Scores

প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই নিদাহাস ট্রফিতে খেলেছেন সাকিব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ইনজুরি ইস্যু নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। সেই জানুয়ারি মাসেই ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ চলাকালীন আঙ্গুলে চোট পেয়েছিলেন তিনি। এবং সেই চোট এখন এমন রূপ নিয়েছে যে তার আঙ্গুল আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না। কবে নাগাদ তিনি খেলায় ফিরতে পারবেন তা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে সংশয়।

তিন মাসের জন্য মাঠের বাইরে সাকিব
নিদাহাস ট্রফিতে সাকিবকে খেলানোর নির্দেশ এসেছি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে।

অনেকেই সাকিবের এ অবস্থার জন্য দায়ী করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে। জনপ্রিয় মতামত এই যে, পাপনের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের শিকার হয়েই পুরোপুরি ফিট না হয়েও বারবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে হয়েছে সাকিবকে, যার ফলস্বরূপ তার বর্তমান পরিণতি।

কিন্তু এবার পাপন সাকিবের এমন দশার জন্য দায়ী করলেন সাকিবেরই সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপরিপক্বতাকে। পাশাপাশি তিনি আরও জানালেন, ইনজুরি নিয়েও সাকিব যে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে বাধ্য হয়েছিলেন, সে-ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জোর করেননি সাকিবকে। বরং এ ব্যাপারে নির্দেশ এসেছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ থেকে!

ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপন সাকিবের ইনজুরি প্রসঙ্গে বলেন, “চোট পাওয়ার পর সাকিব আমাকে বলেছিল সে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক যেতে চায়। এবং সে সত্যি সত্যিই গিয়েছিল ব্যাংকক। মার্চ মাসে নিদাহাস ট্রফির আগে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তার হাতের অবস্থা কী। সে বলল তার হাতে আর ব্যথা নেই। তো আমি তারপর তাকে বললাম, তাহলে তোমার খেলা উচিৎ। কিন্তু জবাবে সে বলল, সে ভয় পাচ্ছে।

Also Read - তাসকিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে লিড পেল ঢাকা


“আমি এরপর তাকে আবারও ব্যাংকক গিয়ে ডাক্তার দেখাতে বললাম, এবং সে গেলও। কিন্তু এরপর আর তার তরফ থেকে কোনো ফিডব্যাক পেলাম না। তাই আমি ধরেই নিয়েছিলাম সে দলের সাথে যাচ্ছে না। হয়ত ডাক্তারই তাকে বলেছে সে খেলতে পারবে না।

“এরপর নিদাহাস ট্রফি চলাকালীন আমি প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছ থেকে একটি ফোন কল পাই। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কোথায়, আর খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলতে চান। কিন্তু আমি সে-সময়ে শ্রীলংকায় ছিলাম না। তিনি আমাকে বললেন আমি যেন তৎক্ষণাৎ প্লেনে উঠি। আমি যখন বললাম আমার আসলে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই, তিনি আমাকে জোর করতে লাগলেন।

“যখন আপা নিজে থেকে আপনাকে কিছু করতে বলবেন, আপনার তো না করার উপায় নেই। তিনি আমাকে সাকিবের জন্যও একটি টিকিট কিনতে বলেন। যখন আমরা প্লেন থেকে নামলাম, সে (সাকিব) আমাকে বলল সে আরও চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চায়। তাহলে হয়তো সে খেলতে পারবে। কিন্তু এরপর আবার আমি তার কাছ থেকে আর কোনো ফিডব্যাক পেলাম না।

“এরপর শ্রীলংকা ম্যাচের আগে যখন মাত্র দুইদিন সময় বাকি, আমি সকালবেলা খবর পেলাম সে নাকি ইন্ডিয়ান হাই কমিশনে পাসপোর্ট জমা দিয়েছে আইপিএলে খেলতে যাবে বলে। আমি তাকে বললাম পাসপোর্ট ফেরত নিতে। যেহেতু সে নিদাহাস ট্রফিতে খেলছে না, তাহলে সে আইপিএলেও খেলতে পারবে না। কিন্তু সে বলল সে তখন খেলতে পারবে। আমি তাকে বললাম তাহলে ডাক্তাররা যদি এমনটি বলে থাকে, তাহলে তুমি নিদাহাস ট্রফিতেই খেলতে চলে আসো।

“জবাবে সে বলল, সে আসবে, যদি আমরা ফাইনালে পৌঁছাই। তখন আমি বললাম, আমরা যদি পরের ম্যাচে হেরে যাই তাহলে তো ফাইনালে খেলার কোনো সুযোগই থাকবে না। তাহলে আর তাকে আসতেই হবে না। এই কথা শুনে পরদিন সে চলে আসলো।

