Scores

শূন্যে শুরু, শূন্যেই শেষ

প্রবাদে আছে, “শেষ ভালো যার সব ভালো তার” কিন্তু আদৌতেও কি এ’কথার পূর্ণ যথার্থতা রয়েছে? একজন ব্যাটসম্যানের কাছে তো অন্ততপক্ষে নয়। ইনিংসের শুরুটাই যদি তেতো হয় তাহলে শেষটা তো আর দৈবযোগে মধুর হবে না। ইংরেজদের আবিষ্কৃত চিত্তরসে ভরপুর ‘ক্রিকেট’ নামের ব্যাট-বলের লড়াইয়ের রয়েছে সুপ্রাচীন, সমৃদ্ধ  ইতিহাস। সেখানে স্থান করে নিয়েছে মাঠ এবং মাঠের বাইরের কতশত কীর্তি, যেমন উল্লেখ রয়েছে বহুল গৌরব কথা আবার তেমন বিষাদে ঠাসা লজ্জার কাব্য ও কম রচনা হয়নি।

আজ পাঠকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো সেই সকল ব্যাটসম্যানদের যাদের রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয়েছে রিক্ত হস্তে।  অনাকাঙ্ক্ষিত এই রেকর্ড অর্জনকারীদের নিয়ে করা  প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে থাকছে তাদের কথা যাদের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ‘কিং অব পেয়ার’ উপাধিটি। আসলে এই কিং অব পেয়ার মূলত কি? একটি নির্দিষ্ট টেস্ট ম্যাচে যখন একজন ব্যাটসম্যান উভয় ইনিংসেই নিজের মোকাবিলা করা প্রথম বলেই (গোল্ডেন ডাক) আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তখন তার নাম সেই তালিকায় যোগ করা হয়। ইতিহাস নিঙড়ে এখন অব্দি ২০ জন এমন ব্যাটারের সন্ধান মিলেছে যাদের নামের পাশে রয়েছে এই লজ্জার রেকর্ডের সীলমোহর।

‘অলআউট’ দলের কেউ নিতে পারেননি ১ রানও! -

Also Read - তামিম-মুশফিকদের বাধ্যবাধকতা নেই, স্মিথ-ওয়ার্নারদের জন্য চিরস্থায়ী!


প্রথম খন্ড :

১. উইলিয়াম এট্টাওয়েল : কিং অফ পেয়ার ক্লাবের প্রথম সদস্য এট্টাওয়েলের জন্ম ১২ জুন, ১৮৬১। ইংল্যান্ড জাতীয় দলে আহামরি সাফল্যের দেখা না পেলেও নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে যথাযথ একজন ডানহাতি মিডিয়াম পেস অলরাউন্ডার ছিলেন তিনি সেটা তার পরিসংখ্যানেই স্পষ্টত। ৪২৯ ম্যাচে ৮০৮৩ রানের সাথে ১৯৫১ উইকেট। ক্যারিয়ার শেষে কিছুকাল আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন উনি। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে সিডনি টেস্টে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেয়ারের তিক্ততার স্বাদ লাভ করেন এই ইংলিশম্যান। ১৯২৭ সালের ১১ জুন ৬৫ বছর বয়সে ডার্বিশায়ারে দেহ রাখেন তিনি।

২. এ্যার্নি হেস : এট্টাওয়েলের স্বদেশী হেসের জন্ম ৬ নভেম্বর, ১৮৭৬ লন্ডনে। কাউন্টি ক্লাব সারে এবং লিষ্টারশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মাতানো হেসের জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের পরিধি ছিলো সীমিত। কিন্তু, ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ নাম ছিলো তার। উপরের দিকে ব্যাট করার পাশাপাশি অকেশনালি লেগ স্পিন করতেন উনি। ৫৬০ খানা প্রথম শ্রেণির ম্যাচে অংশ নিয়ে  ২৭,৩১৮ রান সংগ্রহের বিপরীতে উইকেটের সংখ্যা ৫১৫ টি। সেঞ্চুরি করেছেন ৪৮টি। ক্রিকেট ক্যারিয়ার অন্তে সারের প্রধান কোচের পদে ছিলেন অনেকদিন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ সালে ৭৭ বছর বয়সে পরলোকে পাড়ি জমান তিনি। কেপটাউন টেস্টে (১৯০৫-০৬) প্রোটিয়াদের বিপক্ষে উভয় ইনিংসে খালি হাতে ফেরেন হেস।

৩. বার্ট ভগ্লার : হেসের এই অপকর্মের পাঁচ বছর বাদে প্রোটিয়া সেনানী ভগ্লার অজিদের বিপক্ষে সিডনিতে ১৯১০-১১ মৌসুমে ইতিহাসের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে দুই ইনিংসেই ডাক মারেন। ২৮ নভেম্বর, ১৮৭৬ সালে কুইন্সটাউনে পৃথিবীর আলো দেখা এই ক্রিকেটার মূলত ছিলেন একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। উপরের দু’জনের মতো এনারো জাতীয় দলে খেলা হয়নি খুব একটা। দেশের হয়ে সাকুল্যে ১৫ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা ভগ্লার খেলেছেন ৮৩ টি প্রথম শ্রেনির ম্যাচ। রান পেয়েছেন ২,৩৭৫। শতক হাঁকিয়েছেন ৮টি। ৯ আগষ্ট, ১৯৪৬ সালে ৬৯ বছর বয়সে যবনিকাপাত ঘটে তার জীবনের ইনিংসে।

