শফিউলের অগ্নিঝরা বোলিংয়ে স্বস্তিতে দক্ষিণাঞ্চল

স্কোরকার্ডে খুব বেশি রান তুলতে না পারলেও শফিউল ইসলাম ও ফজলে মাহমুদের দৃঢ়তায় প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। প্রথমে ব্যাটিং করে ফজলের শতকে ২৬২ রান সংগ্রহ করে দলটি। ফিল্ডিংয়ে নেমে শফিউলের তাণ্ডবে দিনশেষে উত্তরাঞ্চলের ৫ উইকেট শিকার করা দক্ষিণাঞ্চল এগিয়ে ২১৬ রানে।

প্রতিদিন উন্নতির চেষ্টা করে যাচ্ছেন শফিউল

দক্ষিণাঞ্চলের ২৬২ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শফিউল তাণ্ডব ছড়ানো বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই চারটি উইকেট হারায় উত্তরাঞ্চল। অল্প পুঁজির পর বল হাতে নিয়ে ম্যাচের প্রথম বলেই লিটন দাসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন শফিউল। দ্বিতীয় বলে ২ রান দেওয়ার পর তিন নম্বর বলে বোল্ড করেন জুনায়েদ সিদ্দিককে।

Also Read - আবারো সুপার ওভার, আবারো নিউজিল্যান্ডের হার


ওভারের চতুর্থ বলে আবারও সাফল্য পান শফিউল। এ যাত্রায় তার শিকারে পরিণত হয় মিজানুর রহমান। তাকেও বোল্ড আউট করেন। তার বিদায়ের পর ক্রিজে এসে ২ রান নিয়ে রানের খাতা খোলেন নাঈম। তবে থিতু হতে পারেননি। প্রথম ওভারের শেষ বলে সরাসরি বোল্ড করে তাকেও সাজঘরের পথ ধরান ডানহাতি এ পেসার।

৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা উত্তরাঞ্চলের ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব পড়ে সানজামুল ইসলাম ও রনি তালুকদারের কাঁধে। এই জুটি ৪২ রান যোগ করতেই আবারো শফিউলের আঘাত। ১৬ রান করা সানজামুলকে বোল্ড করেন তিনি।

দিনশেষে উত্তরাঞ্চলের সংগ্রহ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ৪৬ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন ২৬ রান করা রনি ও রানের খাতা না খোলা তানবীর হায়দার। ১ মেডেনসহ ৬ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শফিউলের দখলে।

তার আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। বল হাতে তুলে নিয়ে প্রথম বলেই অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন তাসকিন। রানের খাতা খোলার আগেই শাহরিয়ার নাফীসকে সাজঘরে ফেরান এ পেসার।

এরপর দ্রুত ফিরে যান এনামুল হক (১০) ও শামসুর রহমান (২৭)। এবাদত হোসেন ও তাসকিনের তাণ্ডবে দলীয় ৭০ রানে টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে দলটি। চতুর্থ উইকেটে ফজলের সাথে দলের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজনে মিলে যোগ করেন ৭১ রান।

আরিফুলের বলে ব্যক্তিগত ৩১ রানে রিয়াদ আউট হলে ভাঙ্গে এ জুটি। এরপর আল-আমিন জুনিয়রকেও সজঘরের পথ ধরান আরিফুল। দ্রুত দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ে ১৪৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে দক্ষিণাঞ্চল।

চাপের মুখে দলের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লড়তে থাকেন ফজলে। নুরুল হাসানকে সাথে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়ার পথে তুলে নেন আসরের প্রথম সেঞ্চুরি। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ফজলে এরপর পাঁ দেন তানভীর হায়দারের লেগ-স্পিনের ফাঁদে। এবাদতের হাতে ক্যাচ দিলে থামে তার ১৭ চার ও ৩ ছক্কায় সাঁজানো ১২৫ রানের ইনিংস।

দলীয় ২২৪ রানে ফজলের বিদায়ের কিছুক্ষণ পর সজঘরে ফিরেন সোহানও। দুই সেট ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর দ্রুতই শেষ হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৬৭.৪ ওভার ব্যাট করে ২৬৭ করতে সক্ষম হয় দলটি। উত্তরাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সুমন। তাছাড়া তাসকিন, এবাদত ও আরিফুল হক প্রত্যাকেই লাভ করেন দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণাঞ্চল ২৬২/ ১০ (১ম ইনিংস)
ফজলে ১২৫, রিয়াদ ৩১, শামসুর ২৭, সোহান ২৬, বিজয় ১০;
সুমন ৩/৬৭, তাসকিন ২/৩৩, এবাদত ২/৫১।

উত্তরাঞ্চল ৪৬/৫ (১ম ইনিংস)
রনি ২৬*, সানজামুল ১৬, লিটন ০;
শফিউল ৫/৩০।

দক্ষিণাঞ্চল ২১৬ রানে এগিয়ে।