“এবার ওই ঘটনার পর (এশিয়া কাপে সাকিবের হাতে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিলে যখন তাকে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ফিরে আসতে হলো), আমি বিসিবির মিডিয়া টিমকে ধরে জিজ্ঞেস করলাম অস্ত্রোপচারের কথা কোথা থেকে এলো। দেবাশিষ চৌধুরী (বিসিবির প্রধান চিকিৎসক) আমাকে বললেন তিনি কিছুই জানে না। কারণ কোনো ডাক্তারই এ কথা বলেননি, বরং বলেছেন সার্জারি করিয়ে কোনো লাভ নেই, তাকে (সাকিবকে) এভাবেই খেলা চালিয়ে যেতে হবে। এতে তার ক্রিকেট খেলায় কোনো প্রভাব পড়বে না। যদি এমন পরিস্থিতি আসতো যে কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, তাহলে শেষ আশ্রয় হিসেবে তাকে অস্ত্রোপচার করাতে হতো।

“বিশ্বকাপ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট। এবং এরপরই হলো এশিয়া কাপ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা অন্যান্য টুর্নামেন্টগুলোর অবস্থান এসবের পরে। আর তারপর হলো বিপিএল, আইপিএল, সিপিএলের মত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলো। বিপিএল এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটি একদমই আমাদের নিজেদের। কিন্তু যদি বিশ্বকাপের সাথে তুলনা করি, বিপিএল বা আইপিএল একদমই মূল্যহীন। এমনকি নিউজিল্যান্ড সফরও।

“আমার চাওয়া হলো, সে যেন পুরোপুরি ফিট হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারে। তারপর সে ফিরে এলে আমরা বসে এ ব্যাপারে কথা বলতে পারি। আমি যখন এ কথা তাকে বললাম, পরদিনই সে আমাকে বলল সে ঠিক আছে, আর সে আসলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে চায়। সে আরও জানায় যে ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়বে না। ছয় মাস মানে হলো বিশ্বকাপের ঠিক আগে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে অস্ত্রোপচার করালে তো হবে না।

“এখন সে যদি বিশ্বকাপের আগে খেলতে চায় আর ডাক্তার, ফিজিওরাও তাতে রাজি থাকে, তাহলে আমি তো তাকে আটকাতে পারবো না। কিন্তু যদি ইনফেকশন বেড়ে যায় আর সার্জারির প্রয়োজন হয়, তাহলে সে জানুয়ারি মাসেই সার্জারিটা সেরে ফেলতে পারে। তারপর বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের মাধ্যমে আবার খেলা শুরু করতে পারে। এসবে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি কেবল তখনই প্রতিক্রিয়া দেখাব যদি সে বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে সার্জারি করাতে চায়।

“তার বয়স এখনও অনেক কম। তার সিদ্ধান্ত গ্রহণগুলো… যেমন একটা উদাহরণ দিই, সে আমাকে বলেছিল ডাক্তারের সাথে কথা বলে খেলবে কি না সে-ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সে ফিজিওর কথাতেই খেলতে রাজি হয়ে যায়। আবার সে আমাকে বলেছিল সে দুবাই হয়ে আমেরিকা যাবে, অথচ সে ঢাকায় ফিরে আসে। কিন্তু আমার মনে একটি জিনিস পরিষ্কার আছে, আমরা কখনোই তাকে খেলার ব্যাপারে জোরাজুরি করিনি।”

সম্প্রতি এমন অভিযোগও বাতাসে ভেসে বেড়িয়েছে যে এশিয়া কাপ চলাকালীন ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহনের গাফিলতির কারণেই সাকিবের সাকিবের অবস্থার অবনতি ঘটেছিল। যদি এ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে কি থিহানের বিরুদ্ধে বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে?

এ প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, “আমি সকল ডাক্তারি রিপোর্ট দেখতে চেয়েছি। বুধবার আমি সেগুলো হাতে পাবো। যদি আমি সেসব রিপোর্টের একটিতেও দেখি যে কোনো একজন ডাক্তারও অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ করেছেন, তাহলে আমি তাদের (মেডিকাল স্টাফদের) ছাড়ব না। আমি ফিজিওকেও বলেছি যত শীঘ্রই সম্ভব তার রিপোর্ট জমা দিতে।”

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

রোজা রেখেই এশিয়া কাপ খেলবেন মহসিনরা

এশিয়া কাপকে সামনে রেখে হুইল চেয়ার দলের অনুশীলন

এশিয়ান গেমসে ফিরল ক্রিকেট

আগামী দুই বছরের এশিয়ার সকল প্রতিযোগিতার সূচি প্রকাশ

বিতর্কিত সেই আউট নিয়ে লিটনের ভাষ্য