রানার মৃত্যুর দিনে আরেক ক্রিকেট-প্রাণের অকালপ্রয়াণ

২০০৭ সালের ১৬ মার্চ সড়কে প্রাণ ঝরেছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানার। রানার সেই মৃত্যু এখনো কাঁদায় ক্রিকেট অঙ্গনকে। প্রতিভাবান এই অলরাউন্ডারের সাথে একই দিনে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ঘরোয়া ক্রিকেটার সাজ্জাদুল হাসান সেতু।

রানার মৃত্যুর দিনে আরেক ক্রিকেট-প্রাণের অকালপ্রয়াণ

Advertisment

দুই ক্রিকেটারকে হারানোর ১৪ বছর পূর্ণ হল যেদিন, সেদিনই অকালে ঝরে গেল আরও এক ক্রিকেট-প্রাণ। শাহরিয়ার কবির শুভ নামের বিকেএসপির এক ক্রিকেটার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপজয়ী তারকারের সাথে বিকেএসপিতে খেলেছিলেন তিনি। খেলেছিলেন বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের হয়েও (অনূর্ধ্ব-১৫)।

শুভর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন গেম ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওসার। তিনি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন শুভ। এরপর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন বিগত কয়েকদিন। অবশেষে সব প্রচেষ্টাকে বিফল করে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) ভোরে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

খেলোয়াড়ি জীবনে শুভ ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সময় তিনিই ছিলেন চালকের ভূমিকায়। যদিও সচেতনভাবে চলাফেরার জন্য বিসিবির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া থাকে ক্রিকেটারদের। আবু ইমাম মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘গাইডলাইন তো প্রত্যেককেই দেওয়া থাকে। একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত চলাফেরায় তো আর বিসিবির নজরদারি থাকে না। দুঃখজনক ঘটনা, আমাদের জন্য অনেক হতাশার।’

মঙ্গলবারই শুভর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিকেএসপির ক্রিকেট পাড়ায়। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য প্রান্তিক নওরোজ নাবিল আবেগঘন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার যেদিন কিছুই ছিল না সেদিনগুলাতে প্রত্যেকটা প্রয়োজনে তোমাকে আমি পাশে পেয়েছি। ভাই আমার কাছে আজকে অনেক গ্লাভস আছে, এত আছে যে আমি নিজেও গুনে শেষ করতে পারবো না। তুমি তো এক জোড়াও নিলা না! সারা জীবন দিয়াই গেলা, নিলা না কিছুই। তোমার যখন ব্যাট ভেঙে গিয়েছিল, আমি আমার রেকর্ড গড়া ব্যাটটাই দিয়েছিলাম। তুমি যে আমার কলিজার কোন জায়গায় ছিলা সেটা কী জানতা না তুমি? বুঝতা না? কেন আমারে ছাইড়া গেলা ভাই?’