লম্বা রেসের ঘোড়া হতে পারবেন সোহান?

0
1254

কিছুদিন আগে শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সফর দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান। একটা ওয়ানডে আর তিনটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগও পেয়েছিলেন। যেখানে দলের চাহিদামত পারফর্ম করে মোটামুটি একটা বার্তাও দিতে সক্ষম হন সোহান।

'৯' বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বরেকর্ড
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছেন সোহান।

শেষ ওয়ানডেতে প্রথমবারের মত সুযোগ পান সোহান।  যখন ব্যাট করতে আসলেন, প্রায় ৩০০ রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ তখন পরপর দুই বলে তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেট হারিয়ে প্রচন্ড চাপে। সোহান নেমেই চাপটাকে সামাল দেন দারুণভাবে।

Advertisment

১১৫ ছাড়ানো স্ট্রাইকরেটে খেলেন অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস। দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন সোহান। ফিনিশিংয়ে সোহানের এরকম দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিং অবশ্যই সকলের নজর কাড়েন। সোহানের সেই ইনিংসটাতে ছোট ছোট আরো কয়েকটা দিকও চোখে পড়েছে। রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটে সোহানের চটপটে স্বভাব, ১ রানকে ২ রানে পরিণত করার ক্রমাগত চেষ্টা, উইকেটের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলা সবকিছুই সোহানের ইনিংসে নতুন মাত্রা যোগ করে। এত বছর পর জাতীয় দলে ফেরা সোহান এরকম ব্যাটিং দিয়ে ভবিষ্যৎে আরো সুযোগ পাওয়ার দাবিও জানিয়ে রাখেন।

এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিন ম্যাচেই সুযোগ পান সোহান। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ বলে ১৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটাও দারুণ ছিল। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় হয়ত অতটা দরকারি ছিল না কিন্তু সোহানের জন্য অবশ্যই অতি দরকারি ছিল, অন্তত নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের জানান দেওয়ার জন্য হলেও। পরের ম্যাচে সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ ছিলেন সোহান। শেষ ম্যাচে একেবারে শেষ দিকে নেমে ব্যাট করার সুযোগ সেরকমভাবে পাননি, ১ বলে করেন ১ রান।

জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফিরেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলতে নামে টাইগাররা। যেখানে সবগুলো ম্যাচেই খেলেছেন সোহান। ব্যাট হাতে খুব বেশি ভালো করেছেন সেরকমটা হয়ত বলা যাবে না, তবে একেবারে ফেলে দেওয়ার মত পারফরম্যান্সও করেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে দ্রুত ৫ উইকেট হারানোর পর আফিফ হোসেন ধ্রুবর সঙ্গে সোহানের জুটিতে ভর করেই ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন সোহান, ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। আর পুরো সিরিজজুড়েই মিরপুরের স্লো, লো উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল এক গোলকধাঁধাঁ। ব্যাট হাতে খুব বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি তেমন কেউ। সোহানকে তাই খুব বেশি দোষারোপ করার সুযোগ নেই।

সোহান-আফিফের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট করছেন সোহান।

সোহানের বিষয়ে আরেকটা ব্যাপার বলতেই হবে, সেটা হচ্ছে সোহানের উইকেটকিপিং। উইকেটরক্ষক সোহান দেশসেরা- এটা নিয়ে সম্ভবত ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কারোরই সন্দেহ নেই। জিম্বাবুয়ে সফরে কিপিং করার সুযোগ পেয়ে সেই জায়গাটাতেও সোহান নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন। উইকেটের পেছনে সোহানের ক্ষিপ্রতা, চটপটে স্বভাব, দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে ফেলার ক্ষমতা, অনবরত কথা বলে দলকে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করা- সবকিছুই দেখা গেছে।

জিম্বাবুয়ের সাথে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে চাকাভার রানআউট তো সম্ভবত ম্যাচের পরিস্থিতিই ঘুরিয়ে দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার সাথে যেন আরো বেশি উন্নত হয়েছে সোহানের কিপিং। কোনো সুযোগই হাতছাড়া না করা, উইকেটের পেছন থেকে সবসময় কথা বলে মাঠের সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে থাকা, দায়িত্বশীল- এই সবকিছুই দারুণভাবে চোখে লেগেছে। সবমিলিয়ে সোহানের উইকেটকিপিং ছিল এককথায় অসাধারণ। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সোহানের উইকেটকিপিংও তাই ব্যাপক প্রশংসার দাবিদার। সোহানের এরকম পারফরম্যান্সের পর সাদা বলের ক্রিকেটে সোহানের হাতে পাকাপাকিভাবে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বটা তুলে দেওয়ার হয়ত এখনই উপযুক্ত সময়।

ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফর্মার সোহান অনেকদিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই ব্যাটিং-উইকেটকিপিং সবদিক দিয়েই নিজেকে চেনাতে পেরেছেন। সোহানের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের নজর কেড়েছে। সোহান আগামী দিনগুলোতে ক্রমাগত সুযোগ পান কীনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। সুযোগের যোগ্য দাবিদার যে সোহান এটা বোধহয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সোহানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন রঙিনতর হতে থাকুক, তাহলেই তো এগিয়ে যাবে দেশের ক্রিকেট।