শচীনের শতকের শতক ও মুশফিক-সাকিবদের জয়

0
930

২০১২ সালের ১৬ মার্চ এশিয়া কাপের চতুর্থ ম্যাচে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। আগে ব্যাটিং করে শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরিতে ২৯৩ রান সংগ্রহ করেছিল ভারত। মুশফিকের নেতৃত্বে সেই ম্যাচে বড় লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটের জয় বাংলাদেশ।

Advertisment

টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। শুরুতেই গৌতম গম্ভীরকে ফিরিয়ে দেন শফিউল ইসলাম। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে বিরাট কোহলি ও টেন্ডুলকার ১৪৮ রানের জুটি গড়েন। কোহলি অর্ধশতক করে ফিরলেও শতক তুলে নিয়েছিলেন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান টেন্ডুলকার। যেটা তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম শতক ছিল। ১১৪ রানে মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এরপরে সুরেশ রায়না দ্রুত অর্ধশতক তুলে নেন। তিনি করেন ৩৮ বলে ৫১ রান। অধিনায়ক ধোনি অপরাজিত ছিলেন ১১ বলে ২১ রান করে। ফলে ২৮৯ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। মাশরাফি দুইটি এবং শফিউল ও আব্দুর রাজ্জাক একটি করে উইকেট নেন।

জবাবে প্রথমেই নাজিমউদ্দিনকে হারায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশেরও দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের জুটি আসে তামিম-জহুরুলের কল্যাণে। তামিম ধীরগতিতে করেন ৭০ ও জহুরুল করেন ৫৩ রান। অর্ধশতক তুলে নেন নাসির হোসেনও। তিনি করেন ৫৮ বলে ৫৪ রান।

বল ও রানের ব্যবধান ক্রমেই বেশি হয়ে ওঠায় এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচটা হারতে বসেছে বাংলাদেশ। কিন্তু মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান দ্রুতগতির ইনিংস খেলে ম্যাচটা বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন। পঞ্চম উইকেটে ৩৬ বলে ৫০ পূর্ণ করে এই জুটি। মোট ৬৮ রান আসে সাকিব-মুশফিক জুটিতে।

২৫ বলে ৪৬ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার অপরাজিত টর্নেডো ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি করে চার ও ছয়ে। সাকিব করেছিলেন ৩১ বলে ৪৯ রান। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়। যদিও সেদিন সাকিবের আউটটি ছিল বিতর্কিত। নির্ধারিত ওভারের চার বল বাকি থাকতেই জয়সূচক বাউন্ডারিটি মারেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৫ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পায় বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: (৫০ ওভার) ২৮৯/৫ (টেন্ডুলকার ১১৪, কোহলি ৬৬, রায়না ৫১, ধোনি ২১, গম্ভীর ১১; মাশরাফি ২/৪৪, শফিউল ১/২৪, রাজ্জাক ১/৪১)

বাংলাদেশ: (৪৯.২ ওভার) ২৯৩/৫ (তামিম ৭০, নাসির ৫৪, জহুরুল ৫৩, সাকিব ৪৯, মুশফিক ৪৬, মাহমুদউল্লাহ ৪*; প্রবীণ কুমার ৩/৫৬, আশ্বিন ১/৫৬, জাদেজা ১/৩২)

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।

দেখুনঃ টাইগারদের বিজয়ের সেই মুহূর্ত-

ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।