রোচের দৃঢ়তায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক উইকেটের জয়

ম্যাচের ভাগ্য দুলছিল পেণ্ডুলামের মতো। পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়াই চলছিল সমানে সমান। বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে আসলেও কেমার রোচের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায়  টান টান উত্তেজনার ম্যাচে এক উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রোচের দৃঢ়তায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক উইকেটের জয়

Advertisment

ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ছিল ১৬৯ রান। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার কিরন পাওয়েলকে হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ৯৭ রান করা অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট থিতু হতে পারেননি দ্বিতীয় ইনিংসে। শাহীনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারি খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ব্র্যাথওয়েট। প্রথমে আম্পায়ার পাকিস্তানের আবেদনে সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম।

নিজের পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে এনক্রুমাহ বনারকে বোল্ড করেন শাহীন। অফ স্টাম্পের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে স্ট্যাম্প হারান এনক্রুমাহ। শাহীনের আগুনে পুড়ে ভস্ম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডার। মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের আকাশে জমতে থাকের পরাজয়ের শঙ্কার মেঘ। সেই মেঘ দূরীভূত হয় রোস্টন চেইজ এবং জারমেইন ব্ল্যাকউডের ব্যাটে। তাদের জুটিতে ম্যাচে ফিরে আসে স্বাগতিকরা।

চতুর্থ উইকেটে চেইজ এবং ব্ল্যাকউড তুলেন ৬৮ রান। পানি পানের বিরতির পর যেন ছন্দ হারান চেইজ। ফাহিম আশরাফের বল স্লিপে থাকা ইমরান বাটের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নেন চেইজ। ৫৬ বল খেলে ২২ রান করেন তিনি। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ফাহিম আশরাফ নিজের পরের ওভারেই ঘটনা। এবার শিকার ছিলেন কাইল মেয়ার্স। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেন তিনি।

দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন ফাহিম। তার জোড়া আঘাতে জোরালো হয় পাকিস্তানের সম্ভাবনা। আট রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্ল্যাকউডকে এরপর সঙ্গ দেন জেসন হোল্ডার। তবে ব্ল্যাকউড অর্ধশতক তোলার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৭৮ বলে ৫৫ রান করে হাসান আলীর বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। এ ইনিংসের নিজের তৃতীয় ক্যাচ ধরেন ইমরান বাট।

দ্বিতীয় সেশনের শেষ ওভারে এসে জেসন হোল্ডারকে বোল্ড করেন হাসান আলী।  ড্রাইভ করতে চাইলেও হাসান আলীর বলের লাইনেই  যেতে পারেননি জেসন হোল্ডার। শেষ সেশনে ৩ উইকেটে ৫৪ রানের সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামেন জশুয়া ডি সিলভা এবং কেমার রোচ।

জশুয়া ও রোচ অষ্টম উইকেটে গড়েন ২৮ রানের জুটি। শাহীনের বলে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ক্যাচ নিয়ে ফেরান জশুয়াকে। এ উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচ অনেকটা পাকিস্তানের হাতের নাগালে চলে আসে। তবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সাথে ব্যাট করছিলেন কেমার রোচ। নিজের ব্যাটিংয়ের সীমিত সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়েই বের করতে থাকেন রান। আগলে রাখেন নিজের উইকেটটা।

১৫১ রানের মাথায় হাসানের বলে পুল করতে গিয়ে ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন জোমেল ওয়ারিকান। উইকেটরক্ষক রিজওয়ান সীমানার কাছাকাছি পর্যন্ত দৌড়ে গিয়ে লাফ দিয়ে এক দর্শনীয় ক্যাচ নিয়ে নবম উইকেটের পতন ঘটান। তখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭ রান দূরে।

সেখান থেকে রোচ এবং শেষ ব্যাটসম্যান জেইডেন সিলস মিলে মোকাবেলা করেছেন ২৫ টি বল। কিন্তু উইকেট নিতে পারেনি পাকিস্তান। বরং সুযোগ বুঝে রান আদায় করেছেন রোচ। ৫৭ তম ওভারে সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান। হাসানের বল কাভার ড্রাইভ করতে গেলে রোচের ব্যাটের কানায় লাগে বল। রিজওয়ান ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরতে চাইলেও তার নাগালের হালকা বাইরে দিয়ে বল চলে যায় সীমানার বাইরে। এ বাউন্ডারি ওয়েস্ট ইন্ডিজে হতে লক্ষ্যের দূরত্ব কমিয়ে আনে মাত্র ২ রানে। ঐ ওভারেই দলের জয় নিশ্চিত করেন রোচ।

এর আগে ৫ উইকেটে ১৬০ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান অলআউট হয় ২০৩ রানে।  ২০ রান করে রোচের বলে ফাহিম আশরাফ বিদায় নিলে দিনের প্রথম সাফল্য পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে পাকিস্তান উইকেট হারাতে থাকে। শেষদিকে ২৮ রানের ইনিংস খেলেন হাসান আলী। সেই ইনিংসের সুবাদে ২০০ রান পার করে তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান (১ম ইনিংস) ২১৭/১০, ৭০.৩ ওভার 
ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১ম ইনিংস) ২৫৩/১০, ৮৯.৪ ওভার

পাকিস্তান (২য় ইনিংস) ২০৩/১০, ৮৩.৪ ওভার
বাবর ৫৫, আবির ৩৪, রিজওয়ান ৩০
সিলস ৫/৫৫, রোচ ৩/৩০, মেয়ার্স ১/৩৩

ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২য় ইনিংস) ১৬৮/৯, ৫৬.৫ ওভার
ব্ল্যাকউড ৫৫, রোচ ৩০*,  চেইজ ২২
শাহীন ৪/৫০,  হাসান ৩/৩৭, ফাহিম ২/২৯