‘মুশফিককে ১০ এ ১০ না দিয়ে উপায় নেই’

নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সবচেয়ে পরিশ্রমী, সবচেয়ে শৃঙ্খল ক্রিকেটারটা হলেন- মুশফিকুর রহিম। বিভিন্ন সময়ে সতীর্থ ও কোচদের মুখে শোনা গিয়েছে মুশফিকের এই গুণের কথা। ছোট থেকে মুশফিককে দেখা ও নিজ হাতে তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অঙ্গনে আনা নাজমুল আবেদীন ফাহিম আবারও জানালেন মুশফিকের সম্পর্কে চমকপ্রদ এই তথ্যগুলো।

'মুশফিককে ১০ এ ১০ না দিয়ে উপায় নেই'
নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও মুশফিকুর রহিম।

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের কাছে ফাহিম স্যার এক ভরসার নাম। সাকিব-মুশফিকদের হাতে করে বিকেএসপিতে বড় করেছেন তিনি। বিকেএসপিতে মুশফিকের সিলেকশনের দিনের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি এবং এই ২০ বছর ধরেই মুশফিককে দেখে আসছেন। তার ছাত্রদের মধ্যে মুশফিকই তার কাছে সেরা তা তার কথা থেকেই প্রকাশ পেয়েছে।

বিকেএসপির সেই ছাত্রটি এখন জাতীয় দলের ভরসার প্রতীক। মুশফিক বিকেএসপিতে ভর্তির পরেই শিক্ষকরা বুঝেছিলেন সে বহুদুর যাবে। কারণ সেই ছোট থেকেই তিনি ছিলেন শৃঙ্খল ও পরিশ্রমী। সেই মুশফিকই বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম দ্বিশতক হাঁকান। তার ঐতিহাসিক সেই ব্যাটটা নিলামে তোলার শুরুতে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে এসব জানান নাজমুল আবেদীন।

Also Read - মুশফিকের ব্যাটের নিলাম শুরু


তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, মুশফিকের উচ্চতা একটু কম হলেও ওইদিন আমি মনে করিনি এটা ক্রিকেট খেলার জন্য বাঁধা হতে পারে। ও বোধ হয় একমাত্র খেলোয়াড় যাকে আমরা প্রথম দেখেই ধরে নিয়েছিলাম যে এই ছেলেটা জাতীয় দলে খেলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাকিবও বিকেএসপি থেকে এসেছে। কিন্তু মুশফিককে দেখেই আমাদের মনে হয়েছিল সে বাংলাদেশ জাতীয় দলে ৬ নং এ ব্যাটিং করবে ও উইকেটকিপিং করবে। ও শুরুতে কিন্তু উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিল; সলিড ডিফেন্স, দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিল। ও প্রথম থেকেই সিনিয়রদের সাথেও দারুণ খেলত। ওই সময়ই বোঝা গিয়েছিল।’

বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান ক্রিকেটারদের থেকেও এক জায়গায় এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের মুশফিক আর সেটা হলো পরিশ্রমের ক্ষেত্রে একটুও ছাড় না দেয়া। এ ব্যাপারে নাজমুল আবেদীন বলেন,

‘ও যেদিন বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছে সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত একইভাবে পরিশ্রম করে আসছে। এটা বিরল। ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পরে হয়ত একটু ছাড় দিতে পারতো নিজের শরীরের, মনের জন্য। কিন্তু ও কোনোদিন সেটা করেনি বরং আরও দিনদিন বেশি পরিশ্রম করেছে। ওর প্রত্যয়ী মনোভাব, কাজের প্রতি ভালোবাসা- দুর্দান্ত। ও ভালো খেলার জন্য যেকোনো ব্যাপারে ত্যাগ করতে রাজি। এমনটা খুব একটা দেখা যায় না। বিশ্বের সেরা ক্রিকেটাররা একটু ছাড় দেয় কিন্তু কোনোদিন এটা করে না।’

শুধু ব্যাট হাতেই মুশফিক সেরা তা কিন্তু নয়, কলম হাতেও তিনি সেরা। বিকেএসপি থেকে এসএসসি, এইচএসসি শেষ করার পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করে এখন পিএইচডি করার অপেক্ষায় আছেন এই ব্যাটসম্যান।

এমন ক্রিকেটারের কোনো নম্বর কাটার উপায় নেই বলেন নাজমুল আবেদীন, ‘এছাড়া যখনই ও দলের সাথে খেলতে যেত, দেশের বাইরে যেত সবসময় ওর বইখাতা সাথে থাকত। ও সবসময় পড়াশোনা করত। ও যখনই সুযোগ পেয়েছে পরীক্ষা দিয়েছে। এইজন্য খেলার পাশাপাশি পড়ালেখাও অনেক এগিয়েছে। মুশফিককে ১০ এ ১০ না দিয়ে কোনো উপায় নেই।’

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন