আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে ঘরছাড়া করেছেন অপু

0
613

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। ঘরবন্দি জীবনযাপনের ফলে প্রয়োজনীয় খাবার জুটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সেসব মানুষের পাঁশে দাঁড়িয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। যেখানে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন তামিম ইকবালকে। তবে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করতে গিয়ে রীতিমত ঘরছাড়া হয়েছেন অপু।

নাজমুল অপুর হাতে সেলাই লাগল ২৫টি!

Advertisment

বন্দরনগর ও শিল্প এলাকা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা নারায়ণগঞ্জে লাখ লাখ শ্রমিকের বসবাস। অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই শহরে এসেছেন জীবিকার জন্য। চলমান পরিস্থিতিতে প্রায় গোটা দেশেই লকডাউন চলছে। ফলে নিজেদের খাবারের জোগান দিতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে দিনমজুরদের।





সেসব মানুষের কথা চিন্তা করে এগিয়ে এসেছেন নারায়ণগঞ্জেরই বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার অপু। রাজধানী ঢাকার পর কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি যেখানে, সেই নারায়ণগঞ্জে নিজ হাতে সব কাজ সারছেন তিনি।

নিজে বাইরে থাকছেন জন্য দীর্ঘদিন পরিবারের কাছেও ফিরছেন না টাইগারদের জার্সিতে সর্বমোট ১৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে এই ক্রিকেটার। আপাতত একটা স্টোর রুমে কোনরকমে রাত কাটাচ্ছেন অপু।






এ প্রসঙ্গে বিডিক্রিকটাইমকে অপু বলেন, ‘আসলে মাঠে কাজ করতে একটু ঝুঁকি মনে হচ্ছে। তবে জায়গা নিয়েই কাজ করছি। রাতে যখন খাবারগুলো নিয়ে যায় তখন মানুষজন বুঝতে পারে। তখন বাচ্চাগুলো এসে জড়িয়ে ধরে, ওরা তো আসলে বুঝে না ভাইরাস কি! তখন একটু ভয় লাগে, মনে হয় এবার বুঝি আমারও হয়ে গেল।’

‘আমাদের বাসাটা ৩ তলা। নিচে একটা স্টোর রুমের মতো আছে। অনেকদিন ধরেই আমরা কয়েকজন ওই স্টোর রুমে আছি। নিজের রুমে আর যাচ্ছি না। আমরা তো সরজমিনে কাজ করছি। তো পরিবারকে যদি ঝুঁকি মুক্ত রাখা যায়, এটা ভেবে আমরা ১৪ থেকে ১৫ জনের মত একেবারে আলাদা আছি।’ সাথে আরও যোগ করেন তিনি।

ঝুঁকি আছে জেনেও এরই মধ্যে ৭০০ দরিদ্র পরিবারকে খাবার দিয়ে সহায়তা করেছেন আপু। সেখানে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন তামিমকে। পাশাপাশি গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) অর্থাৎ তৃতীয় রোজার দিন অসহায় ও ভুক্তভোগী ১৮০০ রোজাদারের কাছে ইফতার পৌঁছে দেন অপু। এখানেও আর্থিকভাবে শামিল হয়েছিলেন তামিম।

অপু জানান, ‘প্রথম রোজায় তামিম ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম। বললাম ভাইয়া, এখন যে অবস্থা তাতে মানুষের ঠিকঠাক খাবার ম্যানেজ করা কষ্টকর। এমন সময়ে চাইলেও ইফতারের জন্য আলাদা করে কিছু করতে পারবে না। তো আমি চাচ্ছিলাম একদিন ইফতারের ব্যবস্থা করতে। তারপর ভাইয়া বলছে দেখ যদি সম্ভব হয় তাহলে করা যায়।’

তামিমের সাহসে এগিয়ে চলা জানিয়ে অপু বলেন, ‘এদিকে আমি বন্দবস্ত করে তামিম ভাইকে ফোন দিলে তামিম ভাই বললো কর। এতে আমি সাহস পেলাম। আমরা যখন কেনাকাটা করছিলাম, তখন ভাই রাত দেড়টার দিকে ফোন দিলো। বলে যাই করিস, সামনে খেলাধুলা খেলতে হবে, সুস্থ থাকার চেষ্টা করিস।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।