব মালিকের দুর্দান্ত ক্যাচ নেওয়ার পর মাশরাফি মুর্তজার উদযাপন।
শোয়েব মালিকের দুর্দান্ত ক্যাচ নেওয়ার পর মাশরাফি মুর্তজার উদযাপন; ছবিঃগেটি ইমেজ

 

Also Read - ভিডিওঃ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিজয়ের মুহূর্ত

জিতলেই ফাইনাল- এমন সমীকরণকে সামনে রেখে দুই এশিয়ান পরাশক্তির ম্যাচটি পাচ্ছিল অঘোষিত সেমিফাইনালের মর্যাদা। সেই ‘সেমিফাইনালে’ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে এদিনও যথারীতি তার আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ টপ অর্ডার।

দলীয় রান ১২-তে পৌঁছাতেই সাজঘরে সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক ও লিটন দাস। দলের সুযোগ পাওয়ার ‘সুযোগ’ কাজে লাগাতে ‘ষোলোআনা ব্যর্থ’ সৌম্য ও মুমিনুল। পাহাড়সম চাপ নিয়ে দলের দায়িত্ব তখন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের ঘাড়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে দুজন মিলে সেই দায়িত্ব পালন করলেন শক্ত হাতে। ১৪৪ রানের পার্টনারশিপ ভাঙল যখন, পেছনে ফিরে বাংলাদেশ টপ অর্ডারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ দেখল অনেকখানি দূরে।

৮৪ বলে ৬০ রানের ধীর কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলে চারটি চার হাঁকানো মিঠুন বিদায় নিলেও মুশফিক খেলছিলেন নিজের মত করে। মাঝখানে আগের ম্যাচে পার্শ্বনায়ক ইমরুল কায়েসের বিদায় একটু চাপ সৃষ্টি করে গেছে, এরপর সেই চাপ আরও বাড়িয়ে তুললেন মুশফিক, ৯৯ রানে সাজঘরে ফিরে। ইতিহাসের প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৯৯ রানে আউট হয়ে মুশফিক বুঝিয়ে দিলেন, নয়টি চারে ১১৬ বলে গড়া ইনিংসটা কম গুরুত্বের নয়। সেটি আরও স্পষ্ট হয়েছে শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতে না পারায়।

রিয়াদের ২৫ যখন দলের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর, তখন স্পষ্ট হয়ে উঠে ব্যাটিংয়ের অপরিবর্তিত দৈন্যদশা। সেই দৈন্যদশার সাক্ষী হয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই ২৩৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া মুশফিক-মিঠুনের অনবদ্য জুটির জয়গান গায় হয়ত। তবে তাতে পাকিস্তানকে ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্যকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ বলতে একটু দ্বিধাই হচ্ছিল।

পাকিস্তানের পক্ষে জুনাইদ খান একাই শিকার করেন চারটি উইকেট। এছাড়া শাহিন আফ্রিদি ও হাসান আলী দুটি এবং শাদাব খান একটি উইকেট লাভ করেন।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই ভড়কে দিয়েছিল বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ। দলীয় রান ২০ পার হওয়ার আগেই সাজঘরে স্বাগতিকদের তিন ব্যাটসম্যান। দ্রুত অলআউট করার যে আশা পুষেছিল বাংলাদেশ, সেই আশার গুঁড়েবালি হল ইমাম-উল-হকের ব্যাটে। তাকে কিছুক্ষণ যোগ্য সঙ্গ দিয়ে শোয়েব মালিক ব্যক্তিগত ৩০ রানের মাথায় ফিরলেও ইমাম পথ হারাননি। ২৪ বল খেলে মাত্র ৪ রান করা শাদাব খানকে ফিরিয়ে সৌম্য সরকার উল্লাস করতে পারেননি বেশিক্ষণ। কারণ তার বিদায়ে ক্রিজে আশা আসিফ আলী ইমামের সাথে মিলে হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের জয়ের পথের কাঁটা।

