Scores

মিরপুরেই কি খুলবে রাজ্জাকের কপাল?

সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম টেস্টের দলে অনেকটা চমক জাগিয়েই জায়গা করে নেন স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। সাড়ে তিন বছর পর ডাক পেয়েও মূল একাদশে জায়গা হয়নি তার। বরং তুলনামূলক নবীন এবং ওই টেস্টেই অভিষিক্ত স্পিনার সানজামুলের কাছে জায়গা হারান তিনি। ড্র টেস্টে সানজামুলের প্রাপ্তি ১৫৩ রান দিয়ে এক উইকেট। ফলে পরের টেস্টে তার স্থলে রাজ্জাকের টেস্ট একাদশে ফেরা অনেকটাই উজ্জ্বল।

চট্টগ্রাম টেস্টের দলে রাজ্জাক

গতকাল (৪ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা হারিয়েছেন সানজামুল এবং পেসার রুবেল হোসেন। আর দলে যুক্ত হয়েছেন ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। সানজামুলের বাদ পড়াটা স্বাভাবিক। কারণ, চট্টগ্রামের স্পিন বান্ধব পিচে ১৫৩ রান দিয়ে এক উইকেট লাভ করেন তিনি। শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে যেখানে দলের অধিনায়ক, মূল বোলার এবং অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অনুপস্থিত, সেই ম্যাচে সানজামুলের মতো নতুন খেলোয়াড়ের অভিষেক তাও রাজ্জাকের মতো অভিজ্ঞ বোলারকে বসিয়ে, আশ্চর্যজনক সিদ্ধান্ত বই কি!

Also Read - র‍্যাংকিংয়ে ১২ ধাপ এগোলেন মুমিনুল


 

সানজামুল ইসলাম- ৮৭ নম্বর টেস্ট ক্যাপ!চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে বাংলাদেশের ৮৭তম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক হয় বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামের। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকেই বল হাতে অন্তত ১০০ রান, কিংবা ১৫০ রানের কম খরচ করে উইকেটশূন্য থাকা পঞ্চম বোলার হলেন সানজামুল। এমন একজন বোলারকে দলে নেওয়ার পিছনে টিম ম্যানেজমেন্টের যুক্তি ছিল, সানজামুল খেলার ভিতরে ছিলেন! আর রাজ্জাককে না নেওয়ার পিছনে কারণ হিসেবে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের বক্তব্য, রাজ্জাক অনেকদিন জাতীয় দলের সেটআপে ছিলেন না। তাহলে যিনি এর আগে কখনো টেস্ট খেলেন নি, তার সেটআপ বেশি ছিল?

কদিন আগেই দেশের হয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন রাজ্জাক। ওয়ানডে ক্রিকেটের একসময় নিয়মিত সদস্য রাজ্জাক টেস্টেও বল হাতে খারাপ করেন নি, ১২টি টেস্ট খেলে ১৮ ইনিংসে বল করে ২৩টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ফলে সবাই ভেবেছিলেন দীর্ঘদিন পর দলে ডাক পাওয়া রাজ্জাক চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়েই প্রত্যাবর্তন করবেন। তাছাড়া সাকিবের অনুপস্থিতি এক্ষেত্রে আরও বেশি জওর দেওয়ার মতো ছিল। কারণ রাজ্জাকের অভিজ্ঞতা অনেকদিনের। অথচ সেই টেস্টে সাকিবের বিকল্প হিসেবে কি না রাখা হলো সানজামুলকে!

এদিকে ঢাকা টেস্টেও সাকিবের অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আর সানজামুল বাদ পড়েছেন। ফলে ৩৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনারকে আবারো দেখা যেতে পারে সাদা পোশাকে। সর্বশেষ এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে দেখা গিয়েছিল রাজ্জাককে। ১৫৩টি ওয়ানডেতে ২০৭ এবং ৩৪ টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ উইকেট অর্জন করা রাজ্জাককে টেস্টের মূল একাদশে ফেরা এখন নির্বাচকদের মর্জির উপর নির্ভর করছে।

লাঞ্চের আগেই দুই ওপেনারকে হারাল বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টের পিচ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। শ্রীলংকা দল বলছে, চট্টগ্রামের পিচ নাকি স্পোর্টিং ছিল না। আবার বাংলাদেশ দলের কাছে তা মনে হয়নি। কিন্তু প্রথম টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে দুই দলের ড্র মেনে নেওয়া এবং স্কোর বোর্ডে বাংলাদেশ ৫১৩/১০ ও ৩০৭/৫, শ্রীলংকা ৭১৩/৯ ডিক্লেয়ার, দেখে পিচ স্পোর্টিং ছিল বোলার সুযোগ নেই বল্যেই চলে। চট্টগ্রাম টেস্টে পাঁচ দিনে রান উঠেছে ১৫৩৩! সেঞ্চুরি হয়েছে ৫টি। পাঁচ দিনে উইকেট পড়েছে মাত্র ২৪টি।শুধু রান ফোয়ারা ছুটাবেন ব্যাটসম্যানরা আর বোলারদের নাকের জল, চোখের জল এক হয়ে যাবে এমন পিচ কি করে স্পোর্টিং হয়? ফলাফলের বালাই নেই, শুধু রান বন্যা হবে, কেইবা এমন মরা টেস্ট দেখতে চায়?

গামিনিকে বিসিবির কারণ দর্শানোর নোটিশ

ঢাকার পিচ নিয়েও অনেক সমালোচনা হয়। ত্রিদেশীয় সিরিজে মিপুরের পিচ ছিল আলোচনার ইস্যু। পিচ কিউরেটরকে নিয়েও হয়েছে বিস্তর সমালোচনা। এবার দ্বিতীয় টেস্টের পিচ কেমন হবে সেটাই দেখার। তবে একথা সবাই জানে মিপুরের পিচ ধীর গতির। তার মানে এখানেও স্পিনবান্ধব পিচ হওয়ার সম্ভাবনা। আর তা হলে একাদশে রাজ্জাকের যুক্ত হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। তবে মাত্র একজন পেসার নিয়ে খেলার যৌক্তিকতা সত্যিই অদ্ভুত। শুধু স্পিন আক্রমণ দিয়ে আজকাল একাদশ সাজানো পুরনো মানসিকতারই প্রতিফলন। কেননা, এতে দলের মানসিকতাই থাকে ড্র করা। তাছাড়া লংকানরা এমনিতেই স্পিন ভাল খেলে। আর একমাত্র পেসার হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের উপর চাপটাও বেশি পড়ে।

স্কোয়াডে এতো স্পিনার না নিয়ে একজন বাড়তি পেসার নেওয়া আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য ভাল সিদ্ধন্ত হতে পারে। সেদিক থেকে স্পিনার হিসেবে রাজ্জাকের সাথে মোসাদ্দেক আর মিরাজকে নিয়েই স্কোয়াড গঠন করা যায়। আর পেসার হিসেবে রুবেল অনেক পরীক্ষিত। ইনজুরি আক্রান্ত রুবেলের বিকল্প কে হবেন সেটা নির্বাচকরাই জানেন। তবে দিনের প্রথম এবং শেষ সেশনে পেস বোলিং কার্যকর ভূমিকা পালন করে। জয়ের জন্য আক্রমণের বিকল্প নেই। শুধু ড্র ফলাফল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। দলের ব্যাটসম্যানরা ভাল করছেন। মুমিনুল ইসলাম একাই দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৭৬ ও ১০৫ রান করে রেকর্ড গড়েছেন। বাকিরাও দারুণ খেলেছেন। এবার বোলিং নিয়েও ভাবার সময় এসেছে।

টেস্টে অভিজ্ঞতা অনেক বড় বিষয়। আর টাইগারদের বর্তমান দলে তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ ছাড়া বাকিদের অভিজ্ঞতা নিতান্তই অল্পদিনের। আর মাত্র এক ম্যাচের জন্য সানজামুলকে স্কোয়াডে রাখাটা কাজে আসেনি। সেক্ষেত্রে স্কোয়াডে রাজ্জাকের অন্তর্ভুক্তিই হতে পারে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বহুদিনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রাজ্জাকের প্রয়োজনীয়তা তাই অনস্বীকার্য। নির্বাচকদের কথাইও সেই সুর স্পষ্ট।

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

আরও পড়ুনঃ র‍্যাংকিংয়ে ১২ ধাপ এগোলেন মুমিনুল

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

রাজ্জাকের চাওয়া তিন ধরনের উইকেট

‘বিপ টেস্টে’ ফেল আশরাফুল-নাসির-রাজ্জাকরা

১০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেই মুস্তাফিজের রেকর্ড

রাজ্জাককে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে মুস্তাফিজের অনন্য রেকর্ড

বিশ্বকাপে থাকছেন রাজ্জাক!