Scores

রিয়াদকে বাদ দিতে যেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন সুজন

বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার পেছনের নাম খালেদ মাহমুদ সুজন। সুযোগ পেয়ে তারাও নিজেদেরকে মেলে ধরেছেন, দিয়েছেন সামর্থ্যের প্রমাণ। তারপরও তাদের নামে কটু কথা শুনতে হলে তো সুজনের খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। 

রিয়াদকে বাদ দিতে যেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন সুজন

রবিবার (২১ জুন) বিডিক্রিকটাইমের  বিশেষ সরাসরি আড্ডায় অতিথি ছিলেন সুজন। সরাসরি আড্ডায় চমক হিসাবে তার সাথে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটারের উঠে আসার পেছনেও রয়েছে সুজনের নাম। রিয়াদকে অনেক সহযোগিতা করেছেন তিনি।

Also Read - সুজনের চোখে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে একাদশ


২০১৭ সালে বাংলাদেশ নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচটি খেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের দেখা পায়। পারফরম্যান্সের ঘাটতি দেখিয়ে সেই ম্যাচে বাদ দেয়া হয় রিয়াদকে। তখন জাতীয় দলের ম্যানেজার ছিলেন সুজন। সরাসরি আড্ডায় সেই ঘটনা জানিয়েছেন রিয়াদ। তিনি বলেন,

‘ওইদিন যখন অনুশীলনে গেলাম, সুজন ভাই সবার আগে আমাকে ডেকে আলাদা করে বুঝিয়েছিলেন। মাঠে উনার চোখে পানি চলে আসে, আমার চোখেও পানি আসে। কারণ অবশ্যই শততম টেস্ট একটা বড় ব্যাপার। ওইটার অংশ হতে পারলে অনেক ভালো লাগতো। কিন্তু ওটা আমার ব্যর্থতা ছিল। খারাপ লাগা ছিল কিন্তু অভিমানের কিছু না।

এই অলরাউন্ডার আরও বলেন, ‘সবাই ঐতিহাসিক সময়ের অংশ হতে চাই। কিন্তু ওইটা ভেবে বসে থাকার কোনো অভিপ্রায় নেই। জীবন এভাবেই চলে যায়। ওটা আমার জন্য একটা শিক্ষণীয় সময় ছিল। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমার ভুল আমারই মেনে নেওয়া উচিত।’

সুজন বলেন একটা ক্রিকেটারের মাত্র কয়েক ম্যাচ দেখে তাকে বিচার করতে পারে সাধারণ দর্শকেরা। কিন্তু ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের কখনো এভাবে বিচার করা উচিত না। তিনি সবসময় এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন বলেও অকপটে স্বীকার করেন।

সুজন বলেন, ‘আজকের রিয়াদ তো একদিনে হয়নি। অনেক পরিশ্রম করে, কাঠখড় পুড়িয়ে, ত্যাগ অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এখানে এসেছে। কিন্তু এগুলো তো কেউ দেখে না। সাকিব কিন্তু একদিনে বিশ্বসেরা তৈরি হয়নি। আমি মানুষের এসব কথার সরাসরি উত্তর দিই। এসব বলার জন্য আমি অনেক মানুষের কাছে খারাপ।’

সেদিন শততম টেস্টের আগে রিয়াদের সাথে কথা বলার জন্য সুজনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই কথার প্রতিবাদও তিনি করেছিলেন এবং শেষে তিনিই আগে রিয়াদের সাথে যেয়ে কথা বলেন।

রিয়াদকে বাদ দিতে যেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন সুজন

 

সুজনের ভাষায়, ‘শততম টেস্টের সময় রিয়াদের খারাপ লেগেছে সেটা আমি অবশ্যই বুঝেছি। আমারও কথা বলতে খারাপ লেগেছিল। আমি বলেছিলাম, দল ঠিক করে কোচ, অধিনায়ক তাহলে আমি কেন কথা বলবো? আমাকে বলা হলো, আপনার সাথে রিয়াদ ভাইয়ের ভালো সম্পর্ক তাই।’

সুজনের চোখে রিয়াদ যেই জায়গায় ব্যাটিং করে সেখানে তার ২০-৩০ রানও অনেক মূল্যবান। বছরের পর বছর সেই কাজটা করে আসা রিয়াদ তার চোখে হিরো।

এই ব্যাপারে সুজন বলেন, ‘এটা এমন একটা জায়গা যেখানে আপনি হিরো হবেন অথবা জিরো হবে। রিয়াদ গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের হিরো। ও যেই জায়গায় ব্যাট আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে ওটা বেশ কঠিন জায়গা। ও বড় টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়। সে নিজেকে প্রমাণ করেও এসেছে।’

এই সাবেক ক্রিকেটার আরও উপদেশ দেন নিজের মতো এগিয়ে যেতে, ‘আমি সবাইকে বলবো, নিজের মতো করে খেল। কে কী বললো, কে কী বললো করলো- ওসব দেখা যাবে না। তোকে তোর থেকে ভালোভাবে বিচার আর কেউ করতে পারবে না। আমিও না। তুই জানিস তোর কোন সময় কী করতে হবে।’

খালেদ মাহমুদ সুজনের সরাসরি আড্ডাটি দেখুন এখানে :

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

সাব্বিরের লেগ স্পিনে অনেক সহায়তা করেন সুজন

সুজনের জন্মদিনে আইসিসির শুভেচ্ছা

যুবাদের নিয়ে ক্যাম্প শুরু করার ভাবনা বিসিবির

সুজন স্যার বলতেন, তুই-ই ম্যাচ জিতাবি : শান্ত

ছোটবেলা থেকে সুজন ভাইয়ের স্টাইলে বল করতাম : সৌম্য