ম্যাশ অ্যাটাকের প্রশংসায় ওয়ালস

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো জেতার অনেক কাছে গিয়েও হেরেছে আফগানিস্তান। ম্যাচের লাগাম হাতে নিয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো আফগানরা। কিন্তু সাকিবের ৪৭ তম ওভারেই ম্যাচ হেলে পড়ে বাংলাদেশের দিকে। চার ওভারে জয়ের জন্য ২৮ রান লাগতো আফগানিস্তানের। কিন্তু সাকিব দিলেন মাত্র ১ রান। এরপর শেষ তিন ওভারে আর প্রয়োজনীয় ২৭ রান তুলতে পারে নি সফরকারীরা। যার ফলে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৭ রানের। এদিকে শেষের দিকে অসাধারণ বোলিং করায় বাংলাদেশের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালস বোলারদের অনেক প্রশংসা করেছেন।

14454736_1734280653503060_476133319_n

Advertisment

শেষের তিন ওভারের জন্য অধিনায়ক মাশরাফির কাছে ছিলেন তাসকিন ও রুবেল। কিন্তু দীর্ঘ বিরতিতে থাকা এই দুই ক্রিকেটার অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। ৪৮তম ওভারে তাসকিন মাত্র ৬ রান দেবার পাশাপাশি তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উইকেট। পরের ওভারে রুবেল এসে আরো একটি উইকেট তুলে নেন। শেষ ওভারে নিষিদ্ধের বেড়াজাল থেকে সবেমাত্র ফেরা তাসকিনেই আস্থা রাখেন অধিনায়ক মাশরাফি। আফগানদের ১২ রানের প্রয়োজন হলেও তাসকিন দিয়েছেন মাত্র ৫ রান পাশাপাশি নিয়েছেন শেষ দুইটি উইকেট। ম্যাচের চিত্রনাট্যে বড় পরিবর্তন করা এই দুই বোলারের প্রশংসা করে কোচ বলেন, “ছেলে দুটো (তাসকিন ও রুবেল) অসাধারণ ভালো বোলিং করেছে শেষ দুই ওভারে। সাকিব খেলা পাল্টিয়ে দেওয়া একটি ওভার করেছে এবং এটাই সবকিছু ঠিক করে দিয়েছে। অন্য ছেলেরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে এবং রানরেটে বেড়ে গেছে। এটা দারুন একটা দলগত নৈপুণ্য।”
এদিকে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার দুইদিনের মাত্রায় এই ক্রিকেটার ৮ ওভার বোলিং করে ৫৯ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে কোচ বলেন, “আমি মনে করি সে (তাসকিন) অনেক ভালো করেছে। খেলার আগে সে কিছুটা চাপে ছিল। আইসিসি কর্তৃক রিপোর্টেড হয়ে ম্যাচে খেলাটা বেশ চাপের। শুরুতে সমস্যা হলেও শেষে প্রয়োজনে কার্যকর হয়ে উঠেছে তাসকিন। সে যেভাবে ফিরেছে সেটার কৃতিত্ব তাকে দিতেই হবে।”

এদিকে অধিনায়ক মাশরাফিও বল হাতে সাফল্য পেয়েছেন। নির্ধারিত ১০ ওভার বল করে ৪২ রানের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি। ওয়ালস অধিনায়কের প্রশংসা করে বলেন, “আমি মনে করি অধিনায়ক খুব ভালো বল করেছে এবং ভালোভাবেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা তাকে একটি বার্তা দিয়েছি, ও যেন কিছুটা স্বস্তিতে থাকার চেষ্টা করে। আর মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি অনুশীলনে আমরা কী করেছি। আমরা ম্যাচে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলাম। কারণ দীর্ঘদিন ধরে খেলা ছিল না। ছেলেরা এটাকে কাটিয়ে উঠে অনেক ভালো করার চেষ্টা করেছে।”

ম্যাচে অনেক চাপ থাকলেও বাংলাদেশের কোচিং স্টাফের নতুন এই সদস্য ম্যাচের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, “আমরা স্মায়ুচাপে ছিলাম না, কিন্তু উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে একটি ব্রেক থ্রু আসলেই ম্যাচ আমাদের দিকে ফিরে আসবে।”

উল্লেখ্য, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মাশরাফিরা মাঠে নামবে ২৮ সেপ্টেম্বর।