মুশফিকের সেঞ্চুরিতে ২৬২ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দিল বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুশফিকের ১৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ২৬২ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ। মুশফিক বাদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন মিঠুন। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট লাভ করেন মালিঙ্গা।

দুপুরে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। তবে নিজের এই সিদ্ধান্ত যে বিফলে যাবে সেটা হয়ত টের পেয়েছেন একটু পরই। দীর্ঘ ১ বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ওভারের পঞ্চম বলে লিটন দাসকে কোন রান করতে না দিয়েই সাজঘরে ফিরান তিনি।

তারপরের বলেই স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন সাকিব আল হাসানের। দলীয় ১ রানে দুই উইকেট পড়ার পর বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। বিপদটা আরও বাড়ে তামিমের ইনজুরিতে। লাকমলের বলে পুল করতে গিয়ে আঙুলে চোট পান তামিম। ফলে সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়েন তিনি। তামিম মাঠ ছাড়লে দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন।

Also Read - এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেলেন তামিম

শ্রীলঙ্কার দুই পেসার মালিঙ্গা ও লাকমল, মুশফিক ও মিঠুনকে চাপে রাখার চেষ্টা করলেও দুই জনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং সেই চাপ সামলে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। এইদিকে মিঠুন দেখা পান নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। মিঠুনের পরেই ফিফটির দেখা পান মুশফিকও। দুই জনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং যোগ করে শতরানের জুটি।

সেই জুটিও ভাঙেন মালিঙ্গা। দলীয় ১৩৪ রানে মালিঙ্গার বলে উইকেটকিপার কুশল পেরেরার হাতে ক্যাচ তুলে দেন মিঠুন। আউট হওয়ার আগে ৬৮ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মিঠুনের বিদায়ের পর দ্রুত আউট হন মাহমুদউল্লাহও। মাত্র ৪ বলে ১ রান নিয়ে আপন্সোর বলে ক্যাচ তুলে দেন রিয়াদ। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেনি মোসাদ্দেকও। দলীয় ৬ রান যোগ করতেই মালিঙ্গার বলে বিদায় নেন তিনি।

তবে একপাশ থেকে একাই লড়ে যান মুশফিক। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি থেমে যায় ৩৩ রানের জুটিতে। ব্যক্তিগত ১৫ রান নিয়ে লাকমলের করা বলে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দেন মিরাজ। শেষদিকে মুস্তাফিজকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। মুশফিক তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি। মুস্তাফিজ আউট হলে আঙুলের ব্যথা নিয়েই মুশফিককে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন তামিম। শেষ পর্যন্ত মুশফিকের ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানে ২৬১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট লাভ করেন লাসিথ মালিঙ্গা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ২৬১ (ওভার ৪৯.৩)

মুশফিক ১৪৪, মিঠুন ৬৩: মালিঙ্গা ৪-২৩

আরও পড়ুনঃ এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেলেন তামিম

Related Articles

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি

‘বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানজনক জায়গা আদায় করেছে বাংলাদেশ’