শুভ সূচনা করল ওমান, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত

এশিয়া কাপের বাছাই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে ওমান, মালয়েশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। হং কংকে তিন উইকেটে হারিয়েছে মালয়েশিয়া। আরেক ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে সাত উইকেটের বড় জয় পেয়েছে ওমান। এশিয়া কাপের আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে পাত্তাই পায়নি সিঙ্গাপুর। হেরেছে ২১৫ রানে। 

হং কং বনাম মালয়েশিয়াঃ  টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে হং কং। ক্যামেরন ম্যাকসলান এবং অনুশমান রথের উদ্বোধনী জুটি বড় হতে দেননি সাইয়াজরুল ইদরুস। ইদরুসের বলে দলীয় ১৭ রানের মাথায় সৈয়দ আজিজের হাতে ক্যাচ ম্যাকসলান। এরপর বাবর হায়াত এবং রথ মিলে যোগ করেন ৪২ রান। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে পভনদীপ সিং অধিনায়ক রথকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন। ২৮ বলে ২২ রান করেন রথ।

Advertisment
শুভ সূচনা করল ওমান, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
মালয়েশিয়ার উইকেট উদযাপন। ©এসিসি

পরের বলে নিজাকাত খানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন পভনদীপ। দলীয় ৭২ রানের মাথায় কিঞ্চিত শাহকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন পভনদীপ। পভনদীপের তোপে খেই হারিয়ে ফেলে হং কং। একপ্রান্ত আগলে বাবর হায়াত পূর্ণ করেন অর্ধশতক। এহসান খানের সাথে যোগ করেন ৩১ রান। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় সাহায্যে ৫৮ বলে ৫৮ রান করে সুহ্যারিল ফেত্রির শিকার হন বাবর। নিজের পরেরর ওভারে এহসানকেও (১২) ফেরান ফেত্রি। শেষদিকে আইজাজ খানের ১৪ ও স্কট ম্যাকেচনির ২৬ ছাড়া উল্লেখ করার মত রান করতে পারেনি কেউ। ১৬১ রান করে গুটিয়ে যায় হং কং। তিনটি করে উইকেট পান ইদরুস, পভনদীপ ও ফেত্রি।

জবাবে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় মালয়েশিয়া। ১ চার ও ১ ছক্কায় ৪ বলে ১০ রান করে তানভীর আফজালের বলে বাবর হায়াতের হাতে ক্যাচ দেন আনোয়ার আরুদিন। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সুহ্যারিল ফেত্রি। ১৮ বলে ৪ রান করে বোল্ড হন নাদিম আহমেদের বলে। অধিনায়ক আহমেদ ফাইজকেও (৪) ফেরান নাদিম। ৩৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে মালয়েশিয়া।

প্রতিরোধ গড়ে তুলেন শফিক শরিফ এবং ভিরানদিপ সিং। দুজন মিলে যোগ করেন ৪৩ রান। অর্ধশতক থেকে ১ রান দূরে থেকে দলীয় ৮০ রানের মাথায় নাদিমের বলে এলবিডব্লিউ হন শফিক। ৫৬ বলে ১৬ রান করা ভিরানদিপকে ফেরান এহসান নেওয়াজ। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় মুহাম্মাদ সাইয়াহাদাতকে নাদিম বোল্ড করলে আশা জেগে উঠে হং কংয়ের। ৩৬ বলে ২৩ রান করেন তিনি।

সপ্তম উইকেতে সৈয়দ আজিজদ এবং শারভিন মুনিয়ানদির ৩৫ রানের জুটিতে ম্যাচ হাতের মুঠোয় চলে আসে মালয়েশিয়ার। দলীয় ১৫৩ রানের মাথায় আজিজ (৩৪ বলে ২৫) রান আউট হলেও তা হারের ব্যবধানই কমায়। দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মুনিয়ানদি এবং ইদরুস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ হং কং ১৬১/১০, ৪৬.৪ ওভার (বাবর ৫৮, ম্যাকেচনি ২৬, রথ ২২, পভনদিপ ৩/১৩, ফেত্রি ৩/২৪)
মালয়েশিয়া ১৬২/৭, ৪২.৫ ওভার (শফিক ৪৯, আজিজ ২৫, সাইয়াহাদাত ২৩, নাদিম ৪/২৫, আফজাল ১/১৪)

নেপাল বনাম ওমানঃ টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা নেপালকে শুরুতে ৩১ রানের ভিত গড়ে দেন জ্ঞানেন্দ্র মাল্লা এবং সুবাশ খাকুরেল। ৩১ রানের মাথায় খাকুরেল (৪) রান আউট হলে ওপেনিং জুটি ভাঙে। এরপর পরাশ খাড়কাকে সাথে নিয়ে আরো ২৫ রান যোগ করেন মাল্লা। ৮ রান করে লালচেতার শিকার হন খাড়কা। পরের ওভারে বিলাল খান ফিরিয়ে দেন মাল্লাকে। সাগর পুন ও দিপেন্দ্র আইরির জুটিও বড় হয়নি। দলীয় ৮০ রানের মাথায় আইরিকে ফেরান নাদিম।

শুভ সূচনা করল ওমান, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাটিংয়ে ওমান। ©এসিসি

পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন সাগর ও আরিফ শেখ। দুজন মিলে যোগ করেন ৯২ রানের জুটি। তবে রানের গতি ছিল মন্থর। ৭৪ বলে ৩৬ রান করে আরিফ ফিরেন নাদিমের বলে। রোহিত পৌদেল এবং সোমপাল কামি ফিরে যান দ্রুত। শেষে ঝড় তুলেন করণ কেসি। ১০ বলে ২৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন করণ। শেষ ওভার পর্যন্ত টিকে থাকা সাগর করেন ৮৪ বলে ৮৩। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ২ ছয়। ৯ উইকেটে ২২১ রান করে নেপাল।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আকিব ইলিয়াস ও জতিন্দার সিং মিলে ৩৩ রান তুলেন। ২০ বলে ১৬ রান করে পরাশ খাড়কার বলে এলবিডব্লিউ হন ইলিয়াস। এরপর ভৈভভ ভাতেগাওনকারকে সাথে নিয়ে জতিন্দার যোগ করেন ৩৮ রান। ৩০ রান করে রান আউট হন জতিন্দার।

এরপর ভাতেগাওনকার ও খাওয়ার আলি মিলে যোগ করেন ৭৬ রান। ৬৯ বলে ৪১ রান করে রান আউট হন ভাতেগাওনকার। অধিনায়ক জিসান মাকসুদ ও খাওয়ার আলি চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৭৭ রানের জুটি। এ জুটিতে জয় নিশ্চিত হয় ওমানের। ৯৬ বলে ৮৪ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন খাওয়ার। অপর প্রান্তে জিসান অপরাজিত ছিলেন ৩৬ বলে ৪৫ রান করে। দুই ওভার হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে ওমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ নেপালঃ ২২১/৯, ৫০ ওভার (সাগর ৮৩, মাল্লা ৪৫, আরিফ ৩৬, লালচেতা ২/৩৪ বিলাল ২/৫৪)
ওমান ২২৪/৩, ৪৮ ওভার (খাওয়ার ৮৪*, জিসান ৪৫*, খাড়কা ১/২৪)

সিঙ্গাপুর বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ ৪৯ ওভারের ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুই ওপেনার আশফাক আহমেদ ও চিরাগ সুরি ওপেনিং জুটিতে ঝড় তুলেন। দ্রুতগতিত ১০৫ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান আশফাক ও চিরাগ। ৫৩ বলে ৬৪ রান করা আশফাককে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন মানপ্রিত। রোহান মুস্তাফা (৭) ফিরে যান দ্রুত। রোহান রঙ্গরজনের বলে বোল্ড হন তিনি।

রমিজ শেহজাদ শুরুতেই ১ চার ও ১ ছক্কা হাঁকালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৩ বলে ১৩ রান করে ১৩৮ রানের মাথায় বিদায় নেন রমিজ। এরপর শায়মান আনোয়ারকে নিয়ে হাল ধরে চিরাগ সুরি। তাদের ১৩৪ রানের জুটিতে বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করানোর সম্ভাবনা বেঁচে থাকে। ৬২ বলে ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে বিদায় নেন শায়মান। তার ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৪ ছক্কা। শতক হাঁকান চিরাগ সুরি। ১১১ রানের ইনিংস খেলে দলীয় ২৯৯ রানের মাথায় আউট হন চিরাগ। তার ইনিংস সাজানো ছিল ১২ চার ও ২ ছক্কায়। ৩১২ রানের বড় পুঁজি পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি সিঙ্গাপুর। শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে তারা। তৃতীয় ওভারে ওপেনার রোহান রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেন মোহাম্মদ নাভিদের বলে। আরেক ওপেনার অরিত্র দত্ত (৪) ফিরে যান ১৪ রানের মাথায়। তাকে ফেরান আহমেদ রাজা। ঐ ওভারে অর্জুন মুতরেজাকেও ফিরিয়ে দেন রাজা। ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ছিটকে যায় সিঙ্গাপুর।

শুভ সূচনা করল ওমান, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবেদন। ©এসিসি

এরপর রেজা গাজানভিকে ফেরান রোহান মুস্তাফা। পরের বলেই বোল্ড হন মানপ্রিত সিং। ১৯ রান তুলতেই অর্ধেক উইকেট শেষ। ষষ্ঠ উইকেটে ২২ রান তুলেন পরম এবং চেতন সূর্যভানশি। ১০ রান করে রাজার শিকার হন পরম। অভিরাজ সিং, আর‍্যমান সুনীল আর অনন্থা কৃষ্ণা ফিরে যান ০ রান করে। ৫০ রানে ৯ উইকেটের পতন ঘটে। সবাই যখন আসা যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত তখন ব্যতিক্রম অধিনায়ক চেতন। শেষ উইকেটে আমজাদ মাহবুবকে নিয়ে ৪৭ রান যোগ করেন চেতন। তুলে নেন অর্ধশতক। অপরাজিত ছিলেন তিনি। অপর প্রান্তে আমজাদকে নিজের ষষ্ঠ শিকারে পরিণত করে সিঙ্গাপুরকে ৯৭ রানে গুটিয়ে দেন রাজা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩১২/৮, ৪৯ ওভার (চিরাগ ১১১, শায়মান ৭৫, আশফাক ৬৪, আমজাদ ৩/৬১, কৃষ্ণা ২/৫৩)
সিঙ্গাপুর ৯৭/১০, ২৫.৪ ওভার (চেতন ৫১*, আমজাদ ১৭, পরম ১০, রাজা ৬/২০, রোহান ২/২৪)


আরো পড়ুনঃ ‘চুলে নয়, বলে তাকাও’