তবে সেই কাঁটা দূর করার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করলেন উইকেটের পেছনে থাকা লিটন। ইমামকে রিয়াদের বলে এবং আসিফকে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্ট্যাম্পিং করে প্রায়শ্চিত্তও করলেন যেন একটি সহজ ক্যাচ মিসের। প্রায়শ্চিত্ত হোক বা যা-ই, লিটনের ঐ দুটি স্ট্যাম্পিংই ম্যাচে ফেরায় বাংলাদেশকে। দুটি চার ও একটি ছক্কায় ১০৫ বলে ৮৩ রান করা ইমাম ও তিনটি চারে ৪৭ বলে ৩১ রান করা আসিফের পর পাকিস্তানকে পথ দেখানোর মত কেউ ছিলেন না অপরাজিত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে।

বাংলাদেশের একাদশে এদিন স্পেশালিষ্ট বোলার ছিলেন চারজন। পুরো ১০ ওভার বল করে একজন বোলারের অভাক ঘুচিয়েছেন রিয়াদ। রিয়াদের সমান ইকোনোমি রেটে (৩.৮) ৫ ওভার বল করেছেন সৌম্যও। তাতে মাশরাফি, মুস্তাফিজ, মিরাজ এবং রুবেলের উপর থেকে চাপ কমেছে, একইসাথে দৃশ্যমান হয়েছে দলের পার্ট টাইম বোলারদের কার্যকারিতাও। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে এদিন বোলার মুস্তাফিজ যেভাবে দ্যুতি ছড়িয়েছেন, যাতে ঝলসে গেছে পাকিস্তানের দৃষ্টি। তার বলেই হাসান আলীর কঠিন এক ক্যাচ নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি জয়োল্লাসের ছন্দ এনে দেওয়ার পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রুবেলের বলে মালিককে ফেরানো দুর্দান্ত ক্যাচটিও।

তবে তিন উইকেট শিকারের পরও মুস্তাফিজের উইকেট-ক্ষুধা মিটছিল না যেন। দলীয় ১৮৬ রানের মাথায় মোহাম্মদ নাওয়াজের শট তালুবন্দী করেন বদলি ফিলদার নাজমুল হোসেন শান্ত, তাতে আরও একটি উইকেট যোগ হয় মুস্তাফিজের ঝুলিতে।  শেষ উইকেটটি কেউ শিকার করতে না পারলেও বাংলাদেশের জয়ে কোনো বাঁধা আসেনি। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারানো পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০২ রান। এতে ৩৭ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গত আসরেরও দুই ফাইনালিস্টের মধ্যকার ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময়  বিকাল সাড়ে পাঁচটায়।

দেখুনঃ  মাশরাফির দুর্দান্ত উড়ন্ত ক্যাচ

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 

বাংলাদেশ ২৩৯/১০ (৪৯.৫ ওভার)

মুশফিক ৯৯, মিঠুন ৬০, রিয়াদ ২৫

জুনাইদ ১৯/৪, শাহীদ ৪৭/২, হাসান ৬০/২

পাকিস্তান ২০২/৯ (৫০ ওভার)

ইমাম ৮৩, আসিফ ৩১, শোয়েব ৩০

মুস্তাফিজ ৪৩/৪, মিরাজ ২৮/২, সৌম্য ১৯/১

ফল: বাংলাদেশ ৩৭ রানে জয়ী।

ফাইনাল ম্যাচের লাইনআপ: বাংলাদেশ বনাম ভারত

পূর্ণ স্কোরকার্ড জানতে ক্লিক করুন এখানে- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান

[আরও পড়ুন: ধোনি-কোহলি-জয়াবর্ধনেকে পেছনে ফেললেন মুশফিক ]

Related Articles

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি

‘বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানজনক জায়গা আদায় করেছে বাংলাদেশ’