রশিদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশকে হারাল আফগানিস্তান

ম্যাচটি ছিল শুধুই নিয়ম রক্ষার। তাই উত্তাপও ছিল কম। মাঠের লড়াইও উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। একপেশে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশকে পাত্তাই দেয়নি তারা। রশিদ খানের অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যতে বাংলাদেশকে ১৩৬ রানে হারিয়েছে আফগানরা। হারের ক্ষত নিয়েই সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় বাংলাদেশকে ২৫৬ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় আফগানিস্তান। জবাবে বাংলাদেশ মাত্র ১১৯ রান করতে সক্ষম হয়।

আবু ধাবিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। তামিম ইকবালের চোট ও মুশফিকুর রহিম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দেওয়ায় তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। একাদশে জায়গা পান নাজমুল হোসেন শান্ত, আবু হায়দার রনি এবং মুমিনুল হক।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নতুন বলে ভরসা রাখেন রুবেল হোসেন ও অভিষিক্ত পেসার আবু হায়দার রনির ওপর। সফলতাও আসে। নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ও ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন আবু হায়দার রনি। এ বাঁহাতি পেসারের বলে  মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ওপেনার ইহসানউল্লাহ (৮)। এরপর রহমত শাহকেও ফেরান আবু হায়দার রনি। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে রহমত শাহকে পরাস্ত করেন তিনি। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন ১৭ রান করা রহমত।

Also Read - এশিয়া কাপের আগেই শর্ত দিয়েছিলো ভারত!

ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন হাসমতউল্লাহ শাহিদী। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন শাহজাদ। তাকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার আগেই ফেরান সাকিব আল হাসান। সাকিবের বলে লং অনে উড়িয়ে মারেন শাহজাদ। দারুণ ক্যাচ নেন আবু হায়দার রনি। ৪৭ বলে ৩৭ রান করে শাহজাদ বিদায় নিলে ভাঙে ৫১ রানের জুটি।

অর্ধশতক তুলে নেন হাসমতউল্লাহ শাহিদী। শাহিদীকে ফেরান রুবেল হোসেন। ৯২ বলে ৫৮ রানের মন্থর ইনিংস খেলে রুবেলের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন শাহিদী। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার।

আসগর আফগান আর সামিউল্লাহ শেনওয়ারি মিলে গড়েন ৩৮ রানের জুটি। ১৩৯ রানের মাথায় সাকিবের বলে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হন আসগর। ১৬ বলে ৮ রান করেন তিনি। শেনওয়ারিকেও বোল্ড করেন সাকিব। এরপর মোহাম্মদ নবিকেও থিতু হতে দেননি সাকিব। ২৪ বলে ১০ রান করে সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ নবি। ১৬০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় আফগানিস্তান।

অষ্টম উইকেটে হাল ধরেন রশিদ খান আর গুলদাবিন নাইব। দুজন মিলে যোগ করেন ৯৫ রান। শেষদিকে দ্রুতগতিতে রান তুলেন দুজন। খরুচে বোলিং করেন বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ছয় ওভারে ৭৪ রান সংগ্রহ করেন দুজন। মাশরাফির করা শেষ ওভারে রান হয় ১৯। জন্মদিনে তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন রশিদ খান। ৮ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ৩২ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রশিদ। অপর প্রান্তে নাইব করেন ৩৮ বলে ৪২ রান।

এ ম্যাচের আগের ৫০ ম্যাচের মধ্যে ২৫০ রানের বেশি তাড়া করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছিল মাত্র তিনটি।  এ থেকেই বলা যায় লক্ষ্য স্পর্শ করা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংস সূচনা করেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারাতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম বলটি হয় ওয়াইড। ঐ বলেই জেগেছিল রান আউটের সম্ভাবনা। নতুন এ উদ্বোধনী জুটি বড় হয়নি। ১৫ রানের মাথায় মুজিব উর রহমানের বলে এগিয়ে এসে তুলে মারতে গিয়ে ব্যাটে বলে সংযোগ ঠিকমতো ঘটাতে পারেননি শান্ত। পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন সাজঘরে। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ইনিংসে তার সংগ্রহ ৭।

পরের ওভারে আফতাব আলমের ইনসুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন লিটন দাস। মাত্র ৬ রান করেন তিনি। দীর্ঘ দুই বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মুমিনুল হক গুলদাবিন নাইবের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষককে। নিজের পরের ওভারে মোহাম্মদ মিঠুনকে বোল্ড করেন নাইব। ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে।

রান পেতে হাঁসফাঁস করছিল বাংলাদেশ। প্রথম চারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ১৫ তম ওভার পর্যন্ত। চারটি আসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটের কানায় লেগে। আফগান বোলাররা বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরে বাংলাদেশকে। ব্যাটিং বিপর্যয় কাটাতে চেষ্টা করেন রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান। দুজন মিলে যোগ করেন ৩৬ রান।

রিয়াদ-সাকিবের প্রতিরোধ ভাঙেন রশিদ খান। রশিদ খানের ফুল লেন্থের ডেলিভারি ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন সাকিব। কোনো বাউন্ডারি না মেরে ৫৫ বলে ৩২ রান করেন সাকিব। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও বোল্ড করেন রশিদ খান। ২ চারে ৫৪ বলে ২৭ রান করেন তিনি।

দলীয় ১০০ রানের মাথায় রহমতের বলে ফিরে যান মেহেদি হাসান মিরাজ (৪)। অধিনায়ক মাশরাফি ১১ বল খেলে বিদায় নেন রানের খাতা খোলার আগেই। এক প্রান্ত আগলে রেখে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত শুধু হারের ব্যবধানটাই কমান। অপর প্রান্তে আবু হায়দার রনি ১ রান করে রান আউট হন। রানের খাতা খোলার আগে রুবেল হোসেনকে মুজিব উর রহমান বোল্ড করলে ১১৯ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩ চারে ৬০ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

শুক্রবার সুপার ফোরের লড়াইয়ে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানের মোকাবেলা করবে আফগানিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ আফগানিস্তান ২৫৫/৭, ৫০ ওভার

শাহিদী ৫৮, রশিদ ৫৭*, নাইব ৪২*
সাকিব ৪/৪২, রনি ২/৫০, রুবেল ১/৩২

বাংলাদেশ ১১৯/১০, ৪২.১ ওভার
সাকিব ৩২, রিয়াদ ২৭, সৈকত ২৬*
রশিদ ২/১৩, মুজিব ২/২২, নাইব ২/৩০


আরো পড়ুনঃ  ১০ রানে ৮ উইকেট শিকার করে নাদিমের বিশ্ব রেকর্ড


 

Related Articles

আফগান ক্রিকেটার মুজিবকে নিয়ে বোমা ফাটালেন সাবেক কোচ

যুব এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল লাইন-আপ চূড়ান্ত

রেটিং বাড়ল আফগানিস্তান-ভারতের, কমলো পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে খেলবেন তাসকিন

ভিডিও: ভারত-আফগান ম্যাচের শেষ বলের রোমাঞ্চ