Scores

"শান্তিতে ঘুমাও"

phill-bdcricteam

আজমল তানজীম সাকির

আভিজাত্যের ক্রিকেট টেস্টের শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। রাতের বেলা, ফ্লাডলাইটের নিচে, গোলাপি বলে প্রথমবার। অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করবে নিউজিল্যান্ড। দু’দলই আঁটঘাঁট বেঁধে নামছে। গোলাপি বলের নতুন পরীক্ষা , মানিয়ে নিতে হবে তো! অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া আতিথেয়তা করবে নিউজিল্যান্ডকে।  আচ্ছা হিউজেস যদি থাকতেন তাহলে তিনি কি খেলতেন? হয়তো খেলতেন । ব্যাট হাতে যার মাঠ মাতানোর কথা আজ সে হিউজেসের জন্য মাঠে সতীর্থরা মাঠে নামে কালো আর্মব্যান্ড বেঁধে।

আজ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা গোলাপী বলের  রোমাঞ্চ অনুভব করতে ব্যস্ত।  ঠিক এক বছর আগের এই দিনে সতীর্থ ফিল হিউজকে হারানোর বেদনায় অস্ট্রেলিয়ানরা ব্যস্ত ছিল চোখের জল মোছায়।

Also Read - রংপুরকে হটিয়ে শীর্ষে মাশরাফির কুমিল্লা


অ্যাবোটের বাউন্সার, হিউজির লুটিয়ে পড়া

২৫ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাটিং করছিলেন হিউজেস। দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট করতে নামেন তিনি।  বাউন্সার, ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত করার জন্য বোলার অন্যতম প্রিয় এক অস্ত্র। প্রতিপক্ষ নিউ সাউথ ওয়েলসের পেসার অ্যাবোট হিউজিকে পরাস্ত করার জন্য ব্যবহার করলেন এ অস্ত্র। কিন্তু কে জানত এই অস্ত্রে শুধু হিউজির ব্যাট নয় তার জীবনও পরাস্ত হবে? বল হিউজেসের ঘাড়ে লাগার সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হিউজেস। হেলমেট পড়া অবস্থাতে বা কানের পাশের কিছু অংশ অরক্ষিত থাকে। সেই অরক্ষিত স্থানেই লাগে বল। সকল ক্রিকেটার জড়ো হন তার পাশে। ডাকা হয় অ্যাম্বুলেন্স।  সাথে সাথে মাঠ ছাড়তে হয় হিউজিকে। গন্তব্য হাসপাতাল। ম্যাচ ঘোষণা করা হয় পরিত্যক্ত।

মৃত্যুর সাথে লড়াই, অবশেষে প্রয়াণ

২৬তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়নি হিউজির। জন্মদিনের তিন দিন আগেই হিউজেস পাড়ি দেন না ফেরার দেশে। চিকিৎসক ব্রুকনার তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ২৭ নভেম্বর ভোরে অকাল প্রয়াণ ঘটে এ ক্রিকেটারের। হিউজেসের মৃত্যুর পরে শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় ক্রিকেট পাড়া। তৎকালীন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক তার পরিবারের পক্ষ হতে একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “এত ভালোবাসার ছেলেকে হারানোটা অপূরণীয় ক্ষতি”। আরও বলা হয়, “ক্রিকেটই ছিল হিউজেসের প্রাণ”। সাবেক ক্রিকেটার ব্রেট লির কাছে হিউজেসের মৃত্যুর বেদনা অবর্ণনীয়। ৩ ডিসেম্বর হিউজেসের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের।

৬৩ রান, নট আউট

জীবনের শেষ ইনিংসে হিউজেসের সংগ্রহ ছিল ৬৩ রান। ছিলেন নট আউট। এক বছর আগে না ফেরার দেশে চলে গেলেও হিউজি আজও ক্রিকেট প্রেমীদের মনে নট আউট রয়ে গিয়েছেন।

শান্তিতে ঘুমাও

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে হিউজেসের সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিলেন মাইকেল ক্লার্ক এবং ডেভিড ওয়ার্নার। বন্ধুর মৃত্যু নিয়ে কথা বলার সময় বেশ আবেগী হয়ে উঠেছিলেন ক্লার্ক।  বলেছিলেন,  “আমাদের ড্রেসিং রুমটা কখনো আগের মতো হবে না। আমরা তাকে ভালোবাসতাম, ভালোবাসবও।”

“শান্তিতে ঘুমাও বন্ধু। ”

বোলার অ্যাবোটকে দোষারোপ করা যাবে না কোনোভাবেও। কিন্তু তারপরও তিনি হয়েছিলেন অনুতপ্ত। নিজের কাঁধে  ইচ্ছে করেই দোষ চাপিয়ে সেই বলের উপর ইংরেজিতে লিখেছিলেন “আমি দুঃখিত ফিল।”

উজ্জ্বল ক্রিকেট ক্যারিয়ার

২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে হিউজেসের। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে হিউজেস খেলেছেন ২৬ টেস্ট ও ৪৯ ওয়ানডে। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ২৬ টেস্টে ৩২.৬৫ ব্যাটিং গড়ে রান করেছেন ১৫৩৫। ২৫ ওয়ানডেতে হিউজেস রান করেছেন ৮২৬। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫ টি শতক ও ১১ টি অর্ধশতক আছে হিউজেসের।  যার মধ্যে ৩ টি শতক টেস্টে, ২ টি শতক ওয়ানডেতে ও  ৭ টি অর্ধশতক টেস্টে ও ৪ টি ওয়ানডেতে।

জন্ম ও বেড়ে উঠা

১৯৮৮ সালের ৩০ নভেম্বর  অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকসভিলেতে জন্মগ্রহণ করেন হিউজেস। তার বাবার পেশা হলো কলা চাষ করা।  ছোটবেলায় হিউজেস দারুণ রাগবিও খেলতেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট ভালোবাসতেন হিউজেস। ম্যাকসভিলের আরএসএল ক্রিকেট ক্লাবে শৈশবে ক্রিকেট খেলতেন হিউজেস।  হিউজেস খুব দ্রুতই পারফরম্যন্সের মাধ্যমে উন্নতি করতে লাগলেন। ক্রিকেটের জন্য ম্যাকসভিলে ছেড়ে সিডনিতে আসেন হিউজেস। সেখানে খেলেন জেলা ক্রিকেট। ২০০৮ সালের অ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলেন তিনি।

হয়তো…

প্রশ্নটা হয়তো অদ্ভুত। হয়তো হাস্যকর। হিউজি কি ওপারে বসে বসে দিবা-রাত্রির টেস্ট দেখছেন? হয়তো…

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

‘মাশরাফি একজন ফাইটার’

ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্র ওয়ালশের কাছে

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ভারত

মেডিকেল রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সাকিবের এনওসি

শঙ্কা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