Scores

মুশফিকের লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল

mushfik-bdcricteam

 

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

Also Read - ইনজুরির শিকার তাইজুল


২০০৭ সালে যখন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন, ছিলেন একেবারে নবীন। উঠতি দাড়িগোঁফের পাশাপাশি স্পষ্ট ভেসে উঠত উজ্জ্বল ক্যারিয়ার। সেই মুশফিক পরে পারফরমেন্স দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। এবারের বিশ্বকাপ মুশফিকের জন্য তৃতীয় আসর।

প্রথম বিশ্বকাপে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। ২০১১-তে ঘরের মাটিতে খেলা নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ছিলেন দলের অনিবার্য অংশ। ’১৫-র বিশ্বকাপটিতে হতে পারতেন দলের নেতা, তবে ওয়ানডেতে সদ্য সাবেক হওয়া অধিনায়ক বিশ্বকাপে যাচ্ছেন দলের সাধারণ একজন খেলোয়াড় হিসেবেই। তাঁর বাহুবন্ধনি এখন নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফির কাঁধে।

তবে অধিনায়কত্ব হারানোকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না মুশফিক। তাঁর মতে, দলে থাকা সব খেলোয়াড়ই অধিনায়ক। ‘আসলে আমাদের দলে কে অধিনায়ক আর কে অধিনায়ক না এটা নিয়ে আমরা ভাবি না। আমি মাশরাফি ভাই বা সাকিব, সবাই আলোচনা করে খেলার চেষ্টা করি, নিজেদের মধ্যে কোনো বার্তা থাকলে সবাইকে দেই। আমি অধিনায়ক না থাকলেও আমি এবং সিনিয়র যারা আছে সবার বেশ কিছু দায়িত্ব থাকবে। মাঠ ও মাঠের বাইরে আমাদের করার অনেক কিছু আছে। মাশরাফি ভাই কোনো সাহায্য চাইলে অবশ্যই আমি তা করব।’ অধিনায়কত্ব হারানোয় কষ্ট নেই মুশফিকের মনে, ‘অনেক আগের থেকেই অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে দিয়েছি। এখন আমার চিন্তা ভাবনা কিভাবে ধারাবাহিক পারফরমেন্স করা যায় সেটা নিয়ে। অধিনায়ক না থাকলেও আমার ওপর দলের একটা দায়িত্ব সব সময়ই থাকে। সেটা ফুলফিল করার চেষ্টা করব।’

বিশ্বকাপে লক্ষ্য নিয়ে মুশফিক আলাদাভাবে কিছু বলেননি। তাঁর কাছে অন্য দশটি ম্যাচের মতোই সমান তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো, ‘বিশ্বকাপ অনেক বড় টুর্নামেন্ট। প্রচার-প্রচারণাও অনেক বেশি। আমার মনে হয়, এটা আমার কাছে আর দশটা সিরিজের মতোই। তবে এখানে বিশ্বের সেরা দলগুলো খেলে। সুতরাং গত কয়েক বছরে আমি যেমন পারফর্ম করেছি, এবার তা থেকে বেরিয়ে আরো বড় কিছু করব এমন কোনো ভাবনা নেই। চেষ্টা করব স্বাভাবিক খেলাটা ধরে রাখতে। যেভাবে গত কয়েক বছর খেলেছি। তবে বিশ্বকাপ অনেক বড় আসর। আগে দুটি বিশ্বকাপ খেললেও অসাধারণ কিছু করতে পারিনি। তবে এবার চেষ্টা করব, যাতে ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে এবার আরও ভাল কিছু করতে পারি।’

ভিন্ন কন্ডিশনকে ভয় পাচ্ছেন না মুশফিক। যদিও কন্ডিশনকে কাজে না লাগাতে পারলে ভালো করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার- এটা মানছেন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান, ‘ন্ডিশনটা অনেক বড় বিষয়। কারণ যেখানে খেলা হবে, সেখানকার আবহাওয়া-পিচ দেখে খেলতে হবে। বোলিং-ব্যাটিং বা ফিল্ডিং সব কিছুই অনেক চিন্তা করে করতে হবে। বিশেষ করে প্রথম ১০ ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, সব দলের জন্যই কঠিন হবে। আমাদের প্রথম দশ ওভার এমনভাবে খেলতে হবে, যাতে পরে আক্রমণে যাওয়ার সামর্থ্য আমাদের থাকে। শর্ট বল নিয়ে কথা হচ্ছে; আসলে বিশ্বকাপের কন্ডিশনে ধারাবাহিকভাবে বাউন্স হবে। ফলে ব্যাটসম্যান সেট হয়ে গেলে রান তোলা সহজ হবে। আমাদের উইকেটে এক বল বাউন্স করলে পরের বল ধীরে আসে, ফলে সমস্যাটা বেশি হয়। অর্থাৎ আমাদের কষ্ট হবে আবার ভাল সুযোগও আছে। অনুশীলন সেভাবেই চলছে, এখন প্রয়োগের ব্যাপার। স্পিনারদের জন্য পরিস্থিতি হয়তো একটু প্রতিকূলে থাকবে, কিন্তু প্লাস পয়েন্ট থাকবে; যেমন মাঠ বড় থাকবে, এ ছাড়া বিদেশী বেশীরভাগ খেলোয়াড়ই স্পিনে দুর্বল। সব মিলিয়ে বোলিং বিভাগটাতে গুরুত্ব দিতে হবে। পেসারদের বেশি দায়িত্ব থাকবে। স্পিনারদেরও অনেক দায়িত্ব থাকবে। পেস ও স্পিনের মিলিত কাজটা ভাল হলে, টপ অর্ডার ভাল ব্যাটিং করলে যে কোনো দলের বিপক্ষে আমরা দারুণ কিছু করতে পারি; এমন কি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও।’ কন্ডিশনকে চাপ হিসেবে নিচ্ছেন না, আবার নিচ্ছেনও, ‘চাপ ঠিক বলব না। তবে একটু তো চাপে তো পড়ছিই। কারণ সেখানকার কন্ডিশন আমাদের দেশের মতো না। সুতরাং কিছুটা চাপে পড়তে হবে। তবে আমরা অনুশীলন করে যাচ্ছি’।

বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালকে লক্ষ্য করেই এগোচ্ছে দল- জানালেন মুশফিক। আর সেজন্য সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রথম ম্যাচটিকে- ‘বিশ্বকাপে আমাদের লক্ষ্য অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে। আফগানিস্তান বা স্কটল্যান্ডের সাথে আমাদের ভাল খেলাটা দরকার। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচটা ভালভাবে শুরু করতে হবে। এর মানে এ নয় যে, আমরা অন্য দলগুলোর বিপক্ষে জিততে চাই না। প্রথম ম্যাচ থেকে আত্মবিশ্বাস পাওয়া গেলে তা পরে কাজে লাগবে। প্রধান লক্ষ্য তো অবশ্যই কোয়ার্টার ফাইনাল।’

নিজের ছোটোখাটো ইনজুরি সমস্যা সম্পর্কে মুশফিক বলেছেন, ‘আমার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। আগামীকাল (বুধবার) থেকে কিপিং করব। আর আমাকে ডাইভিং দিতে হয়, সে হিসেবে একটু সময় লাগছে। অনুশীলনের আরও সময় পাচ্ছি। আশা করি যথাসময়ের আগেই আমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাব।’

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