Score

শেখ জামালের জয়ের নায়ক তানভীর

দলের অন্যরা যখন ক্রিজে টিকতে পারছেন না, তখন এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন। স্বল্প পুঁজির পরও বল হাতে নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে এনে দিয়েছেন ১০ রানের জয়। তাকে নায়ক বললে ভুল হবে না। শেখ জামাল বনাম প্রাইম দোলেশ্বরের ম্যাচে নায়ক ছিলেন তানভীর হায়দার। এ জয়ে শিরোপার দৌড়েও টিকে থাকল শেখ জামাল। 

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে শেখ জামাল। দুই ওপেনার সৈকত আলি এবং উন্মুক্ত চান্দ শুরুতে থেকেই দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন। দ্রুত গতিতে রান তুললেও তাদের জুটি বড় হয়নি। ২৯ রানের মাথায় ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ২ চার এবং ১ ছক্কায় ৮ বলে ১৭ রান করে আউট হন সৈকত আলি। তাকে সাজঘরে ফেরান সালাহউদ্দিন শাকিল।

সৈকত আলির বিদায়ের পর উন্মুক্ত চান্দ দলের রানের চাকা সচল রাখেন। দলীয় ৬৭ রানের মাথায় বিদায় নেন উন্মুক্ত চান্দ। দশম ওভারে শরীফুল্লাহ বোল্ড করে থামিয়ে দেন চান্দের ইনিংস। ৩৫ বলে ২৭ রান করেন তিনি। পরের ওভারে নাসুম আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হন পিনাক ঘোষ। ২০ বলে ২৪ রান করেন পিনাক। রানের গতি সচল থাকলেও ৭৩ রানে তিন উইকেটের পতন ঘটলে চাপে পড়ে যায় শেখ জামাল।

Also Read - ত্রিদেশীয় সিরিজের আফসোস এখনও পোড়ায় মাশরাফিকে

থিতু হলেও বড় স্কোর গড়তে পারেননি শেখ জামালের ব্যাটসম্যানরা। ২১ বলে ২০ রান করে শরীফুল্লাহর বলে স্টাম্পিং হন নুরুল হাসান সোহান। এরপর হাল ধরেন তানভীর হায়দার এবং জিয়াউর রহমান। ৫৮ রানের জুটি গড়েন দুজন। ৪ চার আর ২ ছক্কায় ৩৯ বলে ৩৯ রান করে বিদায় নেন জিয়াউর রহমান। এক ওভার পরেই ফিরে যান সোহাগ গাজী। ১ রান করে জাকারিয়া মাসুদের বলে বোল্ড হন সোহাগ গাজী।

এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শেখ জামালের লোয়ার অর্ডার। শেষ চার উইকেটে মাত্র এক রান করে তারা। এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন তানভীর হায়দার। কিন্তু তাকে সঙ্গ দেয়ার মতো ছিল না কেউ। শুরুতে রানের পাহাড় গড়ার আভাস দিলেও তা শুন্যে মিলিয়ে যায়। মাত্র ১৮৩ রান করে গুটিয়ে যায় শেখ জামাল।

প্রাইম দোলেশ্বরের জাকারিয়া মাসুদ তিনটি উইকেট শিকার করেন। দুইটি করে উইকেট পান ফরহাদ রেজা এবং শরীফুল্লাহ। একটি করে উইকেট লাভ করেন সালাহউদ্দিন শাকিল, আরাফাত সানি এবং নাসুম আহমেদ।

প্রাইম দোলেশ্বরের লক্ষ্য ছিল ১৮৪ রান। লক্ষ্যটা তেমন কঠিন না হলেও শুরু থেকেই ধুঁকছিল প্রাইম দোলেশ্বর। তৃতীয় ওভারেই ওপেনার লিটন কুমার দাসকে হারায় প্রাইম দোলেশ্বর। ৫ বলে ১ রান করে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে স্টাম্পিং হন লিটন। শুরু থেকেই ধীরলয়ে রান তুলছিল প্রাইম দোলেশ্বর। এরপর অপুর শিকার হন আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন। ৩৩ বলে ১৪ রান করে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ইমতিয়াজ।

তৃতীয় উইকেটে ৫৮ রান যোগ করেন ফজলে মাহমুদ এবং মার্শাল আইয়ুব। এ জুটিতে ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে প্রাইম দোলেশ্বর। ৩৯ বলে ২৯ রান করে ইলিয়াস সানির শিকার হন মার্শাল আইয়ুব। দলীয় ৭০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে। ঐ ওভারেই এক রান করে রান আউট হন ফরহাদ হোসেন। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে প্রাইম দোলেশ্বর।

এরপর ফজলে মাহমুদ এবং শরীফুল্লাহ মিলে যোগ করেন ২৬ রান। ৬৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে তানভীরের বলে এলবিডব্লিউ হন ফজলে। তার ইনিংসে ছিল ২ চার এবং এক ছক্কা। নিজের পরের ওভারে শরীফুল্লাহর উইকেটও শিকার করেন তানভীর। ১১ রান করে চান্দের হাতে ক্যাচ দেন শরীফুল্লাহ। ৯৯ রানে ৬ উইকেট হারালে প্রাইম দোলেশ্বরের হারের শঙ্কা জেগে উঠে।

নিজের পরের ওভারে প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজাকে ফিরিয়ে দেন তানভীর হায়দার। ১ রান করে বিদায় নেন ফরহাদ। তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে প্রাইম দোলেশ্বরকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেন তানভীর। পরের ওভারেই আবু জায়েদ রাহির বলে এলবিডব্লিউ হন জাকারিয়া মাসুদ (৩)। এরপরের ওভারে তানভীরের বলে স্টাম্পিং হন নাসুম। ফিরে যান রানের খাতা খোলার আগেই। চার ওভারে চার উইকেট পান তানভীর।

৯৭ রানে চার উইকেট থেকে ১০৬ রান করতে গিয়ে নয় উইকেট হারিয়ে ফেলে প্রাইম দোলেশ্বর। পরাজয় তখন সময়ের ব্যাপার। শেষ উইকেটে বুক চিতিয়ে লড়াই করে যান আরাফাত সানি এবং সালাহউদ্দিন শাকিল। জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলে এ জুটি। অবশেষে তাদের ৬৭ রানের জুটি ভাঙেন রবিউল হক। ৩১ রান করে আউট হন শাকিল। ৩৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন আরাফাত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৮৩/১০, ৩৮ ওভার
তানবীর ৪৩*, জিয়াউর ৩৯, পিনাক ২৪
মাসুদ ৩/১০, রেজা ২/২৪, শরীফুল্লাহ ২/৫২

প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ১৭৩/১০, ৪৮.২ ওভার
ফজলে ৩৫, আরাফাত ৩৫*, শাকিল ৩১
তানভীর ৪/৩১, অপু ২/৩৭, ইলিয়াস ১/১৮

আরও পড়ুনঃ ত্রিদেশীয় সিরিজের আফসোস এখনও পোড়ায় মাশরাফিকে

Related Articles

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ চান লেগ স্পিনাররা

ছুটি কমেছে টাইগারদের

পারিশ্রমিক না পেয়ে বিসিবির শরণাপন্ন কলাবাগানের ক্রিকেটাররা

হাসপাতালে নাসির, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার শঙ্কা

নাসির, শান্ত তাণ্ডবের পর মাশরাফি ঝড়