মাশরাফিকে আদর্শ মেনেই এগোনোর প্রত্যয় অভিষেকের

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে প্রথম সুযোগ পেয়েই তা করে রেখেছেন অবিস্মরণীয়। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে শিকার করেন ৩টি মূল্যবান উইকেট। অনূর্ধ্ব ১৯ পেরোতেই পড়েছেন চোটের কবলে। বলছিলাম মাশরাফি বিন মুর্তজার শহর থেকে উঠে আসা যুব বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অভিষেক দাস অরণ্যর কথা। বিডিক্রিকটাইমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিষেক জানিয়েছেন, মাশরাফি আদর্শ মেনেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে প্রথম সুযোগ পেয়েই তা করে রেখেছেন অবিস্মরণীয়। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে শিকার করেন ৩টি মূল্যবান উইকেট। অনূর্ধ্ব ১৯ পেরোতেই পড়েছেন চোটের

ক্রিকেটসহ আরও কয়েকটি খেলায় বাংলাদেশ দলের অধিনায়কদের বাড়ি নড়াইলে। তাই নড়াইলকে অধিনায়কদের শহরও বলা হয়। সেই শহরেই জন্ম, বেড়ে ওঠা, ক্রিকেটে হাতেখড়ি অভিষেকের। নড়াইল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বিশ্বকাপ জয়, স্বপ্নের মতোই এক যাত্রা ছিল। সে যাত্রায় অভিষেকের অনুপ্রেরণা ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহাতারকা মাশরাফি।

Also Read - জোড়া অর্ধশতক হাতছাড়ার পরও বড় লিডের পথে টাইগাররা


মাশরাফির মাঠের ও মাঠের বাইরের পারফরম্যান্স, পরিশ্রম, অধ্যবসায় দেখে সবসময়ই শেখার চেষ্টা করেন অভিষেক। প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘আমার ক্রিকেটের শুরু হচ্ছে মাশরাফি ভাইকে দেখে। আমি ছোটবেলা থেকেই উনাকে দেখে (ক্রিকেট) শুরু করেছি। উনার থেকে অনেক উৎসাহ পাই যেকোনো বিষয়ে। উনার মাঠের পারফরম্যান্স বা বাইরের, সবকিছু দেখেই চেষ্টা করি শেখার জন্য।’

মাশরাফির ক্যারিয়ারের সোনালি সময়গুলো চলে গিয়েছে ইঞ্জুরির কবলে। অভিষেকও অনূর্ধ্ব ১৯ শেষ করতে না করতেই পড়েছেন চোটের কবলে। পিঠের ব্যথায় ভুগছেন তিনি। এই চোট থেকে সুস্থ হতে উঠতে বিশ্রাম নেওয়ার বিকল্প নেই বলে জানান অভিষেক। বিসিবির তত্ত্বাবধানেই চলছে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। তার সতীর্থ শরিফুল ইসলাম এখন জাতীয় দলের সাথে নিউজিল্যান্ডে, আকবর আলি, পারভেজ হোসেন ইমন, তানজীদ হাসান তামিমসহ দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই আছেন খেলার মধ্যে। কিন্তু ইঞ্জুরি ছিটকে দিয়েছে অভিষেকটা। এই সময়টা খুবই কঠিন বলে স্বীকার করেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

অভিষেকের ভাষায়, ‘অনূর্ধ্ব ১৯ শেষ করেই ইঞ্জুরিতে পড়লাম। এই সময়টা বেশ কঠিন। তবে চেষ্টা করছি নিজেকে কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে ধাপে ধাপে এগোনো। যেখানে সুযোগ পাই খেলার চেষ্টা করব। বিসিবি যেভাবে পরিকল্পনা করবে সেভাবেই এগোনোর চেষ্টা করব।’

পেস বোলিংয়ের সাথে সাথে ব্যাটিংটাও ভালো করেন অভিষেক। নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ দলের মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের যোগ্যতম উত্তরসূরি হতে পারেন এই ক্রিকেটার। তিনিও স্বপ্ন দেখছেন চোট থেকে ফিরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) খেলার। ইতোমধ্যে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে (ডিপিএল) খেলেছেন তিনি।

তার বাল্যকালের কোচ তুহিন জানাচ্ছিলেন ছোট থেকেই অভিষেককে নিয়ে তাদের আশার পারদ বড় ছিল। সময়ের সাথেসাথে সেটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অভিষেক সেটা পূরণও করতে পেরেছেন। তবে অভিষেককে তাদের স্বপ্নটা আরও অনেক বড়। ছোট থেকে বিভিন্ন ম্যাচে অভিষেক অধিনায়কত্ব করেছেন বলেও জানান তার কোচ।

নড়াইলে অভিষেকের সতীর্থ ও বন্ধু বাপ্পী ভট্টাচার্য জানান, বোলিংয়ের সাথেসাথে অভিষেক ব্যাটিংটাও করেন দারুণ। ব্যাটিং নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ পেলে দুর্দান্ত একজন অলরাউন্ডার হতে পারেন অভিষেক। উল্লেখ্য, বাপ্পী ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ প্রিমিয়ার লিগে খেলে থাকেন এবং তৃতীয় বিভাগে এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬৬ উইকেট শিকার করে ২৪ বছরের রেকর্ড ভাঙেন তিনি।