Scores

মনে পড়ে টাইবু, হোন্ডো ও মাতসিকেনেরিদের কথা?

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত কিছু ম্যাচ, ঘটনা ও খেলোয়াড়দের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য-ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় ও সেই সিরিজের কিছু খেলোয়াড়ের কথা।

মনে পরে টাইবু, হোন্ডো ও মাতসিকেনেরিদের কথা
ছবি : ২০০৫ সালে ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজের আগে ড্রেসিংরুমে জিম্বাবুয়ে দল।

 

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরও বাংলাদেশের নিজেদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জেতার জন্য লম্বা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ দল নিজেদের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের পর নিজেদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজও জয় করে কিছুদিনের মাঝেই। তবে সেই ওয়ানডে সিরিজ জয় এতটা সহজ ছিলোনা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ওয়ানডেতে বাজেভাবে শুরু করে বাংলাদেশ।

Also Read - রোহিতের অভিযোগের প্রতিবাদ করলেন ধাওয়ান


ঢাকায় প্রথম ওয়ানডেতে ডগলাস হোন্ডোর বোলিং তোপে জিম্বাবুয়ের ২৫১ রানের জবাবে বাংলাদেশ ২২৯ রানের বেশি করতে পারেনি। ডগলাস হোন্ডো সেই সময় জিম্বাবুয়ের অন্যতম সেরা একজন বোলার ছিলেন।

২য় ওয়ানডেতে চট্টগ্রামেও বাংলাদেশকে রান তাড়া করতে নেমে হারতে হয়। বার্নি রজার্সের দারুন ইনিংসে বাংলাদেশ ২-০ তে পিছিয়ে যায়। সিরিজ হার যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিলো তখন ৩য় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে আশা দেখান প্রয়াত মাঞ্জারুল ইসলাম রানা। রান তাড়া করতে নেমে রানার বোলিং তোপে কুপোকাত হয় বাংলাদেশ। ৪ উইকেট নিয়ে রানা বাংলাদেশকে ম্যাচ জিতানোর পাশাপাশি ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতেন।

চতুর্থ ওয়ানডেতে আবারো রানার বোলিং তোপে পরে জিম্বাবুয়ে। আবারো রানা ৪ উইকেট নেন, আবারো বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ও আবারো রানা ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেন। সিরিজ হারের মুখ থেকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনেন রানা।

টানটান উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরী হয় সিরিজের শেষ ওয়ানডের আগে। ২-২ এ সমতা, সবগুলো ম্যাচ আগে ব্যাট করা দল জয় লাভ করেছিলো। শেষ ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের বোলারদের সম্মিলিত ভালো বোলিংয়ে ১৯৮ রানের বেশি করতে পারেনি। রান তাড়া করার শুরুতেই চমক দেখায় বাংলাদেশ। নাফিস ইকবালের সাথে ওপেনিং করতে আসেন দলের অন্যতম সেরা স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। নাফিস শুরুতেই আউট হলেও ব্যাট হাতে তান্ডব চালান মোহাম্মদ রফিক। রফিক ৭২ রান করে আউট হলেও অপরাজিত থাকেন তার সঙ্গী আফতাব আহমেদ। আফতাব ৮১ রান করেন। ২ উইকেট হারিয়েই ম্যাচ ও সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। দেশ জুড়ে উল্লাস করেন ক্রিকেট ভক্তরা।

সেই সময়ের জয়ের সাথে এই সময়ের জয়ের তুলনা ঠিক হবেনা। এখন যেমন লিটন, তামিমরা একাই যথেষ্ট জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে দেওয়ার জন্য সেই সময় ব্যাপারটা এমন ছিলোনা। জিম্বাবুয়ে দলও তখন শক্তিশালী ছিলো। টাটেন্ডা টাইবু, মাতসিকেনেরি, ডগলাস হোন্ডে, বার্নি রজার্স, ক্রিস্টোফার এমপফু, ডিওন ইব্রাহিম, ভুসি সিবান্দা, এনকালা এই নামগুলো মনে পরে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের? জিম্বাবুয়ে দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন এই খেলোয়াড়রা তখন। এই প্রজন্মের অনেকেই তাদের না চিনলেও সেই সময়কার ম্যাচগুলো যারা দেখেছিলেন তাদের নিশ্চয়ই মনে পরার কথা এই খেলোয়াড়দের কথা।

এখন সেই ২০০৫ সালের মতো বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে সিরিজের আমেজ নেই। জিম্বাবুয়েকে বলে কয়েই হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ দল ঘরে – বাইরে। তবে ভক্তদের মনে সেই দলের স্মৃতি অবশ্যই থাকবে সবসময়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ছাড়া বাকিদের বিপক্ষে যেনো ভালো করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট এটাই হয়তো প্রত্যাশা থাকবে সকলের।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

পর্ব ৩ : আ’ত্মহত্যায় চিরবিদায় নেওয়া ক্রিকেটাররা

ক্রিকেটভক্তদের আবারও দুঃসংবাদ দিল ভারত

নাসিরের শটে দাঁত ভাঙে মেথের, রান নিতে চাননি রিয়াদ

বাতিল হল জিম্বাবুয়ের পুরো মৌসুম

ভবিষ্যতেও মাশরাফিকে মাঠে দেখতে চান টেলর