Scores

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড

দুই ম্যাচ শেষে সিরিজে ১-১ এ সমতা থাকায় তৃতীয় ম্যাচ ছিল অলিখিত ফাইনাল। ম্যাচটাও হয়েছে ফাইনালের মতো! উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচের ফলাফল পাওয়া গিয়েছে শেষ ওভারে। তিন উইকেটে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা। 

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড
ম্যানচেস্টারে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং বাবর আজম দলকে ৪২ রানের ভিত গড়ে দেন। ইনিংস বড় করতে পারেননি বাবর। ১৩ বলে ১১  রান করে তিনি স্টাম্পিং হন লেগ স্পিনার আদিল রশিদের গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে।

এরপর আদিল রশিদের পাতা ফাঁদে দেন শোহাইব মাকসুদ আর মোহাম্মদ হাফিজও। নবম ওভারেই দুইজনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৩ রান করে মাকসুদ তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি রোপের একটু আগে দাঁড়িয়ে থাকা জেসন রয়ের হাতে ধরা পড়েন। হাফিজ ফিরেন স্কয়ার লেগে থাকা জনি বেয়ারস্টোকে ক্যাচ দিয়ে। ৬৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।

Also Read - 'আরও ভালো' খেলতে না পারার আক্ষেপ সাকিবের

পাকিস্তানকে পথ দেখান ফখর জামান আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজন মিলে যোগ করেন ৪৫ রান। তাদের জুটিতে চাপ সামাল দেয় পাকিস্তান। এ জুটি ভাঙেন মঈন আলী। ফখর ভয়ঙ্কর রূপ ধারণের আগেই এলবিডব্লিউ হন। ১ চার ও ১ ছক্কা মারা ফখর করেন ২০ বলে ২৪ রান।

ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান নিজের উইকেট আগলে রাখেন। তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি শাদাব খান আর ইমাদ ওয়াসিম। শাদাব ২ রান এবং ইমাদ ৩ রান করে আউট হলে স্লগ ওভারে পাকিস্তানের রানের গতি তেমন বাড়েনি।  তবে শেষদিকে হাসান আলীর ৯ বলে ১৫ রানের ইনিংস দলের ১৫০ রান পার করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। রিজওয়ান অপরাজিত থাকেন ৫৭ বলে ৭৬ রান করে। তার ইনিংসে ছিল ৫ চার আর ৩ ছক্কা।

১৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় ইংল্যান্ড। জেসন রয় এবং জস বাটলারের জুটিতে সূচনা থেকেই সঠিক পথেই থাকে ইংল্যান্ড। এক প্রান্ত থেকে ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকেন জেসন রয়। ২২ বলে ২১ রান করে বাটলার ফিরে গেলে তাদের ৬৭ রানের জুটি ভাঙে। অষ্টম ওভারে এ জুটি ভাঙেন শাদাব খান।

আরেক লেগ স্পিনার উসমান কাদির পাকিস্তানকে এনে দেন দ্বিতীয় সাফল্য। ঝড়ো ব্যাটিং করা রয় স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ফখর জামানের হাতে। ১২ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ৩৬ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন রওয়। রয়ের বিদায়ের পর স্বাগতিকদের রান তোলার গতিও শ্লথ হয়।

ক্রিজে থিতুই হতে পারেননি জনি বেয়ারস্টো এবং মঈন আলী। বেয়ারস্টো ৮ বলে ৫ রান করে ইমাদের শিকার হন এবং মঈন ১ রান করে হাফিজের বলে  বোল্ড হন। দ্রুত গতিতে রান তুলে চাপ কমিয়ে দেন ইয়ন মরগান। মালানের সঙ্গে মরগান যোগ করেন ৩১ রান। মরগানের ব্যাট থেকে ১২ বলে আসে ২১ রান, ১ টি চার আর ২ টি ছক্কা হাঁকান তিনি।

১৯ তম ওভারে এসে মালান হাফিজের বলে বোল্ড হন। ৩৩ বলে রান করেন ৩১। তার বিদায়ের পর ৮ বলে ১২ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। নেমেই প্রথম বলে ছক্কা মেরে সমীকরণ সহজ করে দেন লিয়াম লিভিংস্টোন। পরের বলেই ম্যাচ শেষ করতে গিয়ে লিভিংস্টোন ধরা পড়েন মাকসুদের হাতে।

শেষ ওভারে ৬ রান প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। হাসান আলীর করা ঐ ওভারে দ্বিতীয় বলেই আউট হন মরগান। শেষ চার বলে দরকার হয় চার রানের। ক্রিস জর্ডান দুই বলে দুইটি ডাবল নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

পাকিস্তান ১৫৪/৬, ২০ ওভার
রিজওয়ান ৭৬, ফখর ২৪, হাসান ১৫*
রশিদ ৪/৩৫, মঈন ১/১৯

ইংল্যান্ড ১৫৫/৭, ১৯.৪ ওভার
রয় ৬৪, মালান ৩১, মরগান ২১
হাফিজ ৩/২৮, শাদাব ১/২২

Related Articles

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে আফগান স্কোয়াডে চমক

ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ধবলধোলাই এড়াল শ্রীলঙ্কা

হারের জন্য ব্যাটিং ও ফিল্ডিংকে দুষলেন রিয়াদ

শাস্তি পেলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমা

চার দশক আগের স্মৃতির পুনরাবৃত্তি করল ভারত