মাহমুদুল্লাহ দাপটে শেখ জামালের উত্থান

সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাবকে ওয়ালটন ঢাকা ডিভিশনাল প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ ২০১৫-১৬ আসরে পঞ্চম জয় পেতে সাহায্য করেছেন। মাহমুদুল্লাহর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ব্রাদার্স ইউনিয়ন কে ১১ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল। এই ম্যাচে জয়’ই নয় প্রাপ্তির খাতায় আরো যোগ হয়েছে পয়েন্ট টেবিলে ভিক্টোরিয়াকে সরিয়ে দিয়ে চতুর্থস্থানে উঠে আসার পাশাপাশি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের লিস্ট-‘এ’ ক্যারিয়ারের পাঁচ হাজার রান পূরণের সুখকর মুহূর্ত।

প্রথমে ব্যাট করতে গিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি শেখ জামালের। ১৭ রানে জয়রাজের পর দলীয় ৫২ রানে মামুনের উইকেট হারায় তারা। তবে ৩য় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মার্শাল আইয়ুব দলকে শক্ত ভীত গড়ে দেন। ২৫.৩ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করার পর ৭২ বল মোকাবেলায় অর্ধ-শতক পূর্ণ করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১১৯ রানের মূল্যবান এই জুটিতে অর্ধ-শতকের দেখা মার্শাল আইয়ুবও। তবে নাবিদ সামাদের বলে আউট হলে ৫৪ রানেই থামতে হয় মার্শালকে।

মার্শালের ফিরে যাওয়ার পর লিস্ট-এ” ক্যারিয়ারে ৫হাজার রান স্পর্শ করার পাশাপাশি মাহমুদুল্লাহ তুলে নেন চলতি ডিপিএলে তার দ্বিতীয় শতক। ৫ চার আর ৩ ছয়ে ১০৭ রান করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ  ৪৭.৫ ওভারের সময়  দলীয় ২৩৬ রানে ফিরে যাওয়ার পর আর বেসঝি দূর এগোতে পারেনি শেখ জামাল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে থামে ২৫২ রানে। ব্রাদার্সের পক্ষে সঞ্চিত সাহা ৩টি ও নুর-আলম ২টি উইকেট নেন।

Also Read - রাজিন সালেহের সেঞ্চুরিতেও হার ক্রিকেট কোচিংয়ের


জবাবে, দারুণ শুরু করে ৪৪ রানের সময় সজফিউল ইসলামের বলে শাহরিয়ার নাফীস ফিরে গেলেও, দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১০০ রান যোগ করে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান এই  দুই ক্রিকেটার। জয়ের পথে ব্রাদার্স ইউনিয়ন থাকলেও ম্যাচে টিকে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে শেখ জামালের বোলাররা। ম্যাচে লেগে থাকার সাফল্যো পায় তারা। তুষার ইমরান কে  ৫৫ রানে সোহাগ গাজীর ফিরিয়ে দেওয়ার পর ৭০ রান করা  ইমরুল কায়েস কে মাহমুদুল্লাহ ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার শেখ জামালের হাতে নিয়ে আসে।

ব্যাট হাতে শতক হাঁকানোর পর বল হাতেও জাদু দেখাতে থাকেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার ঘূর্ণি জাদুতে কাবু হয়ে লন্ড-ভন্ড হতে থাকে ব্রাদার্স শিবির। ইমরুলের পর নুর আলম ও জাকির হোসেনের উইকেট নিয়ে ম্যাচে আদিপত্য এনে দেন শেখ জামালকে। পরবর্তীতে আর কোন ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে ঠিক যেমন প্রয়োজন ছিল সেভাবে দাঁড়াতে না পারলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। এই হারের ফলে সুপার সিক্সে খেলার সমীকরণ অনেকটাই কঠিন হয়ে গেন ব্রাদার্সের জন্য।

সংক্কিপ্ত স্কোরঃ

শেখ জামালঃ ২৫২-৮ (৫০ ওভার)
মাহমুদুল্লাহ ১০৭, মার্সাল ৫৪; সঞ্জীত ৬৯-৩

ব্রাদার্স ইউনিয়নঃ ২৪১-৮ (৫০ ওভার)
ইমরুল ৭০, তুষার ৫৫, মাহমুদুল্লাহ ২৯-৩

ফলাফলঃ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১১ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরাঃ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

-ইমরান হাসান, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটিম ডট কম

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন