Scores

রূপকথার বছরের কিছু অজানা আখ্যান

image

 

 

Also Read - টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য টাইগারদের প্রাথমিক দল


জান্নাতুল নাঈম পিয়াল

 

দেখতে দেখতে ২০১৫ এর একেবারে শেষ লগ্নে উপনীত আমরা। আর মাত্র কয়েকটা ঘন্টা, তারপরই বিদায় জানাতে হবে স্বপ্নের মত এই বছরটাকে। আমাদের ক্রিকেটকে এই বছরটা দুহাত ভরে দিয়েছে। টাইগাররা যেখানেই হাত দিয়েছে, সেখানেই যেন সোনা ফলেছে। ইতিহাসের প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন থেকে শুরু করে ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারতে, দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলের অহং মাটিতে মিশিয়ে টানা চার সিরিজ জয়, সব সাফল্যেরই তো সাক্ষী ছিল সোনায় মোড়ানো ২০১৫। কিন্তু টাইগারদের এই যে এতসব অর্জন, সে অর্জনের পথটা কি খুব একটা মসৃণ ছিল? মোটেই না। কখনো রুক্ষ মরুভূমির তপ্ত বালু পেরিয়ে, আবার কখনো খাড়া পর্বত বেয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে টাইগারদের। অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারই সাক্ষী হতে হয়েছে যা আগ্নেয়গিরির মত বিস্ফোরিত হতে হতেও শেষমুহূর্তে হয়নি। কিংবা হলেও লোকচক্ষুর আড়ালে ধামাচাপা দেয়া গেছে। এমনই কিছু অজানা গল্পের ডালি খুলতে আমাদের এই আয়োজন।

বিশ্বকাপ ২০১৫

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে খেলতে গোটা বাংলাদেশ দল তখন অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়ায়। হঠাৎই কোন এক কারণে তোড়জোড় শুরু হল দলের এক শীর্ষ ব্যাটসম্যানকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর। কারণটা জানলে নিশ্চিত চমকে উঠবেন। তিনি নাকি মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের এলিভেটরে এক তরুণীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছিলেন! অস্ট্রেলিয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী ও সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেয় ঘটনাটি। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছিল যে বাংলাদেশি ওই ব্যাটসম্যানকে হয়ত আইনের আওতায়ও আনা হতে পারত। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয়, সম্ভাব্য দুই পরিণতির কোনটাই ভোগ করতে হয়নি ওই টাইগার ব্যাটসম্যানকে। কারণ বাংলাদেশি অফিসিয়ালরা তাদের কূটনৈতিক দক্ষতায় পাশ কাটাতে পেরেছিলেন এই বিব্রতকর ইস্যুটি।

ভারত সিরিজ

ভারতের বিপক্ষে মুস্তাফিজুরের স্বপ্নের মত অভিষেক আর রাতারাতি খ্যাতির চূড়ায় উঠে যাওয়া আজ আর কোন অলীক কল্পনা নয়, চিরন্তন ক্রিকেট রূপকথার এক বাস্তব সত্য। কিন্তু এসব কিছুই হতো না, যদি না বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট স্বয়ং বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে এক দুঃসাহসী সিদ্ধান্তে না আসত। পাপন চাননি মুস্তাফিজুর ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে খেলেন। তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন স্পিনার আরাফাত সানি। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট বোর্ড প্রেসিডেন্টের পছন্দ অপছন্দকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দেয়। মুস্তাফিজুর ওই ম্যাচে শুধু খেলেনইনি, বল হাতে ওপেনও করেছিলেন। বাকিটা ইতিহাস।

***********

ভারতের বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক বাংলাওয়াশের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল টাইগাররা। মাত্র এক ম্যাচ দূরত্বে ছিল তারা সেই সোনার হরিণের। কে জানে, সেটা বোধহয় তাদের নাগালেও আসত, যদি না অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ইচ্ছাটা টিম মিটিংয়ে প্রাধান্য হারাত। ম্যাশ চেয়েছিলেন টসে জিতে ব্যাট নিতে। কিন্তু কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহ বাগড়া দেন সেই ইচ্ছেতে। ফলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন নড়াইল এক্সপ্রেস। আর তারপর তার দল চাপা পড়ে রানের পাহাড়ে, শেষমেষ মানতে হয় বিশাল ব্যবধানের পরাজয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ

এ সিরিজের প্রথম ম্যাচে এসে আবার মঞ্চস্থ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রনাট্য। টাইগার কাপ্তান মাশরাফির ইচ্ছে ছিল আগে ফিল্ডিং নেওয়ার। সব সেভাবেই ঠিকঠাক ছিল। কোচ হাথুরুসিংহ যে শেষবেলায় ম্যাশের কানে অন্য মন্ত্র জপে দিয়েছেন, তা ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি দলের অন্যরা। মাশরাফিকে টস জিততে দেখে সবাই ধরেই নেন ফিল্ডিং করতে হবে। কিন্তু ম্যাশ যখন টস শেষে ওপেনারদের কাছে গিয়ে বললেন প্যাডআপ করতে, তখন পিলে চমকে যায় সকলেরই।

***********

সময়টা একটু খারাপই যাচ্ছিল তামিম ইকবালের। প্রথম ম্যাচে রান পাননি, ব্যর্থ দ্বিতীয় ম্যাচেও। এমনিতেই ভেতরে ভেতরে গুমড়ে মরছিলেন। শেষবেলায় এসে যখন কোচের মুখে শুনলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট চান পরবর্তী ম্যাচে তাকে বসিয়ে রাখতে, আবেগের বাঁধ ভেঙে যায় তামিমের। বিকাল চারটা পর্যন্ত একাধারে চোখের পানি ফেলেন তিনি। পরে তাকে আশ্বস্ত করা হয় যে পরের ম্যাচে তিনি থাকছেন। ব্যাট হাতে তামিমের জবাবটাও হয়েছিল সেইরকম। দল যখন জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেছে, তামিম তখন ক্রিজে অপরাজিত ৬১ রানে। এটি ছিল তামিমের ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় ওয়ানডে ইনিংস যা তিনি অপরাজিত থেকে সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

***********

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে শুধু যে তামিমই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তা নয়। বোর্ড প্রেসিডেন্টের ওপর ত্যক্তবিরক্ত মাশরাফি তো এমনকি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতেও উত্যত হয়েছিলেন। আর তার পেছনে সঙ্গত কারণও ছিল। সিরিজের শুরু থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় যেমন দল নির্বাচন নিয়ে অহেতুক নাক গলাচ্ছিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। এবং টিম ম্যানেজমেন্ট যখন বোর্ড প্রেসিডেন্টের কিছু ‘সাজেশন’ অমান্য করতে শুরু করে, তিনি মিডিয়ায় এমন কিছু কথা বলে বসেন যা বরদাস্ত করতে পারেননি মাশরাফি। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয়, বৃহত্তর দলীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে মাশরাফি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। আর দল জয়ের ধারায় ফেরায়, বোর্ড প্রেসিডেন্টও আর বেশি বাড়াবাড়ি করেননি।

***********

এ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহ চেয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে না খেলানোর। কারণ হিসেবে তিনি রিয়াদের ম্যাচ ফিটনেসকে দায়ী করেন। উল্লেখ্য, মাত্র কিছুদিন আগেই ইনজুরি থেকে ফিরেছিলেন রিয়াদ। কিন্তু দলের অধিনায়ক মাশরাফি ও সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান কোচের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি। তারা এক যোগে কোচের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোয় শেষ মুহুর্তে, টসের ঠিক আগে কোচ তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। কিন্তু রিয়াদ ওদিকে ততক্ষণে জানতেন যে তিনি খেলছেন না। তাই রমজানের ফরয রোজা রাখছিলেন তিনি। হঠাৎ করে যখন জানলেন তিনি দলে আছেন, তখন প্রায় বেলা সাড়ে বারোটা। তাই আর রোজা ভাঙেননি তিনি। রোজা রেখেই খেলেন তিনি এবং তার পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসে ভর করেই সিরিজে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

***********

কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহের সাথে আরও একবার মতপার্থক্য হয়েছিল সাকিব-মাশরাফির। কোচ চেয়েছিলেন তিন ফরম্যাটেই উইকেট কিপিং এর দায়িত্ব লিটন দাসের কাঁধে চাপাতে। কিন্তু বাগড়া দেন অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক। কোচকে তারা বোঝাতে থাকেন যে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট হাতে সময়টা খুব বেশি ভাল যাচ্ছে না, এ অবস্থায় তার কাছে থেকে কিপিং গ্লাভস কেড়ে নিলে আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকবে তার।

সূত্র: নিউ এজ

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