মিরাজের চমক, বছরজুড়ে ব্যাটিং ধস

২০১৬ সালে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে তিনটি আর টেস্ট সিরিজ খেলেছে একটি। পুরো বছরের অধিকাংশ সময় ধরেই টি-২০ নিয়ে মেতেছিল টাইগাররা। দুই টেস্টের একটিতে ও নয় ওয়ানডের তিনটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের ফাইনাল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জেতা, তামিম ইকবালের টি-২০ তে শতক সহ বেশ কিছু সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। তেমনি রয়েছে ব্যাটিং ধসের কারণে জেতা ম্যাচ হারার আফসোস।

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-২০ সিরিজ

Also Read - ক্যারিয়ার সেরা র‍্যাংকিংয়ে ইনজুরি থেকে ফেরা মুস্তাফিজ


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ দিয়ে বছর শুরু করে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নেয় টাইগাররা। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে জিতে যায় জিম্বাবুয়ে। সিরিজটি শেষ হয় ২-২ সমতায়। শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে ১৮১ রানের টার্গেট দেয়। জবাবে ১৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। রিয়াদের ৫৪ রানের সুবাদে ১৬২ রান করতে সক্ষম হয়েছিলো টাইগাররা।

এশিয়া কাপের ফাইনাল, আবারো শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ

২০১২ ও ২০১৪ সালের পর টানা তৃতীয় বারের মতো এশিয়া কাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। এবার এশিয়া কাপ হয় টি-২০ ফরম্যাটে। কোয়ালিফাইং রাউন্ড থেকে মূল পর্বে খেলার সুযোগ পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৪৫ রানে হারে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায়। আরব আমিরাতকে ৫১ রানে হারায় টাইগাররা। তৃতীয় ম্যাচে সাব্বির রহমানের দারুণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে লঙ্কানদের হারায় ২৩ রানে। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনাল।

ফাইনালে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয় বাংলাদেশকে। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৮ উইকেটে জয় পায় ভারত।

টি-২০ বিশ্বকাপঃ তামিমের শতক, ভারতের বিপক্ষে ১ রানের আক্ষেপ

 

শতক হাঁকানোর পর তামিমের উদযাপন

 

প্রথম রাউন্ডে দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ রান ও ওমানের বিপক্ষে ৫৪ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তামিম। ওমানের বিরুদ্ধে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-২০ তে শতক তুলে নেন তামিম ইকবাল। আইরিশদের বিপক্ষে ম্যাচ ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে।

সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৫ রানে হেরে যায়। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাজে

আউট হওয়ার পর মুশফিক

ফিল্ডিংয়ের খেসারত দেয়। অজিদের বিরুদ্ধে পরাজিত হয় তিন উইকেটে। তৃতীয় ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলো টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে শেষ তিন বলে দরকার ছিল দুই রান। কিন্তু শেষ তিন বলে কোনো রান নিতে পারেনি বাংলাদেশ, হারিয়েছে তিন উইকেট। এ আক্ষেপ কম পোড়ায়নি বাংলাদেশের মানুষদের।

শেষ ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জ্বলে উঠেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। তবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। সুপার টেনে অধরা থেকে যায় জয়। অভিজ্ঞতা আরো তিক্ত করে দেয় আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হলে। তাদের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হয়েছিলো। বর্তমানে অ্যাকশন শুধরে আবারো ফিরেছেন দুজন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়

সেপ্টেম্বরে তিন ওয়ানডে খেলতে আফগানিস্তান আসে বাংলাদেশে। অনেক দিন পর ওয়ানডে খেলতে নামে বাংলাদেশ। যদিও শক্তিমত্তার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকায় প্রত্যাশিত ফলাফল ছিলো ৩-০ তে সিরিজ জয়। তবে তা হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে সাকিবের অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স ও শেষ ম্যাচে তামিমের ঝলকানিতে ২-১ এ সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ড সিরিজেও ব্যাটিং বিপর্যয়

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ছিলো চোখ পড়ার মতো। প্রথম ম্যাচে স্টোকসের শতকে ৩১০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ইংল্যান্ড। জবাবটা দেয় কায়েসের ১১২। সাকিব করেন ৫৫ বলে ৭৯ রান। তবুও ম্যাচ জিতেনি বাংলাদেশ। এক সময় ২৭১ রানে ছিলো চার উইকেট। সেখান থেকে ৩১০ রান করতে পারেনি তারা। ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ার মিছিলে নামলে ২৮৮ রানেই গুটিয়ে যায়।

