মিরাজ-মাশরাফির দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সম্মানজনক সংগ্রহ

দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে শুক্রবারের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৭৩ রানে, ৪৯.১ ওভার ব্যাট করে। শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ব্যাটিং প্রতিরোধ গড়ে না তুললে আরও অল্প রানেই গুটিয়ে যেতে পারত টাইগাররা।

 

Also Read - মাশরাফির দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আগারকার

তামিম ইকবাল না থাকায় এই ম্যাচেও ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নেমেছিলেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচের মত এই ম্যাচেও দুজনই দিয়েছেন ব্যর্থতার পরিচয়। দলীয় ১৫ ও ব্যক্তিগত ৭ রানে ভুবনেশ্বর কুমারের ডেলিভারিকে কেদার যাদবের ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে ফেরেন লিটন। এর কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফেরেন শান্তও, লিটনের মতই মাত্র ৭ রান নামের পাশে রেখে। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে তার শট তালুবন্দী করেন শিখর ধাওয়ান।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর প্রতিরোধ গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তবে ভালো শুরু করেও রীতিমত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন এই দুজনও। দলীয় ৪২ রানে সাকিবের (১৭) উড়িয়ে মারা শট লুফে নেন ধাওয়ান। সাকিবের মত মুশফিককেও (২১) শিকার করেন রবীন্দ্র জাদেজা, যুযবেন্দ্র চাহালের হাতে মুশফিকের ব্যাট ছোঁয়া বল জায়গা করে নিলে। তার আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিফটি হাঁকানো মোহাম্মদ মিঠুনও ধরেন সাজঘরের পথ। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জাদেজা। ইনিংসে দলের একমাত্র রিভিউ নিয়েও সেই যাত্রায় বাঁচতে পারেননি মিঠুন।

ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নেমে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ধীর-স্থির ব্যাটিংয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। তবে ৫১ বলে ২৫ রান করার পর রিয়াদও মিঠুনের মত সাজঘরে ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। রিয়াদ ভুবনেশ্বরের শিকারে পরিণত হওয়ার পরের ওভারেই জাদেজার বলে উইকেটের পেছনে থাকা ধোনির হাতে বল তুলে দেন মোসাদ্দেক। তার আগে ৪১ বলের মোকাবেলায় মাত্র ১২ রান করলেও তার ব্যাটে চড়ে সম্মানজনক সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ।

১০১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ভারত যখন দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করতে মরিয়া, তখন বোলারদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। একপ্রান্ত আগলে রেখে ধীরে খেলে যাচ্ছিলেন মাশরাফি, আর স্ট্রাইক পেলেই মিরাজ খেলছিলেন স্ট্রোক। দুজনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে সম্মানজনক সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে বাংলাদেশ।

তবে ৮ম উইকেটের দারুণ এই জুটি ভাঙে ৬৬ রানের মাথায়। মাশরাফি যখন মারমুখো হতে যাচ্ছেন, তখনই ভুবনেশ্বরের বলে তার স্কুপ লুফে নেন বুমরাহ। তার আগে দুটি ছক্কায় ৩২ বলে ২৬ রান করে মাশরাফি যোগ্য সঙ্গ দেন মিরাজকে। মাশরাফির বিদায়ের একটু পর সাজঘরে ফেরেন মিরাজও। দুটি চার ও দুটি ছক্কায় ৫০ বলে ৪২ রান করার পর বুমরাহর বলে শিখর থামান মিরাজের ইনিংস। শেষ উইকেটে রান যোগ করে শেষ ওভারের প্রথম বলে ভাঙে মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনের জুটি। তাতে সব উইকেট হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৩ রান।

ভারতের পক্ষে জাদেজা দুটি এবং ভুবনেশ্বর ও বুমরাহ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১৭৩/১০ (৪৯.১ ওভার)

মিরাজ ৪২, মাশরাফি ২৬, রিয়াদ ২৫, মুশফিক ২১, সাকিব ১৭

জাদেজা ২৯/৪, ভুবনেশ্বর ৩২/৩, বুমরাহ ৩৭/৩

ভারতের লক্ষ্য ১৭৪ রান।

আরও পড়ুন: ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে একাধিক পরিবর্তন

Related Articles

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ স্টুয়ার্ট ল

বাট-আসিফের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ!

জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রস্তুতি শুরু

এনামুল, মিরাজদের পাশে নাম লেখালেন পৃথ্বী

বাংলাদেশে ভারতের চেয়েও বেশি স্পিনের শঙ্কা হোল্ডারের