শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকল দোলেশ্বর


শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকার জন্য মোহামেডানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না প্রাইম দোলেশ্বরের। শাহরিয়ার নাফীস ও মার্শাল আইয়ুবের ব্যাটিং নৈপুণ্য ও বোলিংয়ে বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে জয় এনে দিয়েছে দোলেশ্বরকে। এ জয়ের সুবাদে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে রইলো তারা।

ফতুল্লায় প্রথমে ব্যাট করতে নামে প্রাইম দোলেশ্বর। মোহামেডানের বোলাররা আটকে রেখেছিলো দুই ওপেনার জাকের আলি ও শাহরিয়ার নাফীসকে। ২৯ রানের মাথায় প্রথম আঘাত হানেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। ৩৪ বলে ১৪ রান করে ফিরে যান জাকের। এ ২৯ রান তুলতে ৬৪ বল খরচ করে তারা।

Advertisment

এরপর ইমতিয়াজ ও নাফীসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দোলেশ্বর। ৭৯ রানের জুটি গড়েন দুজন। ৪৮ রানের ইনিংস খেলে জুবায়েরের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ইমতিয়াজ। মার্শাল আইয়ুবকে নিয়ে আরো ৫১ রান যোগ করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান নাফীস। ৬ চারে ১০৩ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলে বিপুল শর্মার শিকার হন তিনি।

অর্ধশতক তুলে নেন মার্শাল আইয়ুবও। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন রজত ভাটিয়া। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩২ বলে ৩৭ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন তিনি। ২১১ রানের মাথায় মার্শাল ও ২৫০ রানের মাথায় আউট হন ভাটিয়া। ইনিংসের সমাপ্তিটাও চমৎকার হয় দোলেশ্বরের। আগ্রাসী ব্যাটিং করে ২০ রান করেন ফরহাদ রেজা।

২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছিল মোহামেডানের সামনে। শুরুটা ভালোই হয়েছিল দুই ওপেনারের ব্যাটে। বেশ দ্রুত স্কোরবোর্ডে রান তুলছিলেন শামসুর রহমান ও সৈকত আলি। তৃতীয় ওভারে দলীয় ২১ রানের সময় ফরহাদ রেজার বলে আউট হন সৈকত। প্রথম উইকেট হারানোর পর ধস নামে মোহামেডানের সামনে। বড় স্কোর গড়ার দায়িত্ব পালন করেননি কেউ।

নিজের পরের ওভারে রনি তালুকদারকে বোল্ড করেন ফরহাদ। শামসুরকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন বিপুল শর্মা। ৪৭ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে দেলোয়ার হোসেনের বলে রেজাকে ক্যাচ দেন তিনি। ঐ ওভারে তাইজুলকেও ফেরান দেলোয়ার। পরের ওভারে রাহাতুল ফেরদৌসের বলে আউট হন শামসুর (২৬)। বিপুল শর্মার ইনিংসে ভর করে মোহামেডান লড়াইয়ে ফিরলেও দুই ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে আবারো ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।

নিজের পরের ওভারে রকিবুল হাসানকেও আউট করেন রাহাতুল। দলীয় ১০৩ রানের মাথায় পতন ঘটে ষষ্ঠ উইকেটের। এরপর সাজেদুলকে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়েন নাজমুল। তাদের জুটি ভাঙেন শরীফুল্লাহ। ৩২ বলে ৩১ রান করা সাজেদুলকে নিজের পরের ওভারেই ফিরিয়ে দেন শরীফুল্লাহ। ঐ ওভারে শুভাশিষকে আউট করেন তিনি। দলীয় ১৬৭ রানের মাথায় জুবায়ের হোসেনকে রান আউট করে জয় নিশ্চিত করে দোলশ্বর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর প্রাইম দোলেশ্বর ২৬৪/৬, ৫০ ওভার
নাফীস ৭০, মার্শাল ৫০, ভাটিয়া ৩৭
সাজেদুল ২/৩৫, জুবায়ের ১/২০

মোহামেডান ১৬৭/১০, ৩৪.৫ ওভার
বিপুল ৪৮, সাজেদুল ৩১, শামসুর ২৬
শরীফুল্লাহ ৩/৩২, দেলোয়ার ২/২৩, ফেরদৌস ২/২১

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম ডট কম