SCORE

মুশফিকের পথচলার তেরো বছর

যাত্রাটা যখন শুরু করেছিলেন তখন বয়স আঠারো ছুঁইছুঁই। সদ্য কৈশোর পার করা এ তরুণের অভিষেক হয় লর্ডসে। আঠারো বছর বয়সে টেস্টে অভিষেক, তাও লর্ডসে। তরুণ এক ক্রিকেটারের এর চেয়ে বেশি আর কিছু  চাওয়ার আছে কি? তরুণ ক্রিকেটারের নাম মুশফিকুর রহিম। ২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন মুশফিকুর রহিম সেই যাত্রার বয়স তেরো বছর পূর্ণ হয়েছে।

অভিষেকে পরা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রতীক সংবলিত সবুজ ক্যাপ হয়েছে মলিন। তবে সেই ক্যাপের প্রতি ভালোবাসা মলিন হয়নি মুশফিকের। মুশফিকুর রহিমও বদলেছেন অনেক। লর্ডসের ঐ সবুজ ক্যাপ পরা মুশফিকের হাসি যেন চিরচেনা। তবে সেই মুশফিকের চাইতে বর্তমান মুশফিকের কাঁধের ওপর দায়িত্ব অনেক বেশি। বেড়েছে বয়স, হয়েছেন অভিজ্ঞ। নিজের ব্যাটকে করেছেন শাণিত। নানান চড়াই- উৎরাই পেরিয়ে মুশফিক এখন নির্ভরযোগ্যদের একজন। ভক্তদের কাছে মিঃ ডিপেন্ডেবল।

এ তেরো বছরের পথচলায় নিজেকে অনেক জয়োৎসবের সাক্ষী করেছেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন অনেক স্মরণীয় ইনিংস। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলেতে টেস্টে বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম দ্বিশতক হাঁকানোর অনন্য কীর্তি গড়েন। টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৬০ টেস্টে ৩৪.৯৬ গড়ে করেছেন ৩৬৩৬ রান। শতক হাঁকিয়েছেন পাঁচটি।

Also Read - রশিদকে নিয়ে ভাবতে মানা তামিমের

ওয়ানডেতে অভিষেক হয় ২০০৬ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হারারেতে ঐ ম্যাচে সুযোগ পাননি ব্যাট হাতে নামার। নিজের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ১৮ রান করে। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন আস্থার প্রতীক। ২০০৭ সালে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রান করে সাজঘরে ফেরা মুশফিকুর রহিম ২০০৭ সালে টানা তিন ম্যাচে করেন ষাটোর্ধ্ব রান। এর মধ্যে একটি ছিল শতক।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিক। ১৮৪ ওয়ানডেতে ১৭০ ইনিংস ব্যাটিং করে ৩২.৯৯ গড়ে রান করেছেন ৪৭১৮। হাঁকিয়েছেন পাঁচ শতক।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে অবশ্য একটু বেশি সময় লেগেছে মুশফিকুর রহিমের। ৬৮ ম্যাচে করেছেন ১০১২, গড় ২১.০৮। অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন চারটি।

দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব। টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র উইকেটরক্ষক হিসেবে করেছেন ডিসমিসালের সেঞ্চুরি (১০৬)। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও সর্বোচ্চ ডিসমিসালের মালিক তিনি। ওয়ানডেতে ১৮৫ এবং টি-টোয়েন্টিতে ডিসমিসালের সংখ্যা ৫০।

অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন। দলনেতা হিসেবে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই দলকে এনে দিয়েছেন জয়। তার নেতৃত্বে ২৩ টি-টোয়েন্টির আটটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, হেরেছে চৌদ্দটিতে। টেস্টে ৩৪ ম্যাচে ৭ টি জয় আর ড্র ৯ টিতে। হেরেছেন ১৬ টিতে। তার অধিনায়কত্বে ৩৭ ওয়ানডেতে ১১ টিতে জিতেছে টাইগাররা। পরাজয় ২৪ ম্যাচে।

ব্যাটিংয়ে যে মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের অন্যতম আস্থাভাজন তার প্রমাণ দেয় আরেকটি পরিসংখ্যান। টেস্টে বাংলাদেশের রানের হিসাবে সর্বোচ্চ দশ জুটির চারটিতে রয়েছে মুশফিকুর রহিমের নাম। ওয়ানডেতেও ঠিক একই চিত্র। সেরা দশ জুটির চারটিতে রয়েছে তার অবদান।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৫৯ রানের জুটিটিতে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী ছিলেন তিনি। টেস্টে তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটিতেও রয়েছে মুশফিকুর রহিমের নাম।

অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। যেন প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে থাকা। এখনো বাকি রয়েছে অনেক কিছু দেওয়ার। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সব ইনিংস খেলে দলকে অনেকবার ভাসিয়েছেন জয়ের আনন্দে। হয়ে উঠেছেন ভরসার প্রতীক, আস্থা আর নির্ভরতার অন্য নাম। ব্যাটিং লাইনের ভিত বললেও ভুল হবে না নিশ্চয়ই।

সেই আস্থার প্রতিদান দিতে হবে আরো অনেকদিন। মুশফিকুর রহিমের ব্যাটের দিকে আরো অনেকদিন চেয়ে থাকবেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। গত তেরো বছরের পথচলায় মুশফিকুর রহিম এগিয়েছেন অনেকদূর। তার এ পথচলা হোক আরো সমৃদ্ধ, দীর্ঘ হোক সুখস্মৃতির খাতা- এমনটাই কামনা বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের।


আরো পড়ুন ঃ যে কারণে মুশফিকের মাথায় একই ক্যাপ


Related Articles

এখনও মাশরাফির ফাইনালের আশা

বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ

এশিয়া কাপের দলে ইমরুল-সৌম্য!

মিরাজ-মাশরাফির দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সম্মানজনক সংগ্রহ

দুবাইয়ে সমর্থকদের পাশে দাঁড়ালেন সুজন