৪. টমি উর্ড : আফ্রিকান দূর্গের এই সৈনিক খুব সম্ভবত প্রতিরাতে তার আরাধ্যের নিকট আর্জি জানাতেন আগামীকাল সকালে যেন তার নামের পাশের এই কালিমা অলৌকিকভাবে মুছে যায়। তার এই আকুলতার যথেষ্ট কারন ছিলো বৈকি! আপাত দৃষ্টিতে দেখতে গেলে বাকি তিন জনের চাইতে গর্হিত অন্যায়ের কাজখানা করেছিলেন তিনিই। অন্য তিনজন আউট হয়ে বোলারকে আনন্দের উপলক্ষ উপহার দিয়েছেন ঠিকই,  তবে এই মহাশয় বোলারের উল্লাসের ঘড়া একেবারে পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। দুই ইনিংসেই অজি লেগ স্পিনার  জিমি ম্যাথুজের করা ‘হ্যাট্রিক’-এর তিন নম্বর ভুক্তভোগী ছিলেন উর্ড। উল্লেখ্য তদবধি ক্রিকেট ইতিহাসে জিমি ম্যাথুজই একমাত্র বোলার যিনি কিনা একই ম্যাচে দুটো হ্যাট্রিক নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন। ৩ এপ্রিল, ১৯৮৪ তে জন্ম নেওয়া এই ঘূর্ণিতারকা ঘরোয়া লিগে ৬৭ ম্যাচে ১৭৭ উইকেট তার পকেটে পুড়েছেন। ১৯৪৩ সালের ১৪ অক্টোবর, মাত্র ৫৯ বছর বয়সেই তিনি পরলোকগমন করেন।

৫. ইয়ান কোলহান : ৮ জুলাই, ১৯২৪ সালে ওয়েলিংটনে জন্ম নেওয়া এই উইকেটে-রক্ষক ব্যাটসম্যান ১৯৯৫৪-৫৫ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া ইনিংসে খালি হাতে ফেরেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলা দুই টেস্টে তার রান মাত্র ১! ইডেন পার্কে সেই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে লজ্জার রেকর্ড গড়েছিলো কিউইরা, মাত্র ২৬ রানেই দাঁড়ি পড়েছিলো তাদের ইনিংসের কাব্যে। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সালে আশিতে এই মহাজগতকে আসি বলেন তিনি।

৬. কলিন ওয়েসলি : বাঁহাতি এই আফ্রিকান ট্রেন্ট ব্রিজ (১৯৬০) টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলঙ্কিত হোন।

৭. ভগত চন্দ্রশেখর : ১৯৭৭-৭৭ মৌসুমে অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া -ভারত। টেলেন্টার ভগত সেই ম্যাচেই পেয়ার তালিকায় নিজের নাম লেখান। ভারতের হয়ে ৫৮ ম্যাচে ২৪২ উইকেটধারী চন্দ্রশেখর ১৯৭২ সালে ‘উইজডেন ক্রিকেটার অফ দ্যা ইয়ার’ নির্বাচিত হোন।

৮. গ্রে ট্রপ : বাঁ-হাতি মিডিয়াম পেসার ট্রপ ছিলেন একজন কিউই ক্রিকেটার। জাতীয় দলের হয়ে ১৫ টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে ৫৫ উইকেট লাভ করেন ট্রপ। বাইশ গজকে বিদায় বলে রাজনীতির বিমানে চড়েন তিনি।

৯. ডেভ রিচার্ডসন : মেন্ডেলার দেশের এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোহানসবার্গে পেয়ারের রাজাদের তালিকার অন্তর্ভুক্ত হোন। দেশের হয়ে সাদা পোশাকে ৪২ ম্যাচে প্রতিনিধিত্বকারী এই ক্রিকেটার ক্রিকেট মাঠকে বিদায় জানানোর পরে আইনজীবী পেশা বেছে নেন। তার ছেলে মাইকেল ও হেটেছেন বাবার পথেই, কাউন্টি ক্লাব ডারহামের হয়ে খেলে থাকে সে।

১০. এডাল হ্যাকেল : জিম্বাবুইয়ান এই লেগ ব্রেক বোলার ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে হারারে টেস্টে দক্ষিণ  এশিয়ার দেশ পাকিস্থানের বিপক্ষে জোড়া ইনিংসে জোড়া ডাকের সাথে সাক্ষাৎ হয় তার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের খেলা দ্বিতীয় টেস্টে এগারো উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই রোডেশিয়ান। তিনি তার আক্রমণাত্মক আবেদন ভঙ্গিমার জন্য পরিচিত ছিলেন, অবশ্য এই কারণে তাকে একবার জরিমানা ও গুণতে হয়েছিলো বটে।

লেখক : বিপ্রতীপ দাস।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

বানভাসীদের পাশে দাঁড়াতে ব্যাট-বল নিলামে তুলছেন কোহলিরা

নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়েও টলানো যায়নি ধোনিকে

আকমল ইস্যুতে পিসিবির উপর চটেছেন কানেরিয়া

বায়ো-বাবলেও স্বস্তি মিলছে না ভারতের

আইসিসির কাছে অনুদান চেয়েছে আফগান বোর্ড