রাজস্থানের হয়ে মুস্তাফিজের ‘আইপিএলনামা’

0
3609

মুস্তাফিজুর রহমানের এবারের আইপিএল মৌসুম শেষ। পয়েন্ট টেবিলের সাতে থাকায় তার দল রাজস্থান রয়্যালস জায়গা করে নিতে পারেনি প্লে-অফে। পুরো মৌসুমটা ভালো-খারাপের মিশেলই ছিল দলের জন্য। তবে আলো ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজ। 

মুস্তাফিজদের '৬ লাখ' রুপি জরিমানা, স্যামসন গুনলেন '২৪ লাখ'
রাজস্থানের অধিনায়ক স্যামসনের সাথে দারুণ বোঝাপড়া ছিল মুস্তাফিজের। ফাইল ছবি

এবারের মৌসুমে রাজস্থানের হয়ে ১৪টি ম্যাচের সবগুলোতেই খেলছেন মুস্তাফিজ, উইকেটও নিয়েছেন সমান ১৪টি। গড় ৩১ এর চেয়ে সামান্য ওপরে (৩১.১৪), ইকোনমি রেট প্রায় সাড়ে ৮ (৮.৪১)। পরিসংখ্যানগুলো মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে হয়ত কিছুটা বেমানান লাগতে পারে, তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে এতটা খারাপও নয়!

Advertisment

তবে পরিসংখ্যান দিয়েই তো আর পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না মুস্তাফিজের বোলিং। তার বোলিংয়ের যে আসল অস্ত্র কাটার-স্লোয়ার, তা কে না জানে! চিরচেনা মুস্তাফিজের কাটার-স্লোয়ার এবারও বেশ ভালোই কার্যকরী ছিল। দারুণ কিছু ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের ফলে এবার বেশ আলোচনায় ছিলেন তিনি। কবজির মোচড়ে ব্যাটারদের বোকা বানিয়েছেন হরহামেশাই।

 

এ মৌসুমে মুস্তাফিজের সেরা বোলিং ছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে, ২০ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। ২২১ রান তাড়া করতে নেমে সেদিন উড়ন্ত শুরু পাওয়া হায়দরাবাদকে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন মুস্তাফিজই। তারপর বাদবাকি বোলাররা মিলে চেপে ধরাতে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি হায়দরাবাদ। শেষে আরও ২ উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ, ম্যাচটাও হেসেখেলে জিতে যায় রাজস্থান রয়্যালস। ম্যাচে রাজস্থানের সেরা বোলারও ছিলেন মুস্তাফিজই।

আরও একটি ম্যাচের কথা আলাদা করে বলতেই হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়া আইপিএলের দ্বিতীয় অংশে শুরুর দিকের ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে রাজস্থানের জয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মুস্তাফিজ। জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ৮ রান দরকার ছিল পাঞ্জাবের। ১৯ তম ওভারে মুস্তাফিজ দেন মোটে ৪ রান আর শেষ ওভারে কার্তিক তিয়াগি দেন মাত্র ১ রান, এই দুইয়ে ভর করেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজস্থান। মুস্তাফিজ-তিয়াগির কিপটে বোলিংয়ের কল্যাণেই প্রায় হেরে যেতে বসা ম্যাচ জেতে রাজস্থান।

স্লগ ওভারে মুস্তাফিজেই আস্থা ছিল স্যামসনের
স্লগ ওভারে মুস্তাফিজেই আস্থা ছিল রাজস্থানের। ফাইল ছবি

রাজস্থানের অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসনের আস্থাও ভালো করে অর্জন করতে পেরেছেন মুস্তাফিজ। মৌসুমজুড়ে রাজস্থানের বোলিং লাইনআপে বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল মুস্তাফিজের কাঁধে। আর মুস্তাফিজও প্রায়ই ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেখিয়ে সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। নতুন বলে সচরাচর বল করতে দেখা না গেলেও এবারের আইপিএলে বেশ কয়েকবার নতুন বল হাতে নিতে হয়েছে মুস্তাফিজকে। তাছাড়া মাঝের ওভারগুলোতেও হাত ঘুরিয়েছেন, স্লগ ওভারে ব্যাটসম্যানদের বেধড়ক পিটুনি থেকে কিছুটা রেহাই পেতেও অধিনায়ক স্যামসন মুস্তাফিজের হাতেই বল তুলে দিয়েছেন বহুবার। সবসময় সফল না হলেও অনেকবারই ছিলেন বেশ সফল।

আরও পড়ুন : রাজস্থান রয়্যালসকে নিয়ে মুস্তাফিজের আবেগঘন বার্তা

তাছাড়া এবারে রাজস্থান রয়্যালস নিজেদের বোলিং লাইনআপের অন্যতম সেরা অস্ত্র জফরা আর্চারকে পায়নি কোনো ম্যাচেই। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ভাগে এসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ক্রিস মরিস যেন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। তরুণ চেতন সাকারিয়া, কার্তিক তিয়াগিদেরকে নিয়ে রাজস্থানের বোলিং লাইনআপের নেতৃত্বে তাই ছিলেন মুস্তাফিজই। শুরুতে, মাঝে, শেষে বল করতে হয়েছে প্রায় সকল পরিস্থিতিতেই। পরিসংখ্যানেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কিছুটা হলেও- টুর্নামেন্টে রাজস্থানের তৃতীয় সেরা বোলার ছিলেন মুস্তাফিজই।

তবে পুরো টুর্নামেন্টই যে খুব আনন্দময় ছিল মুস্তাফিজের জন্য- এরকমটা বলার জো নেই। মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখতে হয়েছে তাকে। এ মৌসুমেই নিজের আইপিএল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মত এক ম্যাচে ৫০ এর বেশি রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। আমিরাতে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে বেশ খরুচে ছিলেন তিনি, ৪ ওভার বল করে দিয়েছিলেন ৫১ রান, ছিলেন উইকেটশূন্য। একদম ভুলে যাওয়ার মত একটি ম্যাচই ছিল সেটি।

এবারের আইপিএলে কাটার-স্লোয়ারের পাশাপাশি ইয়র্কারের ভালো ব্যবহারও দেখা গেছে তার কাছ থেকে। তবে এর বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা সেরকমভাবে চোখে পড়েনি। মাঝেমধ্যেই বাজে ডেলিভারি করে ফেলেছেন এবং তার ফলে রানও দিয়েছেন প্রচুর। তবে নিজেকে সামলে নিতে মুস্তাফিজ খুব বেশি সময় নেননি কখনই, খারাপ দিন কাটালেও হারাননি নিজের ছন্দ।

মুস্তাফিজ, আইপিএল, রাজস্থান রয়্যালস
মনে রাখার মত একটি আইপিএল পার করেছেন মুস্তাফিজ। ফাইল ছবি

মুস্তাফিজের নামের পাশে আরও কয়েকটা উইকেট যোগ হতে পারত যদি ঠিকঠাকমত ক্যাচগুলো ধরতে পারতেন রাজস্থানের ফিল্ডাররা। তাদের পিচ্ছিল হাতের খেসারত দিতে হয়েছে মুস্তাফিজকে, টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কয়েকটি ক্যাচ মিস হয়েছে মুস্তাফিজের বলে। এক্ষেত্রে মুস্তাফিজ নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন, ক্যাচগুলো ফিল্ডাররা লুফে নিতে পারলে যে পরিসংখ্যানটা আরেকটু সুশ্রী হতে পারত তার জন্য। তবে মুস্তাফিজ নিজে অবশ্য ভালোই ছিলেন ফিল্ডিংয়ে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ভাগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিপক্ষে ম্যাচে বাউন্ডারি লাইনে লাফিয়ে উঠে নিশ্চিত ছয় হতে যাওয়া বলকে আটকে দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন ৫ রান, যার ফলে বেশ প্রশংসিতও হন তিনি।

সবকিছু মিলিয়ে মুস্তাফিজের এবারের আইপিএল ছিল ভালো-মন্দের মিশ্রণ, যেখানে ভালোর ভাগটাই বেশি। আইপিএল যাত্রা শেষে আর কিছুদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে মুস্তাফিজ কেমন করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। কবজির মোচড়ে ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খাওয়ানোর দৃশ্যটা আরেকটু নিয়মিত দেখা গেলেই তো বাংলাদেশের বিশ্বকাপে ভালো করার সম্ভাবনাটা বাড়বে!

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।