Scores

মুশফিকুর রহিম: লর্ডস থেকে মিরপুর

ছোটখাটো গড়নের ছেলেটা মাত্র ১৬ বছর বয়সে ডাক পেলেন টেস্ট দলে। জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলা যেকোন ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে। আর মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সেই সুযোগ হাতের মুঠোয় চলে আসলে তো সোনায় সোহাগা; সেটাও আবার লর্ডসের মতো বিখ্যাত মাঠে। লর্ডস থেকে শুরু করে সর্বশেষ মিরপুরের মাঠে সাদা পোশাকে নেমে বাংলাদেশকে অসংখ্য উদযাপনের মুহূর্ত এনে দিয়েছেন মুশফিক।

ছোটবেলা থেকেই মুশফিক ছিলেন পরিশ্রমী। ২০০০ সালে বিকেএসপিতে (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) ভর্তি হন ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিছুদিন আগে বিকেএসপির শিক্ষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছিলেন, তারা মুশফিককে দেখেই বুঝেছিলেন এই ছেলে বহুদূর যাবে। তাদের ধারণা সঠিক হয়েছে। অবশ্য তাদের ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে ছিল, মুশফিকের পরিশ্রম ও দক্ষতা।

Also Read - ভাইয়ের প্রত্যাশা বিশ্বসেরা হবেন সাইফ, প্রেরণা সিনিয়ররা


সবার প্রত্যাশা পূরণ করে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই জাতীয় দলে ডাক পান মুশফিক। লর্ডসে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসাবে অভিষেক হয় তার। অবশ্য অভিষেকেই চমক দেখানো কিছু করতে পারেননি তিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে পরিণত করেছেন। লর্ডসে খেলা তার প্রথম ম্যাচের দুই ইনিংসে রান ছিল যথাক্রমে ১৯ ও ২২ রান। সর্বশেষ মিরপুরে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা টেস্টের এক ইনিংসে তার সংগ্রহ অপরাজিত ২০৩ রান।

শুধু যে ক্রিকেট খেলায় মনোনিবেশ করেছিলেন তাই নয় কিন্তু। খাতা-কলমেও সমানভাবে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মুশফিক। এসএসসি ও এইচএসসি দুইটা পরীক্ষাতেই এ প্লাস পেয়ে সর্বোচ্চ রেজাল্ট নিয়ে উত্তীর্ণ হন বিকেএসপি থেকে। তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে ভর্তি হন। পড়ালেখা ও ক্রিকেট দুইটায় চালিয়ে যাচ্ছেন সমানভাবে।

টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৭তম টেস্ট পর্যন্ত ও ৫ বছর। ২০১০ সালে প্রিয় প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে প্রথম শতক হাঁকান চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে। তখন সেটাই ছিল বাংলাদেশিদের মধ্যে টেস্টে দ্রুততম শতক। তারপর গত ১০ বছরে মুশফিকের নামের পাশে টেস্ট শতকের সংখ্যা ৭টি। যারমধ্যে তিনটি দ্বিশতক।

প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে শ্রীলঙ্কার গলে দ্বিশতক হাঁকিয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। আবার প্রথম বাংলাদেশি হিসাবেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় দ্বিশতক হাঁকিয়েছেন তিনি। তার তিনটা দ্বিশতক যথাক্রমে ২০০ (বিপক্ষ শ্রীলঙ্কা- ২০১৩), অপরাজিত ২১৯ (বিপক্ষ জিম্বাবুয়ে- ২০১৮), অপরাজিত ২০৩ (বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে- ২০২০)।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিককে একটু ভিন্ন চোখে দেখা হয়। কারণ ক্রিকেটের প্রতি তার আত্মোৎসর্গ ও অক্লান্ত পরিশ্রম। বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা ক্রিকেটারদের থেকেও এই পরিশ্রমের জায়গায় এগিয়ে আছেন মুশফিক। অনুশীলনে কখনো এক চুল ছাড় দিতে রাজি নন তিনি। দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মাত্র দুইদিন অনুশীলন মিস করেন এই ব্যাটসম্যান। তারমধ্যে একদিন আবার তিনি অসুস্থ ছিলেন তাই অনুশীলনে যেতে পেরেছিলেন না। ঐচ্ছিক অনুশীলনও কখনো বাদ দেন না।

২০১১ সালে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সব সংস্করণেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তারপর শুধু টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে। এখন অধিনায়কত্বের ভার নেই তার কাঁধে। প্রিয় উইকেটরক্ষণের কাজটাও সাদা পোশাকে নেই তার। শুধুই ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ করেছেন মুশফিক। টেস্ট অধিনায়কত্ব হারানোর আগে সাদা পোশাকের বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসাবে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন।

টেস্ট ক্রিকেটে ৭টি শতক ও ২১টি অর্ধশতকে মোট রান করেছেন ৪৪১৩। ব্যাটিং গড় ৩৬.৪৭। ম্যাচ খেলেছেন ৭০টা।

এতো সাদা পোশাকের কথা। রঙিন পোশাকেও বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তিনি। ২১৮টা ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মুশফিক। ২০৪ ইনিংসে ব্যাট হাতে সংগ্রহ করেছেন ৬১৭৪ রান। এই সংস্করণেও তার শতকের সংখ্যা ৭টা, অর্ধশতক ৩৮টা। এছাড়া ৮৬টা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ১২৮২ রান।

কমবেশি সবার জানা, মুশফিক অনেক আবেগী আর জেদি। তার এই বৈশিষ্ট্যই হয়তো তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। রান না পেলে যে ভেঙে পড়েন মুশফিক; সেটাকে শক্তি বানিয়েই আবার নতুন উদ্যোমে ফিরে আসেন। লর্ডসে সেই ১৯ রানের ইনিংস থেকে মিরপুরে অপরাজিত ২০৩ রান পর্যন্ত মুশফিকের ক্রিকেটীয় জীবনে এসেছে অনেক পরিবর্তন, বাংলাদেশকে দিয়েছেন পরিবর্তনের হাওয়া, জিতিয়েছেন অনেক ম্যাচ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছর পূর্ণ করলেন; বাংলাদেশকে এখনো অনেক কিছু দেয়ার আছে মুশফিকের। বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে এভাবেই এগিয়ে যাক মুশফিকুর রহিম।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে টুইটারে প্রশংসার জোয়ার

হোল্ডার-গ্যাব্রিয়েল তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমাঞ্চকর জয়

আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়ে মুখ খুললেন সৌরভ

খেলা বন্ধের কারণ যখন ‘টাইগার’

সৌরভকে নাসেরের অতি প্রশংসা মনে ধরল না গাভাস্কারের