Scores

মাশরাফি : চিরদিনের নায়ক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের  প্রার্থী হিসেবে অংশ নিবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র মাশরাফি বিন মুর্তাজা।

মাশরাফি : চিরদিনের নায়ক

মাশরাফি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শতভাগ নিবেদন দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। তার দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে হয়ে উঠেছে শক্তিধর দলগুলোর মাঝে একটি।

পা বেশ কয়েকবার গিয়েছে কাঁচির নিচে। চোট জর্জরিত পায়ের কারণে টেস্টে তিনি বিবেচনার বাইরে। আন্তর্জাতিক টি-২০ থেকেও অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতেই খেলেন তিনি। ওয়ানডেতে তিনিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার। একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার ছাড়াও, তিনি একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা। বলা হয়ে থাকে তিনি একজন ভালো মানুষও।

Also Read - কমনওয়েলথ গেমসে ফিরছে ক্রিকেট!


ধারণা করা হচ্ছে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা শেষ পর্যায়ে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলেই হয়তো ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন তিনি।

এমন সময়ে তার সরকারী দলের হয়ে রাজনীতিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত অনেক মতভেদের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ ইচ্ছে করেই সৃষ্টি করেছে নানান বিতর্ক।

 

মাশরাফি বাংলাদেশের একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক। তিনি সরকারী চাকুরীজীবী নন এবং তিনি সরকারের সংবিধিবদ্ধ কোথাও কর্মকর্তা হিসেবে কাজও করছেন না। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে একজন ক্রিকেটারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো ধরনের বাধা নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। সামাজিক নানান কার্যক্রম এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মেনে চলা মাশরাফি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।

তিনি ইতোমধ্যেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি কেন রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন এবং এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ দেখতে পাচ্ছেন।  তিনি এটাও বলেছেন যে ক্যারিয়ারজুড়ে ক্রিকেটে তিনি তার সবটুকুই দিয়েছেন।

তিনি এটাও বলেছেন ক্রিকেটার হিসেবে তিনি মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে খেলাধুলায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। কিন্তু মনের ভেতর তার এদেশের দুঃখী ও গরীব মানুষদের সেবা করার ইচ্ছা সবসময়ই ছিল। নড়াইল জেলার উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন তিনি। এ উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি প্রতিশঠা করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এবং নানা ধরণের মানুষকে ও সামাজিক সংগঠনকে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের হয়ে মাশরাফির নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সব বাংলাদেশিকে খুশি করতে পারেনি। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ রাজনীতিতে মাশরাফি যে দলের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমাদের দেশের প্রত্যেকে সে দলের অনুসারী নয়। কিন্তু তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন তাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলা হবে? মানুষ কীভাবে বাংলাদেশের জন্য তার অবদান ভুলে যেতে পারে?

মাশরাফি : চিরদিনের নায়ক

একজন মানুষ যার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে দৌড়ানোটাও কষ্টকর তিনি বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঐ চোট জর্জরিত পা নিয়েই নেতৃত্ব দিচ্ছেন কঠিন সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। কি দারুণভাবেই দলকে একত্রিত করেছেন তিনি! দলের প্রত্যেকের মাঝ থেকে তার সেরাটা আন্ততে তিনি অনুপ্রেরনা দেন। মানুষ অবশ্যই তার এ অতুলনীয় অবদানকে এত সহজে মূল্যয়ন করতে পারে না।

অনেকেই মনে করেন অবসরের পর মাস রাফির রাজনীতিতে যোগদান করা উচিত ছিল। যদিও কিছু তারকা ক্রিকেটার এর আগে ক্রিকেটার থাকাকালীন রাজনীতিতে জড়িয়েছিলেন। মাশরাফি ইমরান খানের মতো কোনো ফুর্তিবাজ ক্রিকেটারও না। ইমরান খান এবং তার রাজনীতির সাথে মাশরাফির তুলনা একমাত্রা বোকারাই করবে। 

মাশরাফি নিশ্চয়ই ২০২৪ সাল পর্যন্ত খেলবেন না যখন পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ এতটাই অদ্ভুত যে মানুষ একজনের অবসারের পর তার অবদান সব ভুলে যায়। কয়জন মানুষ আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ওমর খালেদ রুমি কিংবা জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাদের মনে করেন? সব পরিস্থিতি এবং অবস্থা বিবেচনা করে মাশরাফির এখন রানীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার মতামত অনুসারে সঠিক।

আমরা সবাই জানি, তিনি নানান সামাজিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি নড়াইলে অনেক কাজ করছেন এবং নড়াইলকে মডেল হিসেবে দাঁড় ক্রানোর স্বপ্ন রয়েছে তার। মাশরাফি একজন সৎ, পেশাদার ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ব্যক্তি। বাংলাদেশে মাশরাফির মত মানুষদের রজানীতিতে আশা প্রয়োজন।

এবার আসা যাক এ ব্যাপারে যে মাশরাফি কেন আওয়ামী লিগের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন? মাশরাফি বারবার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তার মনে গভীর সম্মান রয়েছে। বাংলাদেশের আর কোন দল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি এতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ?

তার নিজের কথাগুলো আমার মনে প্রতিধ্বনিত হয়। তিনি বলেছিলেন “আমাকে কিছু মোহ শেষ করতে দিন। আমরা বিনোদন দেই। আমরা বীর নই। বীর হলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। আমরা জাতির জন্য কিছুই উৎসর্গ করিনি। মুক্তিযোদ্ধারা করেছিলো। আমাকে ভুল বুঝবেন না, ক্রিকেট সবকিছু নয়। আমরা যেটা করি তা হলো আনন্দ বয়ে আনার চেষ্টা করি”।  এমন কথা যিনি বলেন তার রাজনীতিতে যোগদান রাজনীতিকে সমৃদ্ধই করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আর কে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য এর চেয়ে বেশি কাজ করেছেন? সবকিছু বিবেচনা করে আমি মনে করি মাস রাফি অস্টহিক সময়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কিরকেটের প্রতি তার যে নিবেদন, হয়তো আইসিউ থেকে এসে কিনবা এক পায়ে খেলার সুযোগ থাকলেও মাশরাফি বাংলাদেশের হয়ে নিজেকে উজাড় করে দিবেন।  আমি নিশ্চিত তার নির্বাচনী প্রাচারণা কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব কোনোকিছুই তাকে বাংলাদেশের হয়ে একই তেজ নিয়ে খেলার পথে অন্তরায় হবে না।

মাশরাফিকে জানাই শুভকামনা। ক্রিকেটের জন্য এবং জাতীয় রাজনীতির জন্য। একজন নায়ক সবসময়ই নায়ক থাকেন। আর মাশরাফি একজন নায়ক।

লেখাটি অনূদিত।  মূল লেখা- সালেক সুফি। লেখাটি একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত মতামত।


আরো পড়ুনঃ রেকর্ড কিংবা সাকিবের তুলনা— কোনোটিই নেই তাইজুলের ভাবনায় 


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

হারিয়ে না যাক নাঈম হাসান

‘হাথুরুসিংহেকে ক্ষমতা দেওয়াই বুমেরাং হচ্ছে’

মতামতঃ আমরা কি নারী ক্রিকেটের সম্ভাবনাকে অংকুরেই বিনষ্ট করে ফেলছি?