মজিদের ব্যাটিং আর স্পিনে ধরাশায়ী মোহামেডান

ব্যাটিংয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিতে সাহায্য করে ওপেনিংয়ে আব্দুল মজিদের ৭০ রানের ইনিংস। বোলিংয়ে দুই স্পিনার আসিফ হাসান আর মোশাররফ হোসেন রুবেল মিলে আটকে দেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। ২৩১ রানের মাঝারি স্কোর দাঁড় করিয়েও ৬২ রানের জয় পায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। 

টস হেরের প্রথমে ব্যাটিং করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। শুরুর দিকে মন্থর গতিতে ব্যাটিং করছিলেন দুই ওপেনার। আব্দুল মজিদ ও সালাহউদ্দিন পাপু মিলে রান তুলছিলেন ধীরলয়ে। তাদের জুটি ভাঙেন মোহামেডানের বাঁহাতি ফাস্ট বোলার কাজী অনিক। ৩৭ বলে ২২ রান করা সালাহউদ্দিন পাপ্পু ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে ইরফান শুক্কুরকে। নিজের পরের ওভারে পাকিস্তানের সামি আসলামকেও (১) ফেরান কাজী অনিক। তিনিও ক্যাচ দেন ইরফানকে।

Advertisment

৫২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে চাপ থেকে মুক্ত করে আব্দুল মজিদ আর নাঈম ইসলামের ৮০ রানের জুটি। তবে রানের গতি নিয়ন্ত্রণে ছিল মোহামেডানের বোলারদের। ৫১ বলে ৩৬ রানের বাউন্ডারিবিহীন ইনিংস খেলে এনামুল হকের বলে বোল্ড হন রূপগঞ্জ। ঐ ওভারে আব্দুল মজিদকেও ফেরান এনামুল। ৩ চার ও ৩ ছক্কার সাহায্যে ১১৫ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন মজিদ। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে আবারো চাপে পড়ে  লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

এবার ত্রাতা রূপে আবির্ভূত হন তুষার ইমরান এবং অভিষেক মিত্র। দুজন মিলে গড়েন ৮২ রানের জুটি। এ জুটিতে চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। কাজী অনিকের শিকার হওয়ার আগে ৫ চারে ৪০ রানের সময়োপযগী ইনিংস খেলেন তুষার ইমরান। ৪ চারে ৪৫ বলে ৪৫ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অভিষেক মিত্র। ইনিংস শেষে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

ইনিংসের শেষ ওভারে নাজমুল হোসেন মিলনকে ক্যাচ আউট এবং মোহাম্মদ শহীদকে বোল্ড করেন কাজী অনিক। প্রথমবারের মতো লিস্ট-এ ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট শিকারের স্বাদ পান এ বাঁহাতি পেসার।

২৩২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ঠিকঠাক হয়েছিল মোহামেডানের। দুই ওপেনার মোহামেডানকে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু তাতে সৌধ গড়তে পারেননি মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা।  ওপেনিং জুটিতে পাকিস্তানের সালমান বাট এবং রনি তালুকদার মিলে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। তাদের এ জুটি ভাঙেন স্পিনার আসিফ হাসান। এলবিডব্লিউ করেন রনি তালুকদারকে। ৬ চারের সাহায্যে ৩৭ বলে ৩০ রান করেন রনি তালুকদার।

রনির বিদায়ের পর রানের গতি কিছুটা কমে আসে মোহামেডানের। আরেক ওপেনার সালমান বাটও হন আসিফের শিকার। দলীয় ৫৭ রানের মাথায় আসিফ হাসানের বলে স্টাম্পিং হন বাট। ৪৯ বলে ২১ রানের মন্থর ইনিংস খেলেন তিনি। অধিনায়ক শামসুর রহমান ও ইরফান শুক্কুর মিলে ৩৯ রানের জুটি গড়েন। এ জুটি ভাঙেন মোশাররফ। শুক্কুর ৩৪ বল খেললেও রান করেন মাত্র ১৯। আমিনুল ইসলামের সাথে শামসুরের জুটিটা দীর্ঘ হয়নি। দলীয় ১২১ রানের মাথায় বিদায় নেন শামসুর। তাকে বোল্ড করেন আসিফ হাসান। ৫৩ বলে ৩৪ রান করেন তিনি।

শামসুর রহমানের বিদায়ের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মোহামেডান। নিয়মিত বিরতিতে হারাতে থাকে উইকেট। শেষ সাত উইকেটের পতন ঘটে ৫৮ রানে।

শামসুরের বিদায়ের পরের ওভারেই আমিনুল ইসলামকে বোল্ড করেন মোশাররফ। ১২৪ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় মোহামেডান। মোহামেডানের শেষ ভরসা ছিলেন রকিবুল হাসান। এনামুল হককে সাথে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন রকিবুল হাসান। তবে রানের গতি বাড়াতে পারছিল না মোহামেডান। মাথার ওপর আস্কিং রান রেটের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

৪১ তম ওভারে এনামুলকে ফিরিয়ে দেন পেসার মোহাম্মদ শহীদ। পরের বলেই শহীদ আউট করেন মোহাম্মদ নাইমকে। দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে  তাইজুল ইসলাম। রকিবুলকে সঙ্গ দিতে পারেননি কাজী অনিকও। ৮ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন মোশাররফ হোসেনের বলে। ঐ ওভারে রকিবুলকেও ফিরিয়ে দেন মোশাররফ। পরের ওভারে মোহাম্মদ শহীদ ইবাদত হোসেনকে ০ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে মোহামেডানকে গুটিয়ে দেন। মাত্র ১৬৯ রান করেই অলআউট হয় মোহামেডান।

চার উইকেট শিকার করেন মোশাররফ হোসেন। তিনটি করে উইকেট লাভ করেন আসিফ হাসান এবং মোহাম্মদ শহীদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ২৩১/৭, ৫০ ওভার
মজিদ ৭০, অভিষেক ৪৫*, তুষার ৪০
কাজী অনিক ৫/৪৪, এনামুল ২/৩৮

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১৬৯, অল আউট, ৪৪.৩ ওভার
শামসুর ৩৪, রকিবুল ৩২, রনি ৩০
মোশাররফ ৪/২৩, শহীদ ৩/৩৩, আসিফ ৩/৩৭

ম্যাচসেরা ঃ আব্দুল মজিদ

আরো পড়ুনঃ কাপালির অলরাউন্ডিং পারফরমযান্সে রূপগঞ্জের জয়