Scores

রোচের দেওয়া ‘স্লোয়ারে’ বদলে যায় কোহলির ক্যারিয়ার

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মিশন শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় গেছে ভারতীয় দল। সেখানে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি পর এবার টেস্ট সিরিজে মাঠে নেমেছে তারা। এই সিরিজের জনপ্রিয়তা আরো বাড়াতে স্টিভ স্মিথ ও বিরাট কোহলিকে এক মঞ্চে দাঁড় করিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে কোহলি তুলে ধরেন, তার ক্যারিয়ার বদলে যাওয়ার গল্প।

রোচের দেওয়া ‘স্লোয়ারে’ বদলে যায় কোহলির ক্যারিয়ার

বয়স ভিত্তিক দলে আলো ছড়িয়ে ভারতীয় দলে ডাক পান কোহলি। তবে শুরুতে দলে জায়গা শক্ত ছিল না তার। দলের কারও চোটে জায়গা মিললেও পরে আবার বাদ পড়তে হতো দল থেকে। সুযোগ পাওয়া প্রতি ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা। এরপর ২০০৯ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কেমার রোচের দেওয়া এক স্লোয়ারে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পান তিনি।

Also Read - 'মানসিক অত্যাচারে' ক্রিকেট ছেড়েছেন, দাবি আমিরের


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুখোমুখি হন স্মিথ, কোহলি। সেখান আগে থেকে তৈরি করা প্রশ্নে ভারতীয় অধিনায়কের কাছে স্মিথ জানতে চান, ‘ঠিক কোন ম্যাচ বা ইনিংসে মনে হয়েছে যে তুমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার যোগ্য?’

জবাবে কোহলি বলেন, ‘এটি আমার ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকের ঘটনা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমি প্রথমবার খেলতে নেমেছি, তাদের মাটিতে। সেবারই প্রথমবারের মতো ওপেন করতে নেমেছিলাম। এর আগে এমন অভিজ্ঞতা ছিল না আমার। ম্যাচের আগেরদিনও জানতাম না আমি খেলব।’

‘সেই ম্যাচের আগে রীরেন্দর শেবাগ ফিল্ডিং করতে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পান। তখন অধিনায়ক ধোনি এসে বলে, তুমি কি ওপেন করতে পারবে? আমি বলেছিলাম, আমি শুধু খেলতে চাই। এরপর পুরো পাঁচটা ম্যাচই খেলার সুযোগ পাই। খুব একটা খারাপ করিনি, তবে পূর্ণশক্তির দল ফেরত আসায় আবার বাদ পড়তে হয়।’- সাথে যোগ করেন তিনি।

এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আবার সুযোগ পান কোহলি, ‘২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আবার সুযোগ আসে। যুবরাজ সিংয়ের আঙুল ভেঙে গেলে আমি সুযোগ পাই। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ১৬ রানের মাথায় শহীদ আফ্রিদিকে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিই। পরে ম্যাচটি হেরে যাই আমরা। সেদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। বারবার মনে হচ্ছিল, আমার সব সুযোগ শেষ।’

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয় ভারত। সেই ম্যাচে অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংস খেলে প্রথমবারের মতো ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন কোহলি। সেই ইনিংসের পর তার মনে হয়, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে লম্বা সময় এই পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা সম্ভব।

কোহলি জানান, ‘এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ। পুরো সতেজ পিচ এবং কেমার রোচ তখন মাত্রই দলে এসেছিল। তখন মনে হয়েছে, এটাই আমার সুযোগ। কারণ, এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটা পূর্ণশক্তির নয়। আমি ড্রেসিংরুমে বসে ছিলাম। দেখলাম প্রথম বলটাই ১৫৩ কি.মি. প্রতি ঘণ্টা ছিল গতিবেগ। আমার মনে হয়েছিল, এই পর্যায়ে আমি রান করব কীভাবে?’

‘এরপর আমি যখন নামলাম। প্রথম বলটা সে বাউন্সার দিল। সেটি আমার বাহুতে আঘাত করে। দ্রুত গতির ডেলিভারি ছিল। আমি জানি না, কী কারণে সে পরের বলটি স্লোয়ার করে বসে। সুযোগ পেয়ে আমি বাউন্ডারি হাঁকাই। এবং অনেক চাপ সরে যায়। পরে আর খেলতে সমস্যা হয়নি। অপরাজিত ৭৯ রান করে প্রথমবার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতি।’– যোগ করেন।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

Related Articles

অজি বধের নায়ক সিরাজ-সুন্দরদের ‘মাহিন্দ্রা’র উপহার

সর্বোচ্চ রেটিং পেলো ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পিচগুলো

দেশে পৌঁছেই বাবার কবর জিয়ারতে ছুটে গেলেন সিরাজ

ফাইনালের লড়াইয়ে এগিয়ে গেল ভারত ও নিউজিল্যান্ড

পান্ট-পুজারার ব্যাটে চড়ে ভারতের সিরিজ জয়