Scores

মুদ্রার দুই পিঠই দেখছেন বিজয়

ডিপিএলে কেমন পারফরম্যান্স করছেন বাংলাদেশের ডানহাতি ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়? পরিসংখ্যানের আশ্রয় নিয়ে এ প্রশ্নের জবাবটা দিতে গেলে খানিকটা দ্বিধায় ভুগতে হবে। পারফরম্যান্সের গ্রাফে কখনো রয়েছে আকাশচুম্বী উত্থান, কখনো রয়েছে ভূমিতে পতন। এ ডিপিএলেই টানা তিন শতক হাঁকানো এ ব্যাটসম্যান শেষ চার ইনিংস মিলিয়ে রান করেছেন ৯।

 

মুদ্রার দুই পিঠই দেখছেন এনামুল

Also Read - তামিমের প্রশ্নে ‘বোল্ড’ সাংবাদিক!


টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে বিজয় চওড়া ব্যাট দলকে উপহার দিয়েছে জয়। সুপার লিগে এসে ম্লান হয়ে গিয়েছেন তিনি। বেশ কয়েক ম্যাচ ধরে বিবর্ণ তার ব্যাট।

প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলছেন বিজয়। প্রাইম ব্যাংক এখন পর্যন্ত চলতি ডিপিএলে খেলেছে ১৪টি ম্যাচ। ১৪ ইনিংসে ব্যাট করে বিজয় ৩৯.৬৯ গড়ে রান করেছেন ৫১৬। ১০ ম্যাচ শেষে তার সংগ্রহে ছিল ৫০৭ রান, ছিলেন শীর্ষ রান সংগ্রাহক হওয়ার দৌড়েও। কিন্তু ছন্দপতন ঘটায় পিছিয়ে পড়েছেন সেই দৌড় থেকে। শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তার অবস্থান এখন ছয় নম্বরে। তার চেয়ে ১৯১ রান বেশি করে (৭০৭ রান) বর্তমানে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের রকিবুল হাসান।

অবশ্য প্রাইম ব্যাংকের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান বিজয়েরই। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ভারতের অভিমন্যু ঈশ্বরন, যিনি এনামুল হক বিজয়ের অর্ধেক ইনিংস খেলেই করেছেন ৪৯৬ রান। তার ব্যাটিং গড় ৭০.৮৫। স্ট্রাইক রেটের দিক থেকেও এগিয়ে তিনি। শতকের দিক থেকে এনামুল হক বিজয়কে ধরে ফেলার সুযোগ ছিল তার সামনে। ডিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে খেলেন ১৩৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। এরপর শতকের কাছাকাছি গেলেও আর হয়নি। নার্ভাস নাইন্টির ঘরে গিয়ে ফিরেছেন দুইবার। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৯০ রান আর বিকেএসপির বিপক্ষে ৯২ রান করে ফিরেছিলেন সাজঘরে। একবার করেছেন ৮৫ রান।

চলতি আসরে সবচেয়ে বেশি শতক এখন পর্যন্ত বিজয়েরই। তার ব্যাট থেকে এখন পর্যন্ত এসেছে তিনটি শতক। তবে সেই আনন্দের মাঝে যেন ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে আছে আরেক তিক্ত রেকর্ড। সবচেয়ে বেশি শতকের অধিকারীই রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন সবচেয়ে বেশিবার! তিন শতকের মালিক বিজয়ের ডাকের সংখ্যাও তিন। তার তিক্ত রেকর্ডের অংশীদার আবাহনীর নাজমুল হোসেন শান্তও।

 

এনামুল হক বিজয়

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে শতক দিয়ে শুরু হয়েছিল বিজয়ের ‘টানা তিনে’র পথে যাত্রা। তার ১১১ বলে খেলা অপরাজিত ১০০ রানের সুবাদে ৯ উইকেটের বড় জয় পায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ৮ চারে সাজানো ১২০ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন। পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল আবাহনী লিমিটেড, এবার করেন ৫ চার আর ২ ছক্কায় ৭৯ বলে ১০২ রান। পরের ইনিংসে উত্তরার বিপক্ষে করেন ৩৬। এরপর ব্রাদার্স ইউনিয়নের দেওয়া ৩৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের দিনে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ বলে ৫৪ রানের দারুণ এক ইনিংস।

সেই ৫৪ রানের ইনিংসের পরই যেন শুরু হয় এনামুল হক বিজয়ের ছন্দপতন। পরের ম্যাচে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম বলে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফিরেন। তার উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম। এরপর বিকেএসপি ও মোহামেডানের সঙ্গে করেন যথাক্রমে ২৩ ও ২৬ রান। এরপর থেকে বিজয়ের ব্যাটের খরা আরও তীব্রতর হয়। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ফেরেন ৪ রান করে। শেখ জামালের বিপক্ষে খালেদ আহমেদ বোল্ড করেন তাকে। প্রথম বল মোকাবেলা করতে গিয়েই পরাস্ত হন। প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে পাঁচ রান করার পর আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে এলবিডব্লিউ নিয়ে তৃতীয় গোল্ডেন ডাক নিয়ে মাঠ ছাড়েন এনামুল হক বিজয়।

টানা তিন শতক হাঁকানো এক ব্যাটসম্যান একই টুর্নামেন্টে ব্যর্থ টানা চার ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে। মুদ্রার দুই পিঠ দেখা বুঝি একেই বলে!


আরো পড়ুন : কোহলির শতকে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল বেঙ্গালুরু


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

বিজয়-মেহেদীর নৈপূণ্যের পরেও জয় বঞ্চিত খুলনা

জাতীয় লিগে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল এনামুল-সাইফ ও বল হাতে সঞ্জিত-রাজ্জাক

বিজয়-তুষারের ব্যাটে রান, বড় সংগ্রহের পথে খুলনা

ঢাকার বিপক্ষে বিজয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

বাংলা টাইগার্সে কমলো দেশি ক্রিকেটারদের সংখ্যা