ভিন্ন পেশা থেকে ক্রিকেটে এসেছেন যারা

ক্রিকেটার হয়ে বিশ্বতারকা তো অনেকেই হয়েছেন। অনেক ক্রিকেটারই যে আগে ছিলেন অন্য পেশায় তা হয়ত জানা নেই অনেকেরই। ভিন্ন পেশা থেকে ক্রিকেটে আসা ক্রিকেটারের সংখ্যা খুব একটা কম নয়।

ভিন্ন পেশা থেকে ক্রিকেটে এসেছেন যারা

Advertisment

তবে কারও কারও পেশা ছিল খুব বিচিত্র, শুনে অন্তত মনে হবে ক্রিকেটের সাথে এই পেশার যোগসাজশ নেই। একনজরে দেখে নেওয়া যাক কয়েকটি দৃষ্টান্ত।

মিচেল জনসন

অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী ফাস্ট বোলার মিচেল জনসন আগে ছিলেন ট্রাক ড্রাইভার। ক্রিকেটে মনোনিবেশ করে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে ক্রিকেটে নাম লিখিয়েছেন জনসন। দারুণ সফল এই পেসার ছিলেন বেশ গতিশীল আর ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্কের নাম। টেস্টে ৩১৩ উইকেটের পাশাপাশি ওয়ানডেতে জনসনের আছে ২৩৯ উইকেট।

ব্র‍্যাড হজ

ব্র‍্যাড হজ ক্রিকেটে আসার আগে কাজ করতেন পেট্রোল পাম্পের স্টেশনে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা খুব বেশি বড় করতে পারেননি হজ। পারবেন কেমন করে? অভিষেকই যে হয়েছে ৩১ বছর বয়সে। ২৫ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে হজের রান ৫৭৫। খেলা ছাড়ার পরে আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন হজ।

শেলডন কটরেল

২০১৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১২ উইকেট তুলে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন শেলডন কটরেল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিভা আর দক্ষতা দিয়ে চিনিয়েছেন নিজেকে। জ্যামাইকার প্রতিরক্ষা সৈনিক হিসেবে কর্মরত কটরেল। উইকেট পাওয়ার পরে তাই উদযাপনের সময় স্যালুট দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নিজের বাহিনীর প্রতি।

শেন বন্ড

নিউজিল্যান্ড দলে যুক্ত হওয়ার আগে পুলিশ অফিসার ছিলেন শেন বন্ড। দারুণ গতিতে বল করতে পারা বন্ড কিউইদের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে সমাদৃত। নিয়মিত ইঞ্জুরিতে ক্যারিয়ারটাকে লম্বা করতে পারেননি বন্ড। তারপরেও ৮২ ওডিআই খেলে কিউইদের হয়ে নিয়েছেন ১৪৭ উইকেট, বোলিং গড় প্রায় ২১। নিঃসন্দেহে দারুণ পরিসংখ্যান।

নাথান লায়ন

নাথান লায়নও ছিলেন খেলা শুরু করার আগে ছিলেন ভিন্ন কাজে। ২০১০ সালে এডিলেডে গিয়ে এডিলেড ওভালের মাঠকর্মীদের দলে যুক্ত হন লায়ন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট খেলা শুরু হয় লায়নের। আর টেস্টে লায়নের পরিসংখ্যানটাও দারুণ, ৮৬ টেস্টে উইকেট ৩৪৩টি।

মহেন্দ্র সিং ধোনি

মহেন্দ্র সিং ধোনির গল্পটা অনেক বেশি অনুপ্রেরণামূলক। ক্রিকেটার হওয়ার আগে খড়গপুর রেলস্টেশনের টিকেট কালেক্টর হিসেবে কাজ করতেন ধোনি। ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে মানা হয় ধোনিকে। ধোনির নেতৃত্বেই ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ২০১৩ তে জিতেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপাও।

এবাদত হোসেন চৌধুরী

১৯৯৪ সালে মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করা এবাদত হোসেন চৌধুরী ২০১২ সালে ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন বিমানবাহিনীতে। ২০১৬ সালের শুরুতে দেশব্যাপী আয়োজিত রবি পেসার হান্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এবাদত। এরপরেই আসেন আলোচনায়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০১৬ সালেই অভিষেক হয় তার। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার পর ডাক পান জাতীয় দলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১৯ সালে, টেস্টে।

সালাউদ্দিন শাকিল

বাংলাদেশি এই সংগ্রামীর নামটাও উল্লেখ করা যাক। ২০০৬ সালে সালাউদ্দিন শাকিলের বন্ধুবান্ধবরা যখন এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে বাধ্য হয়েই দেশ ছাড়তে হয় শাকিলকে, দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে। দুবাইয়ের প্রবাসী শ্রমিক ক্যাম্পে দিনরাত হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে জীবন পার করতে হত শাকিলকে। দুবাইয়ের মরুভূমির মাঝে প্রচন্ড গরমে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন শাকিল। চার বছর পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় শাকিলের, দেশে ফিরে আসেন তিনি।  এরপর বিভিন্ন ক্রিকেট একাডেমী, ক্যাম্প, কোচদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্রিকেটেই গড়ে তুলেছেন ক্যারিয়ার। একসময় দুবাইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করা শাকিলই এখন বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। ২০১৮ সালে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট অভিষেক হয় শকিলের, একই বছর অভিষিক্ত হন লিস্ট এ ক্রিকেটেও। ১৮টি ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ৪৭টি। আর লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে ১৯ ম্যাচে ২৬ উইকেট। এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখতে না পারলেও নিয়মিতই খেলে যাচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। একসময় দুবাইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করা শাকিলের জন্য এটা মোটেও কম কোনো অর্জন নয়।

  • রাইসান কবির

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।