মুশফিকের সুইপ-স্কুপ খেলার প্রবণতা কমবে কবে?

0
1345

বাংলাদেশ দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। মিডল অর্ডারে মুশফিক মানেই যেন নির্ভরতা, আস্থা। তবে সম্প্রতি বেশ সমালোচিত হচ্ছেন তিনি, তার কারণও আছে বটে।

মুশফিকের সুইপ-স্কুপ খেলার প্রবণতা কমবে কবে
মুশফিকুর রহিম। ফাইল ছবি

বিপদজনক শটের সঙ্গে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মুশফিক। ক্রিজে এসে সেট হয়ে স্কুপ কিংবা সুইপ অথবা রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যাওয়া- ক্রিকেট মাঠে মুশফিকের নিত্যদিনের কর্মকান্ডই যেন হয়ে উঠেছে এরকম। বহুবার রিভার্স সুইপ, স্কুপ কিংবা সুইপ শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে দলের বিপদ ডেকে এনেছেন তিনি। কিন্তু এতেও যেন শিক্ষা হচ্ছে না তার। দলের চাপের মুহুর্তে উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর নিয়মিতভাবে এসব ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলছেন তিনি, আউটও হচ্ছেন অসংখ্যবার। কিন্তু তাতে কী হবে? সুইপ আর স্কুপ তো তাকে খেলতেই হবে। এতকিছুর পরেও তাই মুশফিকের সুইপ আর স্কুপ খেলা বন্ধ হওয়া তো দূরের বিষয় বরং তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisment

একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। ২০১৬ সালে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শোয়েব মালিকের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন মুশফিক। ম্যাচের সেই মুহুর্তে প্রচন্ড চাপের মধ্যে রিভার্স সুইপ, কোনো দরকার কি ছিল?

এবছরের গোড়ার দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট। দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটায় হেরে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ। ম্যাচ বাঁচানোর পাশাপাশি সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ের সেই ম্যাচে বেশকিছু উইকেট হারিয়ে যখন খাদের কিনারায় দল, ফিফটি করে উইকেটে ছিলেন মুশফিক। সেই প্রচণ্ড চাপের মুহুর্তে রাহকিম কর্নওয়ালের বলে রিভার্স সুইপ করতে যান মুশফিক। যথারীতি আউট হয়ে দলের বিপদও ডেকে আনেন। ঢাকা টেস্ট হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ঘরের মাঠে ২-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয় টাইগাররা।

তারপর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ স্বচ্ছন্দে ব্যাট করছিলেন মুশফিক। ৮৪ রান করে যখন উইকেটে সেট তিনি, ঠিক তখনই রিভার্স সুইপ খেলে আউট হয়ে যান।

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮ রানে ব্যাট করছেন মুশফিক। চাপে পড়া যাওয়া দলের আশা ভরসা তাকে ঘিরেই। তখনই যেন স্কুপ করতে মনে হলো তার, যথারীতি বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে মুশফিক।

সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেটে এসে কিছুক্ষণ খেলার পরে রিভার্স সুইপ খেলার শখ জাগলো মুশফিকের। সেই বলে ক্যাচ আউট হতে হতেও বেঁচে গেলেন তিনি। এতেও যেন শিক্ষা হল না তার। ২৯ রান করে যখন ক্রিজে তিনি, প্রচন্ড চাপে দল, ঠিক সেই মুহুর্তে আবারও রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট মুশফিক। এরপর আর ম্যাচেই ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে বাঁচামরার ম্যাচে ১৪৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে জয়ের জন্য ৪০ বলে ৫৩ রান দরকার বাংলাদেশের। ক্রিজে ৬ বলে ৮ রান করে আছেন নির্ভরযোগ্য মুশফিক। ম্যাচ বাঁচানোর, টুর্নামেন্ট বাঁচানোর চাপে যখন দল, ঠিক তখনই স্কুপ করতে গেলেন মুশফিক। এবারও বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন তিনি। এতটা চাপের ম্যাচে এরকম চাপের মুহুর্তে এতটা বিপদজনক শট- এই না হলে মুশফিক। দলের এরকম মুহুর্তে স্কুপ খেলতে গিয়ে দলকে ডোবানোর ব্যাখ্যা মুশফিক নিজেও কি দিতে পারবেন?

মুশফিকের সুইপ-স্কুপ খেলার প্রবণতা কমবে কবে
মুশফিকুর রহিম। ছবিঃ গেটি ইমেজস

বারবার রিভার্স সুইপ আর স্কুপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েও যেন শিক্ষা হচ্ছে না মুশফিকুর রহিমের। তিনি যতবারই এসব ঝুঁকিপুর্ণ শট খেলে আউট হচ্ছেন ততই যেন আরও বেশি করে এসব শট খেলে দলের বিপদ ডেকে আনতে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। ১৬ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলা মুশফিক কি এই বিষয়গুলো নিয়ে একবারও চিন্তা করেন? আর কতবার সুইপ আর স্কুপ করতে গিয়ে আউট হলে সুইপ আর স্কুপ খেলা বন্ধ করবেন তিনি? উত্তরটা হয়ত মুশফিকই দিতে পারবেন।

 

 

 

 

 

বিশ্বকাপের খেলা সরাসরি দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

কুইজ খেলে প্রতিদিন বাইক জিততে ক্লিক করুন এখানে।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।