Scores

শামসুরের শতকে প্রথম দিন পূর্বাঞ্চলের

ব্যাট হাতে যেন দারুণ সময় কাটাচ্ছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান। জাতীয় ক্রিকেট লিগের সর্বশেষ ম্যাচে খেলেছিলেন ১২১ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের প্রথম ম্যাচে ভালো না করতে পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে আবারো জ্বলে উঠেছে তার ব্যাট। ২২৮ বলে ১৫৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম দিনে আধিপত্য বিস্তার করেছে পূর্বাঞ্চল।

শামসুরের শতকে প্রথম দিন পূর্বাঞ্চলের

রাজশাহীতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে পূর্বাঞ্চল। দলের হয়ে ইনিংস সূচনা করেন রনি তালুকদার এবং শামসুর রহমান। দুই ওপেনার পূর্বাঞ্চলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। ওপেনিং জুটিতে দুজন মিলে রান তুলেন ৯২। রানের গতিও ছিল বেশ সচল। ওভারপ্রতি গড়ে চারের কাছাকাছি রান তুলছিল পূর্বাঞ্চল।

Also Read - সেরা পাঁচ বাংলাদেশি টেস্ট ব্যাটসম্যান ও বোলারের তালিকা


২৫ তম ওভারে এ জুটি ভাঙেন দক্ষিণাঞ্চলের আব্দুর রাজ্জাক। এ বাঁহাতি স্পিনারের বলে বোল্ড হন রনি তালুকদার। অর্ধশতক হাঁকিয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। ৭৮ বল মোকাবেলা করে ৫৩ রান করেন রনি তালুকদার। তার ইনিংসে ছিল সাত চার এবং এক ছক্কা।

এরপর শামসুর রহমানকে সঙ্গ দেন মাহমুদুল হাসান। শামসুর রহমান ও মাহমুদুল হাসান মিলে গড়েন ৬৫ রানের জুটি। থিতু হলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি মাহমুদুল হাসান। ৭৩ বলে ২১ রান করে আব্দুর রাজ্জাকের বলে পরাস্ত হন মাহমুদুল হাসান। সাঁজঘরে ফিরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। এরপর জাকির হাসানকেও টিকতে দেননি আব্দুর রাজ্জাক। জাকির হাসানকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন আব্দুর রাজ্জাক। ২০ বল খেলে মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন জাকির হাসান। ক্যাচ দেন উইকেটেড় পেছনে থাকা নুরুল হাসান সোহানকে।

এক প্রান্ত আগলে রাখা শামসুর রহমান ও তাসামুল হক মিলে গড়েন ৯৯ রানের জুটি। শতক তূলে নেন শামসুর রহমান। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার ১৬ তম শতক। শুধু তাই নয়, এ ইনিংস দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাত হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন শামসুর রহমান। এ ইনিংসের আগে সাত হাজার রানের মাইলফলক থেকে ৬৭ রান দূরে ছিলেন শামসুর রহমান।

শামসুর রহমানকে থামিয়েছেন এক পার্টটাইম বোলার। তিনি হলেন বাঁহাতি স্পিনার ফজলে মাহমুদ রাব্বি। দলীয় ২৬৬ রানের মাথায় ফজলে মাহমুদের বলে নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন শামসুর রহমান। নামের পাশে তখন ১৫৩ রান। ২২৮ বলে ১৫৩ রানের এ দুর্দান্ত ইনিংসের পথে শামসুর রহমান হাঁকান ১৭ চার ও ২ ছক্কা।

এরপর তাসামুল হককে নিয়ে দলের হাল ধরেন ইয়াসির আলি। দিনের বাকি সময়টা উইকেট আগলে রাখেন তারা। ৮০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটি গড়েছেন তাসামুল হক এবং ইয়াসির আলি। ৪ চারে ১০৪ বলে ৪৭ রান করে অপরাজিত রয়েছেন তাসামুল হক। অপর প্রান্তে ইয়াসির আলি অপরাজিত ৪৭ বলে ২৬ রান করে। দিনশেষে পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩১৪ রান। তিনটি উইকেট শিকার করেছেন আব্দুর রাজ্জাক। এক উইকেট পেয়েছেন ফজলে মাহমুদ।

দক্ষিণাঞ্চলের বাকি বোলাররা ছিলেন নিস্প্রভ। জাতীয় দলের তিন ডানহাতি পেসার শফিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন রুবেল হোসেন তিনজনই ছিলেন উইকেটশুন্য। ১৫ ওভার বোলিং করে ৫৩ রান দিয়েছেন শফিউল ইসলাম। আল-আমিন হোসেন ১২ ওভার করে গুণেছেন ৩২ রান দিয়েছেন। উইকেট না পেলেও সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন আল-আমিন হোসেন। আরেক পেসার রুবেল হোসেন ১৪ ওভার বোলিং করে তিন মেইডেন নিয়েছেন, রান দিয়েছেন ৪৬।

প্রথম দিনশেষে বেশ শক্ত স্থানে রয়েছে পূর্বাঞ্চল। প্রথম দিনেই স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান তূলে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পরাজিত হওয়া দক্ষিণাঞ্চল রয়েছে চাপে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 

প্রথম দিনশেষে,

পূর্বাঞ্চল ৩১৪/৪, প্রথম ইনিংস, ৯০ ওভার
শামসুর ১৫৩, রনি ৫৩, ইয়াসির ৪৭*
রাজ্জাক ৩/১১১, ফজলে মাহমুদ ১/১০


আরো পড়ুনঃ ১১ ধাপ এগিয়েছেন মুমিনুল, ক্যারিয়ার সেরা অবস্থানে তাইজুল


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


Related Articles

বিগ ব্যাশের দলে নেওয়া যাবে ৬ বিদেশি ক্রিকেটার!

ঘরোয়া ক্রিকেটকেও বিদায় বললেন ডুমিনি

আশরাফুলের অনুপ্রেরণা ফরহাদ রেজা

উপেক্ষিত থাকছেন না ডিপিএলের পারফর্মাররা

তাণ্ডবের আগে ‘নার্ভাস’ ছিলেন সৌম্য