মিরাজ নয়, মাশরাফিকে ওপেনিংয়ে নামতে বলেছিলেন পাপন!

এশিয়া কাপের ফাইনালের মহারনের একদিন আগেই সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, ফাইনাল ম্যাচে এমন একজনকে ওপেনিং করতে দেখা যাবে যাকে এর আগে এই ভূমিকায় দেখা যায়নি। অনেকেই ভেবেছিলেন, অধিনায়ক মাশরাফিই হয়ত লিটন দাসের সাথে নেমে পড়বেন ব্যাট হাতে। তবে সেটি হয়নি। প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের হয়ে লিটনের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধক হিসেবে নেমেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরাজ-মাশরাফির দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সম্মানজনক সংগ্রহ

তবে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দাবি, মিরাজ নামবেন এটি জানতেনই না তিনি। বরং তিনি মাশরাফিকে ব্যাটিং ওপেন করার জন্য নামতে বলেছিলেন বলেও দাবি তার।

মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে পাপন বলেন, মিরাজকে ওপেনিংয়ে নামানো আজব একটি সিদ্ধান্ত ছিল। আমি হকচকিত হয়ে যাই। কারণ আগেরদিন মাশরাফিকে বলেছিলাম ওকে ওপেন করতে।’

Also Read - যতক্ষণ পারো জান দিয়ে খেলবে : বোর্ড সভাপতি

অবশ্য বোর্ড সভাপতির কথার সূত্র খোঁজে ফিরে যাওয়া যেতে পারে ফাইনাল শেষে মিরাজের কথাতেই। ঐ ম্যাচ শেষে মিরাজ জানিয়েছিলেন, মাশরাফিই তাকে বলেছিলেন ম্যাচে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে নামতে, আর মাশরাফির সেই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল ম্যাচের আগের রাতে নৈশভোজের সময়।

ঐ ম্যাচে আঙুলের চোট নিয়ে খেলেছিলেন মাশরাফি। বোলিংয়ের সময় ব্যবহার করেছিলেন ব্যান্ডেজ। ব্যাটিংয়েও স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না, সেটি বোঝা গেছে বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই। তাই এমনও হতে পারে- ব্যাট করার জন্য যথেষ্ট ফিটনেস ছিল না

“মাশরাফি ভাই বললেন- ওপেনিংয়ে নামতে পারবি?”
ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মত ওপেনারের ভূমিকা পালন করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফাইল ছবি

বলেই হয়ত সেদিন বোর্ড সভাপতির পরামর্শ সত্ত্বেও মিরাজকেই ব্যাটিং উদ্বোধন করতে বলেছিলেন মাশরাফি।

তামিম ইকবাল ছিটকে গিয়েছিলেন চোটের কারণে, আসরের শুরুতেই। এরপর ওপেনিংয়ে যাদের অভাব পূরণ করতে মিরাজ সেদিন নেমেছিলেন, তাদের একজন বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকার। আলাপকালে নাজমুল হাসান পাপন কথা বলেন সৌম্যর প্রসঙ্গেও। পাশাপাশি সাব্বির রহমানও মারকুটে ব্যাটসম্যান- এমনটি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সৌম্য কিন্তু ওরকম প্রচুর ইনিংস খেলে আসছে। এখন হচ্ছে না। একেকটা খেলোয়াড়ের এরকম সময় যায়। করব কী! কিন্তু এদের হাতে মারের জোর আছে। সাব্বিরের মারের জোর কম আছে হাতে? কম চেষ্টা তো করলাম না! কথা হচ্ছে যে ও অতীতে ভালো খেলেছে। ও খেলতে পারে। সবাই বলে বিরাট পটেনশিয়াল। এই যে সৌম্য, সাব্বির… এদেরকে তো আমরা সুযোগ দিয়েছি।’

লিটন দাস প্রসঙ্গে বোর্ড সভাপতি বলেন, এখন মনে হচ্ছে ওকে স্কোয়াডে রাখতেই হবে।’

দলে সমস্যা রয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়ে। আরিফুল হক সেই ভূমিকা পালন করতে পারতেন বলে অভিমত নাজমুল হাসান পাপনের। তবে তাকে মাশরাফি বল করার সুযোগ দেবেন না, এমন ‘অদ্ভুতুড়ে’ কথা উল্লেখ করে পাপন বলেন, আরিফুলকে আবার বোলার হিসেবে ধরে না। সে ভালো অলরাউন্ডার কিন্তু মাশরাফি বল করতে দিবে বলে আমার মনে হয় না। এটা একটা ইস্যু- বল করতে দিতে হবে তো।’

এ সময় কথা হয় মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সম্পর্কেও। তরুণ এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাতীয় দলের হয়ে যাত্রা শুরু করলেও টিকতে পারেননি। বিপিএলের মত ঘরোয়া আসরে তার চাহিদা আছে বেশ। তবে বোর্ড সভাপতি জানান, তিনি জানতে পেরেছেন- সাইফউদ্দিন নাকি এখন ঠিকমত বোলিংই করতে পারেন না!

ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার দরকার। প্রথমে আমরা সিলেক্ট করেছিলাম সাইফউদ্দিনকে। ও কিন্তু আমাদের ঐ জায়গার জন্য আদর্শ। হঠাৎ করে ওর বোলিং নাকি এত খারাপ হয়ে গেছে! আমি খালি খোঁজ নেই, ও কই? কী হচ্ছে? যে, ও বল করা ভুলে গেছে। আমি বললাম বল করা ভুলে গেলে আর কী করা যাবে। কারণ আমাদের তো বোলিং অলরাউন্ডার দরকার। ও নাকি বল ফেলতেই পারে না জায়গামত। তাহলে এখন কী করব।’– বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণে এসেছে সাকিবের আঙুলের সংক্রমণ

Related Articles

ধোনির কাছে প্রত্যাশা কমানোর পরামর্শ

“মাশরাফি ভাই বললেন- ওপেনিংয়ে নামতে পারবি?”

শিষ্যদের নিয়ে গর্বিত রোডস

আবারও ভারতের হাতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিংয়ের শিকার লিটন?