দ্বিতীয় ম্যাচেও ছিল ব্যাটিংয়ের দুর্দশা। ১৬৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন বড় স্কোর গড়ে তোলা শঙ্কাতে তখন জ্বলে উঠেন মাশরাফি। তার ৪৪ রানের ইনিংস ও বোলিংয়ে ৪ উইকেট শিকারে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ।

শেষ ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা কিছুটা সুবিধা করতে পারায় ২৭৭ রান করেছিলো বাংলাদেশ। তবে বল হাতে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি বাংলাদেশ। এর সাথে যোগ হয় ক্যাচ ফসকানো। তাই জয়টা পায় ইংল্যান্ডই। এ জয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতে নেয় ইংল্যান্ড।

টেস্ট সিরিজেও ব্যাটিংয়ের দুর্দশা, মিরাজের স্পিনে জয়

 

উচ্ছ্বসিত মিরাজ



ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষে ২ ম্যাচের টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজে ব্যাটিং বিপর্যয় পিছু ছাড়েনি টাইগারদের।

প্রথম টেস্টে অভিষেক হয় মেহেদি হাসান মিরাজের। প্রথম ইনিংসে মিরাজ ছয় উইকেট পান। ২৯৩ রানে অলআউট ইংল্যান্ড। জবাবে ২২১ রানে ৪ উইকেট ছিলো বাংলাদেশের। তবে শেষ ছয় উইকেট বাংলাদেশ হারায় মাত্র ২৭ রানে। উইকেট উপহার দিয়ে আসেন সাকিব, সাব্বির পরাস্ত হন স্টোকসের বলে। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে বিপদে পড়ে সাকিবের বলে। ৫ উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। ২৪০ রানে অলআউট হয় ইংলিশরা। বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৬।

লক্ষ্যর পেছনে ভালোই ছুটছিলো বাংলাদেশ। ২২৭ রানে ছিলো ৫ উইকেট। কিন্তু হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেলা। ২৩৮ রান করতে করতে চলে যায় ৯ উইকেট। একাই লড়েন সাব্বির। ২৬৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় টেস্টে এক ঐতিহাসিক জয় পায় টাইগাররা।  প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবালের শতকের পরেও ২২০ রান করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১৭১/২ থেকে ২২০/১০। জবাবে ২৪৪ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। মিরাজ নেন ছয় উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৬ রান করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে আসে ৭৮।

ব্যাট হাতে দারুণ খেলছিলো ইংল্যান্ড। ১ উইকেটে ছিলো ১০৫। সেখান থেকে হঠাৎ ধস নামান মিরাজ আর সাকিব। ১৬৪ রানেই অলআউট হয় ইংল্যান্ড। মিরাজ ৫ টি ও সাকিব ৪ টি উইকেট নেন।

নিউ জিল্যান্ডেও কাল ব্যাটিং বিপর্যয়


দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম সফর ছিলো নিউ জিল্যান্ডের সফর। সেই সফরেও বাংলাদেশের কাল হয়ে দাঁড়ায় ব্যাটিং বিপর্যয়।

প্রথম ওয়ানডেতে ৩৪২ রান তাড়া করতে নেমে ৪৮ রানেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বাজে ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাট হাতেও চমক দেখাতে পারেননি কেউ। ২৬৪ রান করে থামে বাংলাদেশ। চোট পান মুশফিকুর রহিম।

দ্বিতীয় ম্যাচে ২৫১ রানেই আটকে দেয় নিউ জিল্যান্ডকে। এতে করে ম্যাচ জয়ের আশা জেগে উঠে বাংলাদেশের। তবে এখানেও ব্যাটিং বিপর্যয়। ১০৫ রানে ১ উইকেট থেকে ১৮৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১০৫ রানের মাথায় সাব্বির রহমান রান আউট হওয়ার পর অন্যরাও কেউ দাঁড়াতে পারেননি।

বছরের শেষ দিন শেষ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ।  এ ম্যাচেও ব্যাটিংয়ে ধস টাইগারদের পিছু ছাড়েনি। ওপেনিং জুটিতে ১০২ রান সংগ্রহ করলেও ১৭৯ রানের মাথায় পতন ঘটে সপ্তম উইকেটের। এ ম্যাচে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে হারে।

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম ডট কম 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন