Score

রানার্স আপ হলো রংপুর বিভাগ

জাতীয় ক্রিকেট লিগে রানার্স আপ হয়েছে রংপুর বিভাগ। খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করেছে তারা। অন্যদিকে এ ম্যাচ ড্র করে অবনমন ঠেকিয়েছে খুলনা বিভাগ। তারকায় ঠাসা দল খুলনা বিভাগের এবারের টুর্নামেন্টে ছিল বেহাল দশা।  তবে রংপুর বিভাগের সঙ্গে ম্যাচ ড্র করে প্রথম স্তরে থাকাটা নিশ্চিত করেছে খুলনা বিভাগ।

রানার্স আপ হল রংপুর

Also Read - "কোনো আঘাত দিয়ে থাকলে কষ্ট নেবেন না"

চতুর্থ দিন সকালটা চ্যালেঞ্জিং ছিল খুলনা বিভাগের জন্য। স্কোরবোর্ডে রান ১৯২, লিড ২০৪ রানের। হাতে উইকেট আছে ৪ টি।  এমন সময় একটি বড় জুটির দরকার ছিল খুলনা বিভাগের।দলের এমন অবস্থায় হাল ধরেন জিয়াউর রহমান এবং মইনুল ইসলাম। চতুর্থ দিন আরো ৭৩ রান যোগ করে এ জুটি। তাদের ৯৮ রানের জুটি খুলনা বিভাগকে স্বস্তি দেয়। সময় যত গড়ায়, খুলনা বিভাগের হারের শঙ্কা কমতে থাকে।

জিয়াউর রহমান এবং মইনুল ইসলামের জুটি ভাঙেন তানবির হায়দার। ৫২ রান করা জিয়াউর অরহমানকে বোল্ড করেন তানবির হায়দার। এরপর লোয়ার অর্ডারকে দাঁড়াতে দেননি সোহরাওয়ার্দী শুভ ও তানবির হায়দার। ১ রান করে সোহরাওয়ার্দী শুভ’র শিকার হন আব্দুর রাজ্জাক। রানের খাতা খোলার আগেই আব্দুল হালিম ফিরেন তানবির হায়দারের শিকার হয়ে। অর্ধশতক তুলে নেন মইনুল ইসলাম। দলীয় ২৮২ রানের মাথায় তানবির হায়দারের শিকার হন মইনুল। ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৭ টি চার।

তিনটি উইকেট নেন লেগ স্পিনার তানবির হায়দার। দুইটি করে উইকেট পান সোহরাওয়ার্দী শুভ, রবিউল হক এবং মাহমুদুল হাসান।

২৮২ রান করে অলআউট হয় খুলনা বিভাগ। রংপুর বিভাগের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৫ রান। ড্র তখন অনুমেয় ফলাফল। শুরুটা ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার রাকিন আহমেদ এবং মেহেদি মারুফ। ওপেনিংয়ে শতরানের জুটি গড়েন দুজন। দুজনেই পান অর্ধশতক। তবে অর্ধশতক হাঁকানোর পর ইনিংস লম্বা করতে পারেননি মেহেদি মারুফ। ৫০ রান করে মইনুল ইসলামের শিকার হন মেহেদি মারুফ।

দ্বিতীয় উইকেটে রাকিন আহমেদ ও তানবির আহমেদ যোগ করেন ২৮ রান। মেহেদি হাসানের শিকার হন তানবির হায়দার। ১২ রান করে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তানবির হায়দার। নিজের পরের ওভারে আবারো আঘাত হানেন মেহেদি হাসান। ১ রান করে নুরুল হাসানের হাতে বন্দি হন নাঈম ইসলাম।

ওপেনার রাকিন আহমেদকে ফিরে যান রান আউট হয়ে। ১০৯ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন রাকিন আহমেদ। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চার এবং ১ ছক্কায়। তিনি রান আউট হলে ১৫২ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে।

মাহমুদুল হাসান ও সোহরাওয়ার্দী শুভ মিলে গড়েন ১৭ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙ্গেন আব্দুর রাজ্জাক। ৭ রান করে রাজ্জাকের বলে নুরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মাহমুদুল হাসান। এরপর সোহরাওয়ার্দী শুভকে বোল্ড করেন মেহেদি হাসান। ৩৩ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন সোহরাওয়ার্দী শুভ। ৬ উইকেটে ১৮৪ রান করার পর ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয়।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৬১ রান করে খুলনা বিভাগ। ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন মইনুল ইসলাম। তিনটি করে উইকেট লাভ করেন রবিউল হক, তানবির হায়দার এবং সাজেদুল ইসলাম। জবাব দিতে নেমে ৮ উইকেটে ২৪৯ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে রংপুর বিভাগ। রংপুরের হয়ে অপরাজিত অর্ধশতক হাঁকান ধীমান ঘোষ। চার উইকেট শিকার করেন রাজ্জাক। প্রথম ইনিংসে ১২ রানের লিড পেয়েছিল খুলনা বিভাগ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
খুলনা বিভাগ ২৬১/১০, প্রথম ইনিংস, ৯৬ ওভার
মইনুল ৫৪, জিয়াউর ৪০, নুরুল ৩৬
তানবির ৩/১৪, সাজেদুল ৩/৫৮, রবিউল ৩/৬২

রংপুর বিভাগ ২৪৯/৮, ডিক্লেয়ার্ড, প্রথম ইনিংস, ৯৫.২ ওভার
ধীমান ৫০*, শুভ ৪৮, মারুফ ৪২
রাজ্জাক ৪/৬২, সৌম্য ১/২০, জিয়াউর ১/৩২

খুলনা বিভাগ ২৮২/১০, দ্বিতীয় ইনিংস, ৬৬.৩ ওভার
সৌম্য ৮৩, মইনুল ৫৫, জিয়াউর ৫২, নুরুল ৫২
তানবির ৩/৪০, রবিউল ২/১০

রংপুর বিভাগ ১৮৪/৬, দ্বিতীয় ইনিংস, ৫০.৫ ওভার
রাকিন ৭৪, মারুফ ৫০, শুভ ২৫
মেহেদি ৩/১৭, মইনুল ১/২৬


আরো পড়ুনঃ ঢাকা টেস্ট নয়, তামিমের চোখ  উইন্ডিজ সিরিজে


 

Related Articles

সৌম্য-সোহানের অর্ধশতক, বিবর্ণ তুষার

তিন পেসারের নৈপুণ্যে জিতল রাজশাহী

সাব্বিরের ‘১’ রানের আক্ষেপ

ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সাব্বির

এগারো হাজারি ক্লাবে তুষার ইমরান